১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বৃদ্ধি করে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ জাহিদুজ্জামান এবং সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফ ও মাওলানা জাকির হোসাইন এই নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আজ চরম সংকটের মুখে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আয় বাড়ছে না, অথচ প্রতিদিন বাড়ছে সংসার চালানোর ব্যয়। এমন পরিস্থিতিতে এলপিজি গ্যাসের দাম আরও ২২৩ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার শামিল। গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারা আরো বলেন, রান্নার গ্যাস এখন আর বিলাসিতার কোনো উপকরণ নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। শহরাঞ্চলের অসংখ্য পরিবার, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। গ্যাসের দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু রান্নার খরচে সীমাবদ্ধ থাকে না; হোটেল-রেস্তোরাঁ, খাবার ও অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়ে যায়। এর চূড়ান্ত বোঝা বহন করতে হয় সাধারণ জনগণকে।
জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়ে বারবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জনগণ কি শুধু মূল্যবৃদ্ধির বোঝা বহন করবে, আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার থাকবে? বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পর জ্বালানির দাম বাড়িয়ে জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করা দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়।
নেতারা অবিলম্বে এলপিজি গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে পূর্বের মূল্য বহাল রাখার দাবি জানান। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অযৌক্তিক মুনাফা বন্ধ করা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে এমন একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকলে জনঅসন্তোষ আরও তীব্র হবে। জনগণের ন্যায্য স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস তা মেনে নেবে না।