এক
২০২৪ সালে সস্ত্রীক হজ পালনের সৌভাগ্য হয়েছিল। তার আগেও হজ এবং ওমরায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। বায়তুল্লাহ ও মহানবী (স.)-এর রওজা জিয়ারতের আকাঙ্ক্ষা শেষ হওয়ার নয়। বিশেষত হজ মৌসুম এলেই চোখের সামনে সবকিছু ভেসে ওঠে। মিনা, আরাফাহ, মুজদালিফাহ, সাফা-মারওয়া, মদিনার শান্ত-শীতল পরিবেশে মসজিদে নববী, জান্নাতুল বাকি—সবকিছুই প্রচণ্ডভাবে টানে। তখন স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। মনটা বারবার ছুটে যায় রাসুলে পাক (স.)-এর রওজা মোবারকের পাশে রিয়াজুল জান্নায়। কিন্তু সাধ আর সাধ্যের মধ্যে মিল করা তো অত সহজ নয়।
পবিত্র ভূমি মক্কা মুকাররমা এখন লাখ লাখ হাজির পদচারণে মুখর। হজের আনুষ্ঠানিকতা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বিশ্বের আনাচে-কানাচ থেকে সমবেত আল্লাহর ঘরের মেহমানরা এখন মিনার তাঁবুতে সমবেত। মঙ্গলবার মিনা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন হাজি সাহেবরা। দেখা যাবে শুভ্র-পবিত্র এক অপরূপ দৃশ্য। পরে এ ময়দান থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে মুজদালিফায় অবস্থান করবেন। শয়তানের উদ্দেশে নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকে। মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরবেন। মিনায় এসে বড় শয়তানের উদ্দেশে সাতটি পাথর মারবেন, দমে শোকর বা কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে গোসল করবেন এবং এহরাম বদল করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মসজিদুল হারামে গিয়ে কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। এ ছাড়া সাফা-মারওয়া সাঈ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। তাওয়াফ ও সাঈ শেষে তারা আবার মিনায় যাবেন। মিনায় যতদিন থাকবেন, ততদিন তিনটি (বড়, মধ্যম, ছোট) শয়তানের উদ্দেশে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন। এভাবেই হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
বুধবার সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা। বাংলাদেশে হবে বৃহস্পতিবার। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। মহান আল্লাহতাআলার সন্তুষ্টি বিধানের লক্ষ্যে পশু কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য হলো সব লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ, স্বার্থপরতা তথা ভেতরের পশুত্ব ত্যাগের মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধি অর্জনের প্রয়াস। আরবি জিলহজ মাসের ১০ তারিখ পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হয়। তবে তার পরের দুদিন, অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে।
নিজের পালন করা সবচেয়ে ভালো পশুটি কোরবানি করাই উত্তম। তবে বাস্তবতার কারণে এখন সবার পক্ষে পশু পালন করা সম্ভব হয় না। সে কারণে পশু কিনতে হয়। কোরবানিদাতারা সাধারণত দু-একদিন আগেই পশু কিনে বাড়িতে এনে লালন-পালন, যত্ন-আত্তি করে থাকেন। বাড়ির ছোটরা আনন্দে মেতে ওঠে পশু পরিচর্যায়। শহরে গবাদিপশুর বিপুল সমাবেশ, তাদের হাঁকডাক, খড়বিচালি, কাঁঠালপাতা, কাঁচা ঘাস নিয়ে মানুষজনের ছোটাছুটি—এসবের মধ্য দিয়ে কোরবানির সপ্তাহখানেক আগে থেকেই নাগরিক পরিবেশে বেশ অন্যরকম আবহ সৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু পাঁচদিন আগে শনিবার পর্যন্ত ঈদের তেমন একটা আমেজ চোখে পড়েনি।
তবে ঈদ উদ্যাপন করতে চিরাচরিত পন্থায় বাস, ট্রেন, লঞ্চে হাজার হাজার মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন। ঈদের আগে সর্বশেষ সরকারি অফিস খোলা থাকছে আজ রোববার। রাজধানী থেকে সবরকম যানবাহনে উপচেপড়া ভিড় আর ঘরমুখো মানুষের স্রোতের মেতো ছুটে চলা চোখে পড়ে গতকাল থেকেই।
ঈদ মানে আনন্দ এবং ঈদুল আজহার প্রধান বাণী আত্মত্যাগের, যা হবে মানুষের কল্যাণে। ছোটবেলায় বিভিন্ন পরীক্ষায় ‘কোবানির ঈদ’ ও ‘ত্যাগের মহিমা’ নিয়ে রচনা লিখতে হয়েছে বহুবার। ত্যাগ যে শুধু ব্যক্তির নয়, সমাজের, এবং সমাজ থেকেও বড় যে কাঠামো, অর্থাৎ রাষ্ট্রেরও, সে কথাটাও রচনায় ব্যাখ্যা করতাম।
দুই
