রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সাংবিধানিক শপথের পরিপন্থি আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে সংবিধানে নির্ধারিত নিরপেক্ষতা, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষা এবং অনুরাগ-বিরাগমুক্ত আচরণের নীতির পরিপন্থি ইঙ্গিত পরিলক্ষিত হয়েছে বলে মনে করে লেবার পার্টি।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের সময় যে শপথ গ্রহণ করেন, সেখানে তিনি অঙ্গীকার করেন- সংবিধান সংরক্ষণ, রক্ষা ও প্রতিপালন করবেন, রাষ্ট্রের গোপনীয় বিষয়সমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবেন; এবং কোনো ব্যক্তির প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে আইনের বিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। এই শপথ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি।
ডা. ইরান বলেন, রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক বক্তব্যে এমন রাজনৈতিক ভাষ্য ও অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে, যা একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধাজনক অবস্থানে উপস্থাপন করে এবং অন্য পক্ষের প্রতি বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে অনুরাগ-বিরাগমুক্ত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। এই সীমারেখা অতিক্রম করা হলে তা শপথ ভঙ্গের শামিল।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এই পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির বক্তব্যে যদি এমন কোনো বিষয় উঠে আসে যা রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বা চলমান প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং যা জনসম্মুখে প্রকাশ উপযোগী নয়, তবে সেটিও শপথের পরিপন্থি হিসাবে বিবেচিত হবে।
ডা. ইরান আরো বলেন, সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের ঐক্য, স্থিতি ও ধারাবাহিকতার প্রতীক। কাজেই তার বক্তব্য হওয়া উচিত সর্বদলীয় আস্থা সৃষ্টিকারী ও ভারসাম্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিতর্কে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবস্থান গ্রহণ রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে তিনি শপথের ভাষা ও সংবিধানের চেতনার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন করবেন। লেবার পার্টি মনে করে, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার স্বার্থে রাষ্ট্রপতির প্রতিটি বক্তব্য হতে হবে ভারসাম্যপূর্ণ, দায়িত্বশীল ও সর্বজনগ্রাহ্য। দেশবাসী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির কাছ থেকে নিরপেক্ষতা, প্রজ্ঞা ও সংযত আচরণ প্রত্যাশা করে।