হোম > রাজনীতি

মার্কিন দূতের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক অপ্রত্যাশিত: জামায়াত আমির

সত্য যদি আমার বিরুদ্ধেও যায়, অকপটে প্রকাশ করুন

আমার দেশ অনলাইন

ঢাকায় মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠককে অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে আমাদের সরকার যদি নলেজে নিয়ে কোন কিছু করে সেটা ভিন্ন, আদারওয়াইজ এটা অপ্রত্যাশিত।

শনিবার সকালে সিলেটের বন্দরবাজারে কুদরত উল্লাহ মসজিদ কমপ্লেক্স দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার ৩৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, তারা তো ভারতে বসে কথা বলতেই পারেন, তিনি (মার্কিন বিশেষ দূত) ভারতেরও রাষ্ট্রদূত। এখানে এসে অন্য দেশের রাষ্ট্রদূতের সাথে কথা বলাটা যদি কেবল সৌজন্য মোলাকাত হয় তবে ভিন্ন কথা, কিন্তু যদি দুই দেশের কোনো বিষয় হয়ে থাকে, তবে সেটা সরকারের সাথেই হওয়া উচিত, বিরোধীদলের সাথেও হওয়া উচিত; কোন বিশেষ দেশের কূটনীতিবিদের সঙ্গে এমনটা আমাদের কাম্য নয়।

আরেক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আসলে আমরা সবকিছুকে ষড়যন্ত্র বলতে চাই না, আবার ষড়যন্ত্র যে নাই, এটাও বলতে চাই না। তিনি বলেন, বিএনপি ষড়যন্ত্রে পা দেবে কেন? বিএনপিও তো মজলুম। সাড়ে ১৫ বছর তারা জুলুমের শিকার হয়নি? মজলুমের কষ্ট তো মজলুমই বোঝার কথা।

তিনি বলেন, শুধু এনসিপি কেন, আমাদের সঙ্গেও তো অনেক কিছু হয়েছে। আমরা এগুলো কিছুই চাইনি। আমরা চাই ফ্যাসিবাদী আমলের সবকিছু কবরে চাপা পড়ুক এবং নতুন একটি জাতির উত্থান হোক, কিন্তু সরকার এখনো সেই পথে হাঁটছে না বলে আমাদের কাছে স্পষ্ট।

তিনি বলেন, এ কথা শুধু আমার নয়, সরকারি দলের মহাসচিবও মন্তব্য করেছেন যে, সরকার গঠনের পর কিছুই বদলায়নি এবং দুর্নীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ কথাগুলো আমরা আগে থেকেই বলে আসছিলাম, তারা অস্বীকার করছিলেন। তবে তিনি (মহাসচিব) আশার কথা বলেছেন যে, তারেক রহমান চেষ্টা করছেন। তিনিতো দলেরও প্রধান, সরকারেরও প্রধান। দলকে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব তার। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তার। তিনি সবার প্রধানমন্ত্রী। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে তাকে দায়িত্ব নিতে হবে।

জামায়াত আমির বলেন, স্বয়ং স্পিকার বলেছেন যে চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে বড় সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। দেশ আবার চোরবালিতে বা অন্ধকারের গলিতে হারিয়ে যাক, এটা আমরা চাই না। এই আন্দোলনে যে ১৪০০ বা তার বেশি মানুষ জীবন দিল, যারা অন্ধ বা পঙ্গু হলো, তাদের ত্যাগের দাম এই জাতিকে দিতে হবে।

তিনি বলেন, এক সময় সরকারি দল ও বিরোধী দল সবাই গণভোটের পক্ষে একমত থাকলেও, দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষমতা পাওয়ার পর তারা বদলে গেছেন। জনগণের রায়কে সম্মান না করলে তার পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হয়, তার ইতিহাস এই দেশে এবং গোটা দুনিয়ায় রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে খাস দলীয় লোককে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া আমাদের উদ্বিগ্ন করছে, যা অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দেয়। সরকার যদি আবারও কোনো নির্বাচনের পায়তারা বা পাতানো আয়োজন করে, তবে সেটা জাতি মানবে না এবং আমরাও মানবো না

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। একটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই সমাজকে সজাগ রাখে এবং মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনে।

তিনি আরো বলেন, মিডিয়াকে সমাজের আয়না বলা হয়। আয়নার সামনে দাঁড়ালে যেমন কোনো কিছু আড়াল থাকে না, তেমনি একজন প্রকৃত সাংবাদিকও কোনো তথ্য বিকৃত বা পরিবর্তন না করে মানুষের সামনে সত্য তুলে ধরেন। এ কারণেই সাংবাদিকদের সমাজের বিবেক বলা হয়। মিডিয়া যতদিন জাগ্রত থাকে, একটি সমাজও ততদিন জাগ্রত থাকে। আর বিবেকের মৃত্যু হলে সমাজেরও মৃত্যু ঘটে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জালালাবাদ পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই পত্রিকার প্রতি একটি অনুরোধ রাখব- জালালাবাদ কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র হবে না; এটি হবে জনগণের মুখপাত্র। কোন দল কখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে, সেটি আল্লাহ তাআলার ফয়সালা। কিন্তু জালালাবাদকে অবশ্যই নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এই নীতিগত অবস্থান বজায় রাখতে গিয়ে যদি কোনো রাজনৈতিক দলের রোষানলে পড়তে হয়, তাতেও আপত্তি নেই। এমনকি এ পথে চলতে গিয়ে যদি পত্রিকাটি বন্ধও হয়ে যায়, তবুও নীতির প্রশ্নে যেন কখনো আপস না করা হয়। পত্রিকার পৃষ্ঠাসংখ্যা ছোট হতে পারে, কিন্তু তার সংবাদ অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে এবং জনগণের কথা বলতে হবে।

তিনি বলেন, সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে যদি কোনো সংবাদ আমার বিরুদ্ধে যায় কিংবা আমার দলের বিরুদ্ধেও যায়, তবুও জালালাবাদ যেন সত্য প্রকাশে পিছপা না হয়। একটি গণমাধ্যম যখন নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরে, তখন মানুষের আস্থা স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি বৃদ্ধি পায়।

বর্তমান সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাসের সংকটের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আজ আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো আস্থার সংকট। মানুষ মানুষকে বিশ্বাস করতে চায় না। আমি প্রত্যাশা করি, দৈনিক জালালাবাদ তার বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে এই আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে সমাজকে সহায়তা করবে।

তিনি দৈনিক জালালাবাদ পরিবারের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করেন এবং দেশের গণমাধ্যমে সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার ধারা আরও শক্তিশালী হোক- সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সুধী সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা মুকতাবিস উন নূর, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং ফিলিপাইন ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপুসহ সিলেটের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকরা।

ভারতের মুসলিমদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

এনসিপির ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ারের দাবি জামায়াত নেতার

বিএনপি যা প্রতিশ্রুতি দেয়, তা বাস্তবায়ন করে: রিজভী

তিন দফা দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি

ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে গোলাম আযমের অবদানকে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে

জুলাই সনদের বর্ষপূর্তিতে রোববার জামায়াতের আলোচনা সভা

জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠনে নেতৃত্ব তৈরি করছে

চার দিনের সফরে রাতে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন মামুনুল হক

মসজিদ ও বাড়িঘর ভেঙে ভারত মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে