মানুষের হাতে যদি একটি অতিমানবীয় ক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে সবচেয়ে কাজে লাগবে কোন ক্ষমতাটি? এমন প্রশ্নের জবাবে নানান জন দিয়েছেন নানা ধরনের উত্তর। কারও পছন্দ টেলিপোর্টেশন, কারও সময় থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা, কেউ চান সব ভাষা শেখার ক্ষমতা। আবার কেউ চেয়েছেন মানুষের মন পরিবর্তন করার ক্ষমতা, অদৃশ্য হওয়ার ক্ষমতা কিংবা যেকোনো নতুন দক্ষতা মুহূর্তে আয়ত্ত করার ক্ষমতা।
টেলিপোর্টেশন বা মুহূর্তের মধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার ক্ষমতা ছিল অনেকের অন্যতম জনপ্রিয় পছন্দ। একজন বলেছেন, সকালের নাশতা লন্ডনে, দুপুরের খাবার টোকিওতে এবং সন্ধ্যার খাবার প্যারিসে করা সম্ভব হবে। আরেকজনের মতে, এই ক্ষমতা থাকলে পরিবহন খরচ বা টিকিটের প্রয়োজনই থাকত না।
তবে টেলিপোর্টেশনের সম্ভাব্য ঝুঁকির কথাও একজন তুলে ধরেছেন। পৃথিবীর এক স্থান থেকে আরেক স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে যাওয়ার ক্ষেত্রে পৃথিবীর ঘূর্ণনের বিষয়টি বিবেচনায় না নিলে বিপদ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
সময় থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাও অনেকের পছন্দ। একজন মনে করেন, সময় থামাতে পারলে আলাদা করে সুপারস্পিডের মতো অনেক ক্ষমতার প্রয়োজন হবে না। সকালে অ্যালার্ম বাজার পর আরো পাঁচ মিনিট বা এক ঘণ্টা সময় পাওয়া—এমন দৈনন্দিন প্রয়োজনের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
আরেকজন চেয়েছেন এমন একটি ক্ষমতা, যার মাধ্যমে কোনো হারানো জিনিস খুঁজতে গেলে মাথার ভেতর থেকে ‘গরম’ বা ‘ঠান্ডা’ ধরনের সংকেত পাওয়া যাবে। চাবি, গলফ বল থেকে শুরু করে নিখোঁজ মানুষ বা হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান জিনিস খুঁজে বের করতেও এই ক্ষমতা কাজে লাগতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
কেউ কেউ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষমতাকে সবচেয়ে মূল্যবান মনে করেছেন। একজন বলেছেন, পৃথিবীর সব ভাষা এমনকি কম্পিউটার কোডিং ও দেহভঙ্গির ভাষাও তাৎক্ষণিকভাবে শেখা ও বোঝার ক্ষমতা থাকলে তা ভ্রমণ, যোগাযোগ ও ব্যক্তিগত জীবনে ব্যাপক কাজে আসবে।
যেকোনো নতুন দক্ষতা মুহূর্তে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে শেখার ক্ষমতাও একজনের পছন্দ। তার মতে, এতে যে কোনো পেশায় সফল হওয়া, বিভিন্ন ভাষা শেখা এবং নতুন নতুন কাজ আয়ত্ত করা সহজ হয়ে যাবে।
অনেকে তুলনামূলকভাবে নৈতিকভাবে জটিল ক্ষমতার কথাও বলেছেন। একজনের পছন্দ ‘মাইন্ড কন্ট্রোল’ বা মানুষের মন নিয়ন্ত্রণ করা। তার মতে, এই ক্ষমতা দিয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যেমন সম্ভব, তেমনি একটি স্বৈরশাসনও তৈরি করা সম্ভব। আরেকজন চেয়েছেন মানুষের মন পরিবর্তন করার ক্ষমতা, যাতে ভুল চিন্তা বা ঘৃণার ধারণা থেকে কাউকে ফিরিয়ে আনা যায়।
অদৃশ্য হওয়ার ক্ষমতাও এসেছে কারো উত্তরে। একজন মনে করেন, আধুনিক সময়ে অদৃশ্য হওয়ার সঙ্গে তাপ শনাক্তকারী যন্ত্রসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক নজরদারি থেকেও সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকার ক্ষমতা যুক্ত হওয়া উচিত। অন্য একজন মজা করে বলেছেন, এই ক্ষমতা দিয়ে ক্ষমতাবান ও অপছন্দের ব্যক্তিদের নানা ধরনের বিপাকে ফেলা সম্ভব।
কেউ চেয়েছেন এমন ক্ষমতা, যার মাধ্যমে তিনি সবসময় সত্য জানতে পারবেন। তার মতে, যেকোনো পরিস্থিতি ও সমস্যার ‘মৌলিক সত্য’ দেখতে পারা যেমন বিস্ময়কর হতে পারে, তেমনি তা অত্যন্ত ভারী অভিজ্ঞতাও হয়ে উঠতে পারে।
আরেকজনের পছন্দ টেলিকাইনেসিস—অর্থাৎ কোনো বস্তু স্পর্শ না করেই তা নড়াচড়া করানোর ক্ষমতা। তার মতে, ঘরে বসেই গোছগাছের কাজ করা গেলে জীবন অনেক সহজ হয়ে যেত। কেউ আবার চেয়েছেন এমন ক্ষমতা, যার মাধ্যমে কোনো অপরাধের পর অন্য ব্যক্তি সঙ্গে সঙ্গে তাকে ক্ষমা করে দেবেন। তবে ওই পাঠক নিজেই স্বীকার করেছেন, এই ক্ষমতা দ্রুতই অনৈতিক হয়ে উঠতে পারে।
একজন নিজেকে অক্ষত বা ‘ইনডেস্ট্রাক্টিবল’ করার ক্ষমতার কথা বলেছেন। আবার অন্য একজন এমন ক্ষমতা চেয়েছেন, যাতে মানুষ নিজের আকৃতি বদলে পাখির মতো উড়তে, মাছের মতো পানিতে শ্বাস নিতে, চিতাবাঘের মতো দ্রুত দৌড়াতে কিংবা গরিলার মতো শক্তিশালী হতে পারে।
সবচেয়ে সাধারণ কিন্তু বাস্তবধর্মী একটি উত্তরও এসেছে—লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন না থাকার ক্ষমতা। একজন মনে করেন, যে কোনো ধরনের অপেক্ষার সারি এড়িয়ে যেতে পারা অত্যন্ত কার্যকর একটি সুপারপাওয়ার হতে পারে।
এসব উত্তরে কল্পনা, বাস্তব প্রয়োজন, ব্যক্তিগত সুবিধা এবং নৈতিকতার নানা দিক উঠে এসেছে। একই ক্ষমতা একদিকে মানুষের উপকারে ব্যবহার করা সম্ভব, আবার অন্যদিকে অপব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে। ফলে কোন সুপারপাওয়ার সবচেয়ে ‘কাজের’—তার উত্তর পাঠকের ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও মূল্যবোধের ওপরই নির্ভর করছে।