পুরুষরা মহিলা সেজে ভোট দেওয়ার জন্য একটা দল ৪০ লক্ষ বোরকা বানিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা ৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, এরা যদি এইভাবে জাল ভোট দেয় তাহলে এদের ধরিয়ে দিতে হবে। বোরকা মহিলা আমাদের মা বোন এদের শ্রদ্ধা করি। বোরকা পড়ে জাল ভোট দিবে এটা সজ্জ করা হবেনা, এদের ধরিয়ে ফেলতে হবে।
শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে হাব-বায়রা-অ্যাটাব এই ৩টি সংগঠনের সাথে এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এরপর তিনি ভাসানী গলি থেকে শুরু করে জোনাকী সিনেমা হলের গলি এবং পল্টন থানার উল্টো পাশের গলিতে গণসংযোগ করেন। বিকালে তিনি পুরানা পল্টন জামে মসজিদে নামায আদায় করে এর আশপাশে গণসংযোগ করেন। রাতে তিনি সেগুনবাগিচা স্বজন টাওয়ার, নকশী টাওয়ার, ডোম ইনো আলতুরা এবং সিলিকন ভিলা-ইষ্টার্ন ড্রিমে পৃথক পৃথক উঠোন বৈঠক করবেন।
মির্জা আব্বাস আরো অভিযোগ করে বলেন, শুনতে পেলাম নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করতে নাকি অনেক সময় লাগবে। কেনোরে ভাই! নির্বাচন শেষ হওয়ার ২ঘন্টায় রেজাল্ট না দিতে পারলে সর্বোচ্চ ১২ঘন্টা লাগতে পারে। ১২ ঘন্টা পার হলেই বুঝবো অসৎ কোনো উদ্দেশ্য আছে। তার মানে শেখ হাসিনা করছেন এক স্টাইলে আর আপনারা করবেন আরেক স্টাইলে! নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার আগে আমাদের কোন পোলিং এজেন্ট ঘরে ফিরে যাবে না।
মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ হয় নাই। মনে হয় ঢাকা ৮ আসনেই শুধু নির্বাচন হচ্ছে। এখানে এমন কিছু পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় যাতে সারাদেশের নির্বাচন যাতে বানচাল হয়। তারা নানাভাবে উস্কানী দিচ্ছে। আমি ও নেতাকর্মীরা ধৈর্য্য ধারণ করছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে, আল্লাহ আমাকে ধৈর্য্য ধারণ করার ক্ষমতা দিয়েছেন।
উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাকে শুধু সমর্থন দিলেই হবে না। আমার সমর্থক ও কর্মীদের সবার কাছে যেতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড ও বাজারে যদি ১০জন করে ভোটারদের সাথে কথা বলেন তাহলে আমার কাজে লাগবে। শুধু আমার জয়লাভ বড় কথা নয়, সারাদেশে বিএনপিকে জয়ী হতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা এখন কেমন আছি? হাসিনা চলে যাবার পর যতটুকু ভালো থাকার কথা ছিলো আমরা সেই ভালো নেই। শুধু পুলিশী অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছি। আর কোথাও ভালো নেই, স্বস্তিতে নেই। এটি আমাদের দূর্ভাগ্য।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে এ নির্বাচন। এটি কোন দান নয়। মুক্তিযুদ্ধও কোনো দান নয়। অনেকে মনে করে কয়েকদিনের আন্দোলনের ফসল ২৪। ১৭ বছর আমরা আন্দোলন করেছি, অগনিত শহীদ হয়েছেন, গুম হয়েছেন। আমরা তোমাদের পায়ের মাটি শক্ত করেছি, ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছি। যার পিছনে দেশের মানুষ কাজ করেছে।
আব্বাস বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে সভা-সমাবেশ করতে হয়। কিন্তু নির্বাচন একজন ব্যক্তির সারাজীবনের অর্জিত ভালোকাজ বা ভালো কর্মের সঞ্চয়ের উপর নির্ভরশীল। আমি যখন তরুণ ছিলাম তখন আমার সামনে মঞ্চে বলা হতো উপস্থিত আছেন অমুক বর্ষীয়ান নেতা। আজকে আমার উদ্দেশ্যে বলা হয় বর্ষীয়ান নেতা। অনেকে মনে করে বয়স হয়ে গেছে। কিন্তু, আমার যে অভিজ্ঞতা তা তোমাদের নেই। তোমরা আগামীতে এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারো।
তিনি বলেন, এখন এমন কিছু ছেলেপেলে গজিয়েছে যারা আঙুল ফুলে কলাগাছ বুনে গেছেন। সারাদিন শুধু আমাকে বকা বাজি করছেন। আমাকে বকা ছাড়া যেন তাদের অন্যকোন কাজ নেই। তুমিতো সেদিন চাঁদপুর থেকে এসেছো। আমার সম্পর্কে কিছুই জানো না। এলাকার মানুষ আমাকে চিনে। ঢাকা ৮ আসন একটি ব্যবসায়িক এলাকা। এখানকার কোনো ব্যবসায়ী বলতে পারবে না যে স্বার্থের প্রয়োজনে মির্জা আব্বাসকে কেউ এক কাপ চা খাওয়াতে পারছে। আজকে অর্বাচীন বালকদের হাত থেকে দেশটাকে বাঁচাতে হবে। আর এরজন্য আন্দোলনের দরকার নেই। ভোট দরকার। আপনারা সবাই একসাথে কাজ করলে আমি জয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, কষ্টার্জিত এই ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে হবে। একটি দল নাকি ৪০ লক্ষ বোরখা বানিয়েছে। অনেকে পুরুষ সেজে ফলস্ ভোট দিতে পারে। কর্মীদের এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।