হজ বা কোরবানির নানা দিক নিয়ে লেখার চিন্তা ছিল এবারের নিবন্ধে। কিন্তু চারদিকে এত ঘটনার ঘনঘটা যে, সেগুলোকে উপেক্ষা করে সমসাময়িক বিষয়ে লেখা কঠিনই। একের পর এক নৃশংসতা, বর্বরতা ও পৈশাচিকতা মনোজগতকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। দিকে দিকে অস্থিরতা ও পেশিশক্তির মহড়া ভাবিয়ে তুলছে। কয়েকটি ঘটনা ঈদপূর্ব দিনগুলোতে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পরিস্থিতিকে এক ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। রাজধানীর পল্লবীর শিশু রামিসার বাবা-মায়ের ঈদ কেমন হবে, তা নিয়ে ভাবনার উদ্রেক করছে। গত মঙ্গলবার সকালে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটের হাতে খুনের শিকার হয় দ্বিতীয় শ্রেণিপড়ুয়া শিশু রামিসা। ধর্ষণ ও হত্যার পর অপরাধ গোপন এবং লাশ লুকিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত সোহেল শিশুটির তুলতুলে দেহটি খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা করেছিলেন।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। হতভাগিনীর বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেন সোহেল। বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান। দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি এবং রামিসার বড় বোনের দায়িত্বও নিয়েছেন।
পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশু হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে মানুষ। আট বছর বয়সি ওই কন্যাশিশুর হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শুক্রবার মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এবং ঢাকার বাইরেও বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নৃশংস এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় চলছে। নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন দল ও সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। সবাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আশ্বস্ত করেছেন অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। অভিযোগপত্র গঠনের মধ্য দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আশা পরিবার ও বিক্ষুব্ধ মানুষের। মনে রাখতে হবে, যৌক্তিক সময়ের মধ্যে যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করাটাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ।
রামিসার ঘটনা নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোড়ন চলছে, তখনই চট্টগ্রাম নগরে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক এক ব্যক্তিকে থানায় নিতে গিয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয় পুলিশকে। শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে বিকাল ৪টার দিকে আটক করে পুলিশ। তাকে থানায় নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়।
এখানে লক্ষ করার দিক হলো, মানুষ বিচারব্যবস্থার ওপর কতটা আস্থা হারালে এভাবে অভিযুক্তকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করতে পারে। এ অন্যায্য দাবিতে ঘটে লঙ্কাকাণ্ড। এক পর্যায়ে শত শত মানুষ পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পুলিশ সদস্যরা এক পর্যায়ে পিছু হটতে বাধ্য হন। কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড, ফাঁকা গুলি ছুড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। পরে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে কৌশলে ওই ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় এ নিয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সামাজিক অপরাধ ও নৃশংসতার আরো কয়েকটি ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেখা যাচ্ছে, এ সরকারের সময় কিংবা আগের সরকারগুলোর সময়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে যেসব ঘটনা ভাইরাল হয় এবং জনসমাজে আলোড়ন তোলে—এমন মামলার ক্ষেত্রেই সরকার, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা সাড়া দেয় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতে তৎপর হয়। অনেকের স্মরণ আছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়ার কথা। আলোচিত সেই ঘটনার ক্ষেত্রে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত বিচারের অঙ্গীকার করেছিল এবং নিম্ন আদালতে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তিও হয়েছে। যদিও সেই অপরাধীকে নিম্ন আদালতে দেওয়া সাজার রায় এখনো কার্যকর করা যায়নি। তবে বেছে বেছে আলোচিত মামলার বিচার অনেক ক্ষেত্রেই সামষ্টিক বিচারহীনতাকে আড়াল করার প্রবণতাও তৈরি করে বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
