পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশকে অস্থিতিশীল করতে ভারত থেকে কলকাঠি নাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, পতিত ফ্যাসিস্ট চক্র ভারত থেকে ষড়যন্ত্রের জাল বুনে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, আর দেশের ভেতর গুপ্ত-সুপ্তরা পাখা দিয়ে সেখানে বাতাস দিচ্ছে। কিন্তু এদেশের জনগণ সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অতন্দ্র প্রহরীর মতো জেগে আছে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস এবং অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সামবেশ করে আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এস এম জিলানী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সবসময় চক্রান্তকে পদদলিত করেছে এবং ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে সত্যের আলোকে বিকীরণ করতে সহযোগিতা করেছে। এই বাংলাদেশ সেই বাংলাদেশ—সত্যের বাংলাদেশ, বীরত্বের বাংলাদেশ, ঐতিহ্যের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে মিথ্যার জাল রচনা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।
দেশে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস, নাশকতা ও অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, এই রাজপথ অন্য কোনো দলের কাছে বিক্রি করা হয়নি বা কেউ কিনে নেয়নি। এই রাজপথ এদেশের মেহনতি জনগণের। বিএনপি সবসময় অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেছে। বিএনপির ভিত্তি হলো জনগণ।
মধ্য বাড্ডা, কাফরুল, উত্তরা, মিরপুর ও শাহবাগে গাড়িতে আগুন দিয়ে যারা পরিকল্পিত সন্ত্রাস চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও সরকারের পদ পদক্ষেপ তুলে ধরে রিজভী বলেন, আজ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট চলছে। পৃথিবীর অনেক দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কিউবায় ১০-১৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। অথচ বিরোধী দলের কিছু নেতা না বুঝে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাত্র ৩৫ জনের একটি সংক্ষিপ্ত ও সাশ্রয়ী বহর নিয়ে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিয়ে দেশের টাকা সাশ্রয় করেছেন। অথচ বিগত সরকারের সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ১৫০-২০০ লোক নিয়ে প্রমোদভ্রমণে যেতেন এবং নিউইয়র্ক থেকে লন্ডন ও ফিনল্যান্ডে আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করতো। তারা পাচারকৃত টাকার খোঁজ নিতে যেতেন। বর্তমান সরকার সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত আন্তরিক এবং দেশের অর্থনীতিকে সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট রয়েছে।