হোম > রাজনীতি > বিএনপি

হাসিনার আমলে ১৭ বছর ‘বিপ্লব ও সংহতি’ দিবস পালন করতে দেয়নি: রিজভী

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

ফ্যাসিবাদী শক্তি গত ১৭ বছর দেশে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করতে দেয়নি উল্লেখ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি পালন করায় ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য ও অন্তর্নিহিত চেতনা কখনো মুছে যায়নি। ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশি প্রভাবমুক্ত পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়নের পথ উন্মুক্ত হয়েছিল।

রোববার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে অনুষ্ঠানের পাশাপাশি টিএসসি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৯৭৬ সাল থেকেই সরকারি পর্যায়ে ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার শাসনামলে দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী আক্রমণের কারণে দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন দিবসটি পালন করায় ৭ নভেম্বরের চেতনা মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার দিন নয়; এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়নেরও সূচনা হয়েছিল। বাংলাদেশ কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, কার সঙ্গে মৈত্রী ও চুক্তি করবে, তা এ দেশের সরকার ও জনগণের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। কোনো বিদেশি শক্তির নির্দেশনা বা ইশারায় রাষ্ট্র পরিচালিত হবে না—এমন নীতির শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে।

১৯৭৫ পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছিল। রাজনৈতিক দল গঠন, মতপ্রকাশ ও সরকারের সমালোচনার সুযোগ সংকুচিত করা হয়েছিল। সে সময় সরকারের সমালোচনা করলে মানুষ গুম কিংবা হত্যার শিকার হতো। রক্ষীবাহিনীকে রাজনৈতিক দমনে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সে সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন। মানুষের কথা বলার, সংবাদপত্রে লেখার এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না। ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে দেশ সেই চরম পরিস্থিতি থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পায়। মানুষ আবার নির্ভয়ে নিজের রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, চলাচল ও সংবাদপত্রে লেখার পরিবেশ ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিল।

জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে আসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতায় আসা খন্দকার মোশতাক আহমদসহ তার মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্যই এর আগের দিন পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও অভ্যুত্থানের ঘটনায় দেশে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের পর জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হলে মানুষের মধ্যে আবারও একদলীয় শাসন ও বিদেশি প্রভাব ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

রিজভী বলেন, ওই সময় মানুষের মধ্যে একধরনের শঙ্কা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানকে অনেকেই ভারতের মদদপুষ্ট এবং বাকশাল পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে কর্নেল আবু তাহের ও জাসদের ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। নানা ঘটনাস্রোতের মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন।

কর্নেল আবু তাহেরের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের বিরোধের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান চেয়েছিলেন সেনাবাহিনী একটি দক্ষ, আধুনিক ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠুক। অন্যদিকে কর্নেল তাহের সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে এবং এর মধ্যে রাজনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। জাসদের গণবাহিনীর স্লোগানও সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের পরিপন্থী ছিল।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান সবসময় সেনাবাহিনীর রাজনীতিকরণের বিরোধিতা করেছেন। তিনি চেয়েছিলেন সেনাবাহিনী নিজস্ব শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে দেশে গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশে একটি আধুনিক ও পেশাদার সেনাবাহিনীর বিকাশ ঘটেছিল।

পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করেছিলেন। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করেছেন, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের আগপর্যন্ত চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, এরশাদের শাসনামলে গণতন্ত্র আবারও বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। সামরিক আইন জারির মাধ্যমে মানুষের অধিকার সংকুচিত করা হয়েছিল। কিন্তু ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান সফল হয়।

শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত দেড় দশকে দেশে আবারও একদলীয় শাসনব্যবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে ছাত্রদলসহ বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলো নানা বাধা ও নির্যাতনের মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বারবার প্রবেশে বাধা ও হামলার শিকার হয়েও পিছু হটেনি। তাদের সেই ত্যাগ ও রক্ত বৃথা যায়নি।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, জুলাইয়ের বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে ৭ নভেম্বরের চেতনার গভীর মিল রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই আধিপত্যবাদ ও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৮ কোটি মানুষের এই দেশকে কোনো বিদেশি শক্তি বা তাদের এদেশীয় সহযোগীরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, আহনাফ ও ওয়াসিম আকরামসহ তরুণদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এত মানুষের আত্মদান বৃথা যেতে পারে না। দেশের মানুষ বুক পেতে গুলি গ্রহণ করে যে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত করেছে, তা উপেক্ষা করে কারও স্বৈরাচারী কায়দায় ফিরে আসার সুযোগ নেই। বিদেশে বসে নানা বক্তব্য দিয়ে বা ষড়যন্ত্র করে জনগণের সমর্থন পাওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জন্য একটি ‘কম্পাস’ বা দিকনির্দেশক। দেশ যখনই কোনো সংকটে পড়ে, তখন ৭ নভেম্বরের চেতনা জাতিকে সঠিক পথ দেখাতে পারে। এই চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

হাসিনাকে প্রশ্ন করে যা জানতে চাইলেন রিজভী

বক্তব্যের সুযোগ না পেয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুষ্ঠান বর্জন

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন

বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বেশি ক্ষতি করেছে

ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’

রেডি হও জামায়াত, তোমাদের পাকিস্তান পাঠানো হবে: পাপিয়া

গণতন্ত্র সুসংহত ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে কাজ করছে সরকার: ইসমাইল জবিউল্লাহ

নয়াপল্টনে নেতাকর্মীদের ঢল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে র‍্যালি শুরু

বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শোভাযাত্রায় নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা