হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

উচ্চকক্ষের পুনঃপাঠ

আবদুল লতিফ মাসুম

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা (বাই-ক্যামেরাল লেজিসলেচার) একটি বহুল আলোচিত ও বহুল পরীক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। ব্যারন দ্য মন্তেস্কু তার ‘দ্য স্পিরিট অব দ্য লজ’ গ্রন্থে ক্ষমতার বিভাজন ও ভারসাম্যের (সেপারেশন অব পাওয়ার্স অ্যান্ড চেকস অ্যান্ড ব্যালান্সেস) যে তত্ত্ব প্রণয়ন করেছিলেন, তার কেন্দ্রীয় স্তম্ভ ছিল দ্বিকক্ষ সংসদ—একটি কক্ষ জনপ্রতিনিধিত্বের প্রত্যক্ষ প্রকাশ, অপরটি সুচিন্তিত পর্যালোচনা ও প্রজ্ঞার আধার। জন স্টুয়ার্ট মিল তার ‘কনসিডারেশনস অন রিপ্রেজেন্টেটিভ গভর্নমেন্ট’ গ্রন্থে দ্বিতীয় কক্ষের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছিলেন, একক কক্ষের স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রোধে একটি পুনর্বিবেচনামূলক কক্ষ (রিভিশনারি চেম্বার) অপরিহার্য—এটি আইন প্রণয়নে তাড়াহুড়ো রোধ করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। জেমস ম্যাডিসন ‘ফেডারেলিস্ট পেপারস’ রচনায় আমেরিকান সিনেটের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বলেছিলেন, দ্বিতীয় কক্ষ ছাড়া গণতন্ত্র হয়ে পড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের একনায়কত্ব (টাইরানি অব দ্য মেজরিটি)। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই তাত্ত্বিক প্রস্তাবনা আজ এক জীবন্ত বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে—জুলাই সনদের গণভোট থেকে সংসদের বর্তমান বিতর্ক পর্যন্ত উচ্চকক্ষের প্রশ্নটি বাংলাদেশের সাংবিধানিক ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের সংবিধান রচনাকালে এককক্ষবিশিষ্ট সংসদ গৃহীত হয়েছিল—তৎকালীন পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তের নিজস্ব যুক্তি ছিল। সদ্য স্বাধীন একটি রাষ্ট্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আইন প্রণয়নে জটিলতা এড়ানো এবং জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনে একক কক্ষকে কার্যকর মনে করা হয়েছিল। তখনকার গণপরিষদে দ্বিকক্ষ নিয়ে আলোচনা উঠলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ মত ছিল যে, ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে দ্বিকক্ষের প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে দ্বিকক্ষ ব্যবস্থা চালু রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্সসহ উন্নত ও উন্নয়নশীল অধিকাংশ গণতন্ত্রই এই পথ বেছে নিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও আফগানিস্তানে দ্বিকক্ষ সংসদ রয়েছে—এই অঞ্চলে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ছিল ব্যতিক্রম। কিন্তু পরবর্তী পাঁচ দশকের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, এককক্ষ সংসদ বাংলাদেশে বারবার স্বৈরাচারী ব্যবস্থার জন্ম দিয়েছে। ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠা, ১৯৯১-পরবর্তী সময়ে সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনকালে সংসদকে নিছক রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত করা—এই সবকিছুর মূলে ছিল নির্বাহী বিভাগের ওপর আইনসভার কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতি। স্যামুয়েল হান্টিংটন তার ‘পলিটিক্যাল অর্ডার ইন চেঞ্জিং সোসাইটিজ’ গ্রন্থে দেখিয়েছিলেন, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতাই উন্নয়নশীল দেশগুলোয় কর্তৃত্ববাদের উত্থানের প্রধান কারণ—বাংলাদেশ সেই তত্ত্বের নিখুঁত প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দল যে অলংকার, সেটি নিয়ে আমি ইতঃপূর্বে আলোচনা করেছি; কিন্তু বিরোধী দলের পাশাপাশি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্যের কাঠামো ছাড়া সংসদীয় ব্যবস্থা কখনো পূর্ণতা পায় না।

জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়ায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব এসেছে এবং এটি কেবল একাডেমিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশন ১০৫ আসনের উচ্চকক্ষ প্রস্তাব করেছিল। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল উচ্চকক্ষ গঠনে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে—তবে কাঠামো, আসনসংখ্যা, নির্বাচন পদ্ধতি ও ক্ষমতার পরিধি নিয়ে তীব্র মতভেদ বিরাজমান। এই মতভেদ কেবল কৌশলগত নয়, এটি রাজনৈতিক দলগুলোর নিজ নিজ নির্বাচনী হিসাব-নিকাশেরও প্রতিফলন। বিএনপি ১০০ আসনের ‘সিনেট’ চায় বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতি বজায় রেখে। জামায়াতে ইসলামী ১৫১ সদস্যের উচ্চকক্ষ এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি চায়, তাদের যুক্তি—এতে ভোটে দুর্নীতি ও ভোটবিহীন নির্বাচন বন্ধ হবে। এনসিপি এর নাম রাখতে চায় ‘জাতীয় পরিষদ’ এবং বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তি দাবি করে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক গণভোটে ৬৮ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোটার—প্রায় সাড়ে চার কোটি—সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, যেখানে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠনের ম্যানডেট অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি কেবল একটি সুপারিশ নয়, এটি জনগণের প্রত্যক্ষ সার্বভৌম ইচ্ছা (সোভেরেইন উইল অব দ্য পিপল)।

