বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, ‘মুসলমানদের কারণে নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কারণেই তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী। ৯৮টি আসনে ধানের শীষে বিজয়ী হয়েছে সম্পূর্ণরূপে সনাতন ধর্মের ভাইদের কারণে।’
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ জে কে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার বেগমগঞ্জ জে কে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, বিদায়ী শিক্ষকদের বিদায়, নবগঠিত ম্যানেজিং কমিটির অভিষেক ও অভিভাবক সমাবেশে তার দেওয়া এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘মুসলমানরাও নিজ নিজ জায়গা থেকে যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। সকলে মিলেমিশে কাজ করেছেন। তবে শতভাগ ঈমানদারিত্ব ও সততার পরিচয় দিয়েছেন সনাতন ধর্মের ভাইয়েরা। চৌমুহনী কুড়িপাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধ্যুষিত এলাকা। এই এলাকায় বিএনপি কখনো জেতেনি, এবারে বিজয়ী হয়েছে। টেকনিক্যাল হাইস্কুল, কলেজ কেন্দ্র ও চৌমুহনী পৌরসভায় বিএনপি কখনো জয়লাভ করেনি, হিন্দু ধর্মের ভাইদের ভোট অন্য জায়গায় যেত। কিন্তু এবার সনাতন ধর্মের ভাইদের ভোট আমরা পেয়েছি। এই হিন্দু ভাইদের ভোট আমরা পেয়েছি, এজন্য আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। তাদের পূজা-পার্বণ, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব কর্মে এবং একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য যা যা দরকার, আমরা সরকারে থেকে তা করব।’
বরকত উল্লাহ বুলু আরও বলেন, ভারতে উগ্র হিন্দু ধর্মান্ধরা ভারতের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। সেখানে মুসলমানদের ওপর কী হলো, সেটি ভারত সরকার দেখবে এবং বিশ্ব দরবারে সেই দায়দায়িত্ব তারা বুঝবে। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই মিলেই আমাদের এই বাংলাদেশ।
বেগমগঞ্জ জে কে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোরশেদুল আমিন ফয়সাল মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য শামীমা বরকত লাকী, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, চৌমুহনী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুন, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল গনি চৌধুরী মান্না, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রাজিবুল হাসান, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. আহসান উল্লাহ, উপজেলা যুবদল নেতা মো. রুস্তম আলী ও মহিউদ্দিন রাজু।