হোম > রাজনীতি > বিএনপি

পডকাস্টে ফ্যামিলি কার্ডের বিস্তারিত তুলে ধরলেন তারেক রহমান

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। জনগণের কল্যাণে নানা প্রকল্প ও পরিকল্পনা সামনে নিয়ে আসছে দল ও প্রার্থীরা। এরই অংশ হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ক্ষমতায় গেলে গৃহকর্ত্রীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। যে কার্ডের মাধ্যমে তারা পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী কিনতে পারবেন, খরচ কমিয়ে টাকা জমানোর সুযোগও পাবেন।

এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে দলটির অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে বিএনপি চেয়ারম্যানের পডকাস্টটি প্রচার করা হয়।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা, কারা পাবেন, কত করে সহায়তা দেয়া হবে এবং এই কার্ডের মাধ্যমে সর্বোপরি অর্থনৈতিকভাবে কী লাভ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

পডকাস্টের শুরুর দিকে একটি প্রতীকী ফ্যামিলি কার্ড দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যেটা এই দেশের কোটি কোটি মা-বোনদের জন্য, সেটা হচ্ছে এই যে, আমার হাতে থাকা একটা ছোট্ট কার্ড। এই কার্ডটার নাম আমরা দিয়েছি ফ্যামিলি কার্ড। এই কার্ডটা আমরা বাংলাদেশের যারা মা-বোনেরা আছেন, তাদের হাতে দেবো’।

চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, হয়তো আমরা একবারে সবাইকে দিতে পারবো না। আমরা ধীরে ধীরে পরিবারগুলোর কাছে যাবো। তবে আমাদের চেষ্টা থাকবে সব পরিবারের কাছে পৌঁছানোর। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে গৃহিণীরা প্রতিমাসে আড়াই হাজার টাকা পাবেন। সেটি নগদ পাবেন অথবা পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী কিনতে ব্যবহার করতে পারবেন।

ফ্যামিলি কার্ডের সুফল ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে যে সহায়তা দেয়া হবে, তার সুফল পাবে প্রতিটি পরিবার। সহায়তার কারণে পরিবারগুলো টাকা জমানোর সুযোগ পাবে। জমানো টাকা মা-বোনেরা তাদের সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্য খরচ করবেন। যাতে সন্তানটি একটু ভালো খেতে পারে, অথবা সন্তানদের লেখাপড়ার পেছনেও তারা খরচ করতে পারবেন।

কিংবা জমানো টাকা গ্রামের গৃহিণীরা কোনো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন বলেও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, যারা গ্রামে অথবা শহরে থাকেন, যেখানেই থাকেন, নিশ্চয়ই আপনি খুঁজে নেবেন ছোট্ট কোনো বিনিয়োগ। যদি আপনি বিনিয়োগ করতে পারেন, সেখান থেকে আপনার সংসারের একটা ছোট্ট হলেও একটা এক্সট্রা, একটা অতিরিক্ত আয় আসবে। যেটি আপনি সংসারের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।

এভাবেই ফ্যামিলি কার্ডের সুফলভোগীরা ধীরে ধীরে সচ্ছল পরিবার হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় আসবে, তাদের সন্তানেরা সুস্বাস্থ্য ও সুশিক্ষার সুযোগ পাবে বলেও বিশ্বাস করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, কেউ হয়তো জিজ্ঞেস করতে পারেন, যে আমরা কি কয়েকদিনের মধ্যেই অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হয়ে যাবো? না, কয়েকদিনের ভেতরে হবেন না। তবে হ্যাঁ, পাঁচ, ছয় বা সাত বছর পর্যন্ত যদি একজন মা, একজন স্ত্রী বা একজন গৃহিণী যদি সহযোগিতাটা পান, নিশ্চয়ই এটি তাকে সাহায্য করবে। এ বছর না হলেও, আগামী বছর না হলেও, আগামী পাঁচ বছর পরে কিন্তু পরিবারটি একটি সচ্ছল পরিবার হবে। আপনার গ্রামে আপনার পরিবারটি যেমন সচ্ছল হবে, ধীরে ধীরে অন্য পরিবারগুলোও সচ্ছল হবে।

তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে বলেন, হয়তো কেউ কেউ বলতে পারেন আমরা কি সকল মা-বোনের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ডটা পৌঁছে দেবো? না, সেভাবে করছি না। করছি তবে একটু অন্যভাবে। বাংলাদেশে আমরা যদি পরিবার হিসেবে দেখি, চার কোটি পরিবার আছে। বাংলাদেশে ৭০ শতাংশের মতো পরিবার গ্রামে থাকেন, ৩০ শতাংশের মতো পরিবার থাকে শহরে। আমরা কাজটি শুরু করবো পরিবার ভিত্তিক। প্রথমে গ্রাম থেকেই শুরু করবো, শহরেরও কিছু কিছু অংশ নেবো। শহরের যেই অংশগুলোতে সাধারণত দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ ও পরিবারগুলো থাকে, সেই পরিবারগুলোকে নিয়ে কাজ শুরু হবে।

পরিবারের গৃহকর্ত্রীরা কার্ড পাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, মা বা গৃহিণীদের কাছে আমরা কার্ড পৌঁছাবো। এই কার্ডটির মধ্যে আপনার নাম থাকবে। এই কার্ডটির মধ্যে একটি নম্বর থাকবে। কার্ডটির মেয়াদ থাকবে এবং কার্ডটির মধ্যে স্ক্যানিং করার মতো দাগ থাকবে। তবে চার কোটি পরিবারকে একবারে দিতে পারবো না। আমরা ধীরে ধীরে পরিবারগুলোর কাছে যাবো।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ডটি আমরা সব গৃহিণী, স্ত্রী ও মায়ের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। এটি যেমন একজন কৃষকের স্ত্রী পাবেন, তেমন একজন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকের স্ত্রীও পাবেন। এটি একজন গ্রামের ভ্যানচালকের স্ত্রী পাবেন, একইভাবে এটি ইউএনও সাহেবের স্ত্রীও পাবেন। ডিসি সাহেবের বা এসপি সাহেবের স্ত্রীও এটা পাবেন, ক্ষুদ্র একজন ব্যবসায়ীর স্ত্রীও কার্ড পাবেন। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যাদের প্রয়োজন নেই, তারা কার্ড ফিরিয়ে দেবেন। আর তারা ফিরিয়ে দিলে আমরা সেই কার্ডটি সত্যিকার যাদের প্রয়োজন তাদের কাছে দিতে পারবো।

এদিকে পডকাস্ট বিষয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, নির্বাচন সামনে রেখে পডকাস্ট শো-তে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি দেশের মানুষের সামনে তার চিন্তা, দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। কারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের জনগণ আর কোনো অবাস্তবায়নযোগ্য ফাঁকা বুলি, মিথ্যা আশ্বাস শুনতে চায় না। জনগণ চায় স্পষ্ট অঙ্গীকার ও বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব। তারেক রহমান পডকাস্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত বিএনপির অঙ্গীকারগুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরবেন।

তিনি আরও বলেন, পডকাস্টে তারেক রহমান বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কথা তুলে ধরবেন, যার মাধ্যমে দেশের কোটি পরিবার আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তার ন্যায্য অধিকার পাবে। এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবেন, যার মাধ্যমে কৃষক কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা পাবেন। একই সঙ্গে পডকাস্টে ক্রীড়া ও যুব উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

১৯ বছর পর বগুড়ায় জনসভায় তারেক রহমান

কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ‘বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদ’-এর যাত্রা

২৭ নেতাকে সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি

শহীদদের সম্মানে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানালেন হাবিবুর

অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান আমিনুলের

সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে

আমরা ক্ষমতায় গেলে রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করব

রাজশাহীর সমাবেশস্থলে তারেক রহমান

পডকাস্টে দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন তারেক রহমান