নানা অনিয়ম ও আইনগত জটিলতার কারণে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। মনোনয়ন যাচাইয়ের চার দিনের কার্যক্রম শেষে বাতিল ও গ্রহণসংক্রান্ত আবেদনের তথ্য থেকে এসব বিষয় জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৪৬৯টি মনোনয়ন আবেদন জমা পড়েছে।
বিএনপির যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—
যশোরে চারটি আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়া এস আইয়ুবকে ঋণখেলাপি হওয়ায় অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিমের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে দ্বৈত নাগরিকত্ব (অস্ট্রেলিয়া) থাকার কারণে।
ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটনের বিরুদ্ধে হলফনামায় নিজের নামে থাকা একটি মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এ ছাড়া ব্রাহ্মবাড়িয়া-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ হান্নানের মনোনয়ন বৈধতার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান আপিল করেছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল হকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ঋণখেলাপি হওয়ায়।
কুমিল্লা-৩ আসনের প্রার্থী ইউসুফ সোহেলের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে হলফনামা অসম্পূর্ণ ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের জামায়াত প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল বলে জানানো হয়েছে। তিনি নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন দাবি করলেও তা যাচাই না হওয়ায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
যশোর-২ আসনের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে।
জামালপুর-৩ আসনে মুজিবুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয় সমর্থকের স্বাক্ষরের স্থানে নিজে স্বাক্ষর করায়।
চাঁদপুর-২ আসনের প্রার্থী আবদুল মুবিনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায়।
কক্সবাজার-২ আসনের প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা থাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।