কিন্তু গণভোটের আট মাস পরেও উচ্চকক্ষ গঠনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি এবং এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উত্থাপিত হচ্ছে। এ বছর এপ্রিলে সরকার গণভোটের অধ্যাদেশ (রেফারেন্ডাম অর্ডিন্যান্স) মেয়াদোত্তীর্ণ হতে দিয়েছে বাস্তবায়ন না করেই। ২৭ সেপ্টেম্বর সরকার ঘোষণা করেছে, তারা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে নিজস্ব সংবিধান সংশোধনী বিল আনবে, যা গণভোটের ম্যানডেটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এমনকি একটি দ্বিতীয় গণভোটের আভাসও দেওয়া হচ্ছে ইতোমধ্যে পাস হওয়া সংস্কার পুনর্বিবেচনা করতে। এটি গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জন লকের সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব (সোশ্যাল কনট্র্যাক্ট থিওরি) অনুসারে, রাষ্ট্রের চূড়ান্ত সার্বভৌমত্ব জনগণের কাছে—সংসদ জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে, জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করার অধিকার তার নেই। জাঁ-জাক রুশোর ‘সাধারণ ইচ্ছা’ (volonté générale) ধারণা অনুসারে, গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনমত হলো সেই সাধারণ ইচ্ছা, যা সংসদের বিশেষ ইচ্ছার (volonté particulière) ঊর্ধ্বে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা বিএনপির সংসদীয় ভোটের চেয়ে প্রায় এক কোটি বেশি; অর্থাৎ জনগণ দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে উঠে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। এই রায়কে উপেক্ষা করা কেবল সাংবিধানিক প্রশ্ন নয়, এটি নৈতিক বৈধতার (মোরাল লেজিটিমেসি) সংকট তৈরি করে। ইতিহাস সাক্ষী, যে সরকার জনমতকে উপেক্ষা করেছে, সে সরকার দীর্ঘ মেয়াদে টিকতে পারেনি—ফরাসি বিপ্লব থেকে আরব বসন্ত পর্যন্ত এই সত্য বারবার প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ চব্বিশের জুলাইয়ে একবার প্রমাণ করেছে, তারা তাদের অধিকার আদায়ে সক্ষম—সেই বার্তা ভুলে যাওয়া কোনো সরকারের পক্ষে সমীচীন হবে না।

উচ্চকক্ষ গঠনের বাস্তবিক চ্যালেঞ্জও উপেক্ষা করার নয়। লুই আই কানের নকশায় নির্মিত জাতীয় সংসদ ভবনে দ্বিতীয় কক্ষের জন্য পৃথক আসন ব্যবস্থার প্রয়োজন। সংসদ সচিবালয় পঞ্চম তলার দুটি পাবলিক গ্যালারি একত্র করে উচ্চকক্ষের সদস্যদের বসার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করছে। স্পিকারের গ্যালারি ব্যবহারের প্রাথমিক প্রস্তাব বাতিল হয়েছে। এই স্থাপত্যগত সীমাবদ্ধতা একটি প্রতীকী প্রশ্নও উত্থাপন করে—কান যে ভবনটি নকশা করেছিলেন তার দর্শন ছিল একক গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরের প্রতিনিধিত্ব; আজ সেই ভবনে দ্বিকক্ষ সংসদের স্থান করে দেওয়ার চেষ্টা হলো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিপক্বতার একটি স্থাপত্যিক রূপক (আর্কিটেকচারাল মেটাফর অব ডেমোক্রেটিক ম্যাচুরেশন)। আর্থিক দিক থেকেও বিবেচনা প্রয়োজন—অতিরিক্ত সদস্যদের বেতন-ভাতা, সচিবালয় সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক ব্যয় বাংলাদেশের সীমিত রাজস্ব সম্পদে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্রের মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এই বিনিয়োগ অপরিহার্য; কারণ কর্তৃত্ববাদের অর্থনৈতিক মূল্য যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি।

