ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, ভোট জালিয়াতি, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনে দলটির প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ও কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদেও এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হবে না।
রোববার বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিএনপির সমালোচনা করে এটিএম আজহার বলেন, ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে মাইকিং করে ভোট চাওয়ার নজির বিএনপি সৃষ্টি করেছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটকেন্দ্রের সামনে মাইকিং করে ধানের শীষে ভোট চাওয়া হলেও কমিশন নির্বাচনে সন্তুষ্ট থাকার কথা বলছে।
বিএনপিকে ‘জাতির জন্য আপদ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দলটি মুখে এক কথা বললেও কাজে তার বিপরীতটি করছে। নির্বাচনের আগে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় গিয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কোন সংবিধানের ক্ষমতাবলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তা দলটিকে স্পষ্ট করতে হবে।
এটিএম আজহারুল ইসলাম আরো বলেন, বিএনপি আওয়ামী লীগের কায়দায় দেশ পরিচালনার চেষ্টা করছে বলেই রাষ্ট্র সংস্কার করছে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। জনগণ শুধু প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন চেয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আসন্ন সংসদ অধিবেশনের আগেই গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনসহ চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এ নেতা। তিনি বলেন, সরকার সহযোগিতা চাইলে দেশ গঠনে বিরোধী দল প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে বিএনপি প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের মতো ভোট কারচুপি করেছে। তাঁর দাবি, দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৮ শতাংশ ভোট পড়লেও ফলাফল ঘোষণার সময় ভোটের হার দেখানো হয়েছে ৬৪ শতাংশ। জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের ভোট কম দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কারচুপির চেষ্টা করা হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনসহ অন্য নেতারা।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং জনগণকে সচেতন করাই তাঁদের লক্ষ্য। রাষ্ট্রপতি ও তাঁর ভাইয়ের পরাজয়ের লজ্জা ঢাকতে গিয়ে বিএনপি নির্বাচনে কারচুপি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পল্টন ও বিজয়নগর এলাকা প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।