সুজনের প্রতিবেদন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থীদের মধ্যে আয়কর প্রদানকারী প্রার্থীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে বিএনপি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া দুই সহস্রাধিক প্রার্থীর মধ্যে গত বছর সবচেয়ে বেশি আয়কর দিয়েছেন কুমিলা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। তার আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
আয়কর প্রদানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ১৩২ প্রার্থী শুধু টিআইএন সনদ জমা দিলেও আয়কর বিবরণী দাখিল করেননি।
এবার সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে কোটি টাকার বেশি বার্ষিক আয় রয়েছে এমন প্রার্থী ৯৫ জন। তাদের মধ্যে ৫১ জন বিএনপির, ২৫ জন স্বতন্ত্র এবং ৫ জন জাতীয় পার্টির মনোনীত। প্রার্থীদের ৫১৯ জন বা প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি ঋণগ্রহীতা। তবে ১৫৫ জন প্রার্থী হলফনামায় তাদের আয়ের তথ্য উল্লেখ করেননি। এ ছাড়া ৫৮ জন প্রার্থী সম্পদের ঘর পূরণ করেননি।
সুজনের তথ্য অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ৫ কোটি টাকার অধিক ঋণ রয়েছে ৭৫ জনের, যার হার ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ বা ১৬৭ জন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের। তবে ইতিবাচক দিক হলো— এবারের নির্বাচনে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর সংখ্যা গতবারের ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ থেকে কমে ২০ দশমিক ৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সুজনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট প্রার্থীর ৮৩২ জন বা প্রায় ৪১ শতাংশের বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার নিচে। ৭৪১ জনের বার্ষিক আয় পাঁচ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে। ২৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ১৩২ জন এবং ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে আয় করেন ৭১ জন প্রার্থী।
শীর্ষ আয়কারী ১০ প্রার্থীর ৬ জন বিএনপির
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে শীর্ষ ১০ আয়কারীর তালিকায় ছয়জনই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। এ তালিকায় জামায়াতে ইসলামীর কেউ নেই। বাকি চারজনের তিনজন স্বতন্ত্র ও একজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী।
দ্বিতীয় অবস্থানে টাঙ্গাইল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুল ইসলাম (প্রায় ৪০ কোটি টাকা)। প্রায় ১৯ কোটি টাকা বার্ষিক আয় নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থান লক্ষ্মীপুর-১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জাকির হোসেন পাটওয়ারী। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস (আয় ৯ কোটি টাকার বেশি)। ৮ কোটি টাকার বেশি আয় নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে আছেন টাঙ্গাইল-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর।
বাকি পাঁচজন হলেন যথাক্রমে কক্সবাজার-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ, কুমিল্লা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দিন, নেত্রকোনা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী কায়সার কামাল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী এবং কুমিল্লা-৭ আসনের বিএনপির প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ। তাদের সবার আয় ৪ থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকার মধ্যে।