ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান রোববার এক বিবৃতিতে বলেছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের চাকরির পরীক্ষায় চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে থেকে অনেককে নিয়োগপত্র না পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ওপরে ভিত্তি করে মেধার পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে এবং অপরাধে জড়ানোর তথ্য থাকলে তাকে নিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত বিবেচনা করা যায়। বাস্তবতা হলো, প্রার্থী বা তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খোঁজা হয় এবং তা দেখে নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক/নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়। এই চর্চা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছিল। মেধার অধিকারকে কেন্দ্র করে সংগঠিত একটি গণঅভ্যুত্থানের পরে গঠিত একটি সরকারের সময়েও রাজনৈতিক চিন্তায় মেধাবীদের বঞ্চিত করা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। সরকারকে বলবো, মেধায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের নিয়োগপত্র দিতেই হবে।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান সতর্ক করে বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাইয়ের রীতি ব্রিটিশ আমলের। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন দমন করতে চাকরিপ্রার্থীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হতো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এই চর্চা বাদ দেওয়া হয়নি।
দলীয় সরকারগুলো সাধারণত গোয়েন্দা সংস্থার যাচাইয়ের মাধ্যমে বিরোধী দল ও মতের অনুসারী, তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করে এবং নিজেদের লোকদের নিয়োগ নিশ্চিত করে।
জনপ্রশাসনের দলীয়করণও করা হয় এই যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। বিএনপি সরকারও যদি এই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে তাহলে আরেকটি আন্দোলন দানা বাঁধতে পারে।