শুধু যে ধর্ষণ-খুনের মতো সামাজিক অপরাধই ঘটে চলেছে তা নয়, রাজনৈতিক সহিংসতাও ঘটছে প্রায়ই। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং ব্যবসাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা পেতে প্রায়ই কলহে জড়াচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সেই বিরোধ খুনোখুনি পর্যন্ত গড়াচ্ছে। সর্বশেষ গত বুধবার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জমির মাটি কাটা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ওসমান গনি নামে বিএনপির এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিবসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
উপর্যুপরি ঘটে যাওয়া বর্তমান অপরাধ প্রমাণ করে সমাজের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ কতটা নিচে নেমে গেছে। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতি, শ্রদ্ধা এবং নৈতিক দায়িত্ববোধ লোপ পেতে থাকে, যা একটি সুস্থ সমাজের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।
শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো চরম নিষ্ঠুর অপরাধ সমাজ ও ব্যক্তিমানসে অত্যন্ত গভীর, দীর্ঘস্থায়ী এবং ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে। এটি কেবল কোনো ব্যক্তি বা পরিবারকেই মনোজাগতিকভাবে বিধ্বস্ত করে না, বরং পুরো সামাজিক কাঠামো ও মূল্যবোধকে নাড়িয়ে দেয়। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের ফলে সমাজে, বিশেষ করে অভিভাবক ও শিশুদের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতি তৈরি হয়। মা-বাবারা তাদের সন্তানদের ঘরের বাইরে, স্কুলে বা খেলার মাঠে পাঠাতে চরম আতঙ্ক বোধ করেন, যা স্বাভাবিক সামাজিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। চারপাশের এমন ভীতিকর পরিবেশ শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাদের মধ্যে একাকিত্ব, অবিশ্বাস ও ট্রমা তৈরি হতে পারে, যা তাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, খেলাধুলা ও সামাজিকীকরণকে বাধাগ্রস্ত করে।
সামাজিক ও পারিবারিক পর্যায়ে যেসব নৃশংস ঘটনা ঘটছে, তা গভীর ক্ষত তৈরি করে। এমন অপরাধ বারবার ঘটতে থাকলে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতে দীর্ঘ সময় লাগলে বা তারা পার পেয়ে গেলে তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত আইন, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি গভীর অনাস্থা তৈরি হয়। ফলশ্রুতিতে বিচারহীনতা বা ধীরগতির বিচার প্রক্রিয়ার কারণে ক্ষুব্ধ জনতা অনেক সময় আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চায়। গণপিটুনি বা তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ নেওয়ার মতো সহিংস প্রবণতা সমাজে বৃদ্ধি পায়, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে। চট্টগ্রামের ঘটনায় তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ে ভুক্তভোগী পরিবারটির ওপর। তারা সমাজে তীব্র একাকিত্ব, মানসিক বিপর্যয় এবং কখনো কখনো সামাজিক কলঙ্কের শিকার হয়। অপরাধের জন্য একে অপরকে দোষারোপ করার ফলে অনেক সময় পারিবারিক সম্পর্ক ভেঙে যায়।
সর্বোপরি শিশু ধর্ষণ ও হত্যা একটি সমাজকে ভেতর থেকে পঙ্গু ও আতঙ্কগ্রস্ত করে তোলে। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য কঠোর ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসার অত্যন্ত জরুরি।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও যুগ্ম সম্পাদক, আমার দেশ