শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো বিতর্কিত মতাদর্শের প্রচার নয়, বরং নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ।
শুক্রবার রাজধানীর আইসিএবি মিলনায়তনে সংগঠনের মজলিসে আমেলার মাসিক বৈঠকে ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সভাপতির বক্তব্যে এ দাবি জানান সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ।
শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে সর্বমহল থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের পর তিনি ভুলক্রমে 'তৃতীয় লিঙ্গ' বলতে গিয়ে 'ট্রান্সজেন্ডার' বলে ফেলার যে উদ্ভট অজুহাত সামনে এনেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশের ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন বক্তব্য অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
মুনতাছির আহমাদ বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা কোনো বিতর্কিত মতাদর্শের প্রচারকেন্দ্র নয়; বরং এটি একটি জাতির জ্ঞান, নৈতিকতা, চরিত্র ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের প্রধান অবলম্বন। শিক্ষার নামে এমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত নয়, যা এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে। শিক্ষার আধুনিকায়ন বলতে জ্ঞান-বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ বোঝায়, নিজস্ব মূল্যবোধ বিসর্জন দেওয়া নয়।
তিনি আরও বলেন, ট্যাবু শব্দের আড়ালে কোনো সংবেদনশীল বিষয়কে প্রশ্নাতীত করে তোলা কিংবা তার পক্ষে ধারাবাহিক প্রচারণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া যুক্তিসংগত হতে পারে না। ধর্মীয় বিশ্বাস, নৈতিকতা ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে কোনো বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করাকে পশ্চাৎপদতা হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতাও গ্রহণযোগ্য নয়।
শিক্ষা খাতের প্রকৃত সংকটগুলোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে মানসম্মত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, কর্মমুখী শিক্ষা, গবেষণার পরিবেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা এবং বেকারত্ব নিরসনের মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বিদ্যমান। এসব সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে বিতর্কিত বিষয়গুলোকে মুখ্য করে গুরুত্বারোপ করা হলে তা শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃত অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ট্রান্সজেন্ডারকে 'শয়তানি এজেন্ডা' উল্লেখ করে মুনতাছির আহমাদ বলেন, এটি সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে বিদ্রোহ, সমাজবিধ্বংসী ও মানবপ্রকৃতিবিরোধী। তাই ট্রান্সজেন্ডারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।