তবে কেবল কাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; উচ্চকক্ষের কার্যকারিতা নির্ভর করে তার গঠন পদ্ধতি, ক্ষমতার পরিধি এবং নিম্নকক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর। ব্রিটিশ হাউস অব লর্ডস একটি পুনর্বিবেচনামূলক কক্ষ (রিভিশনারি চেম্বার) হিসেবে কাজ করে—আইন প্রণয়নে বিলম্ব ঘটাতে পারে, কিন্তু চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করতে পারে না। আমেরিকান সিনেট আবার নিম্নকক্ষের সমক্ষমতাসম্পন্ন (কো-ইকুয়াল)—সংবিধান সংশোধন, চুক্তি অনুমোদন ও উচ্চপদস্থ নিয়োগে সিনেটের সম্মতি অপরিহার্য। ভারতীয় রাজ্যসভা একটি মধ্যবর্তী মডেল—অর্থবিল ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে তার ক্ষমতা রয়েছে এবং সংবিধান সংশোধনে উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। বাংলাদেশের জন্য কোন মডেল উপযুক্ত, সেটি গভীর বিচার-বিশ্লেষণের দাবি রাখে। গণভোটের প্রস্তাবে সাংবিধানিক সংশোধনীতে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে—এটি একটি শক্তিশালী ভারসাম্যমূলক ব্যবস্থা (পাওয়ারফুল ব্যালান্সিং মেকানিজম), যা নির্বাহী বিভাগের সংবিধান পরিবর্তনের ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সংবিধান ১৭ বার সংশোধিত হয়েছে—অনেক ক্ষেত্রেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে, জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী পরিবর্তন এনে। উচ্চকক্ষ এই প্রবণতার বিরুদ্ধে একটি প্রাতিষ্ঠানিক বাধা (ইনস্টিটিউশনাল সেফগার্ড) হিসেবে কাজ করতে পারে।

সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির গুরুত্বও এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্তমান সরল সংখ্যাগরিষ্ঠ (ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট) নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটের শতাংশ ও আসনসংখ্যার মধ্যে বিপুল অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়ে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়েছে—অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়া ছোট দলগুলো প্রায় প্রতিনিধিত্বহীন। উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি এই গণতান্ত্রিক ঘাটতি (ডেমোক্রেটিক ডেফিসিট) পূরণ করতে পারে—প্রতিটি ভোটের সমান মূল্য নিশ্চিত করে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে। আরেন্ড লাইফার্ট তার ‘প্যাটার্নস অব ডেমোক্রেসি’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ও দ্বিকক্ষ ব্যবস্থার সমন্বয় ‘ঐকমত্য গণতন্ত্র’ (কনসেনসাস ডেমোক্রেসি) প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে কার্যকর এবং বাংলাদেশের মতো বিভক্ত সমাজে (ডিভাইডেড সোসাইটি) এটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

আগামী ৩০ অক্টোবর ত্রয়োদশ সংসদের ২০তম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে—এটি বাংলাদেশের সাংবিধানিক ভবিষ্যতের জন্য একটি নির্ণায়ক মুহূর্ত। এই অধিবেশনে উচ্চকক্ষ প্রশ্নে সরকারের অবস্থান সুস্পষ্ট হওয়া উচিত। গণভোটের ম্যানডেট উপেক্ষা করে নিজস্ব সংশোধনী আনার চেষ্টা গণতান্ত্রিক বৈধতার সংকট তৈরি করবে। একটি দ্বিতীয় গণভোটের প্রস্তাব, যা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত হওয়া বিষয় পুনর্বিবেচনা করবে, তা হবে জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতি অবজ্ঞা। সরকারকে মনে রাখতে হবে, ক্ষমতা জনগণের কাছ থেকে অর্জিত এবং সেই জনগণ গণভোটে তাদের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে। ইবনে খালদুনের ‘আল-মুকাদ্দিমা’ গ্রন্থে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও পতন বিশ্লেষণে তিনি দেখিয়েছিলেন, যে শাসক জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছা (আসাবিয়া) উপেক্ষা করে, তার শাসনের ভিত্তি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল সেই আসাবিয়ার শক্তিশালী প্রকাশ—গণভোটে সেই আসাবিয়া সাংবিধানিক রূপ পেয়েছে। এই সাংবিধানিক আসাবিয়াকে সম্মান করাই হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং উচ্চকক্ষ গঠন সেই পথের প্রথম ও অপরিহার্য ইটটি স্থাপন করবে। যে জাতি রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচার প্রত্যাখ্যান করেছে, গণভোটে গণতান্ত্রিক সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে—সেই জাতির প্রতিশ্রুত উচ্চকক্ষ বাস্তবায়নে আর বিলম্ব করার কোনো সুযোগ নেই।

লেখক : অধ্যাপক (অব.), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

কুষ্টিয়ায় আওয়ামী পান্ডাদের অনুসরণ করছে ক্ষমতাসীনরা

আমাদের কিশোর সমাজ ও শিক্ষা কার্যক্রম

প্রতিবেশীর দায়িত্ব ও সীমান্ত হত্যা

অপারেশন ক্লিন হার্টের ফাঁদে পা না দেওয়াই উত্তম

ভেজাল খাদ্য, দূষিত পানি ও বিষাক্ত বায়ু

শিক্ষক নিয়োগ ও র‌্যাংকিংয়ে অবনতি

ভারত-ইসরাইলে পেলেট গানের নৃশংসতা

ক্ষমতার দম্ভ সুশাসনের অন্তরায়

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি কেন কমে না

লিথিয়াম ও কোবাল্টের রাজনীতি