হোম > রাজনীতি > জামায়াত

নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা দিলেন জামায়াত আমির

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ ও মানবিক রাষ্ট্র; যেখানে বিভাজন নয়, বরং আশা, নিরাময় ও ঐক্যই হবে রাজনীতির মূল ভিত্তি। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর পলিসি সামিট–২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সকাল ৯টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সামিটে দেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিরা অংশ নেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি রাষ্ট্র গঠনে বিশ্বাস করে, যেখানে আধুনিক বাজার অর্থনীতি কার্যকর থাকবে, প্রশাসনিক কাঠামো হবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক এবং ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গনির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক সমান সুযোগ পাবে। তার ভাষায়— ন্যায়, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত উন্নয়নই টেকসই উন্নয়ন।

নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষায় সমান অধিকার

নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নারীর অংশগ্রহণের হারের দিক থেকে জামায়াতে ইসলামী শীর্ষপর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে দলের মোট সদস্যের প্রায় ৪৩ শতাংশই নারী, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে নারীরা যেন সমান নাগরিক হিসেবে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারে, সে জন্য প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষায় সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণে কোনো ধরনের বৈষম্য বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা সমান সুযোগ, ন্যায় ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিশ্বাস করে, জামায়াতে ইসলামী তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।

তরুণ প্রজন্মকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র সংস্কার

তরুণদের দেশের প্রবৃদ্ধির প্রধান ‘ইঞ্জিন’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় যুব কর্মসংস্থান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। কর্মসংস্থানহীন তরুণ সমাজ কোনো দেশের জন্য বড় ঝুঁকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মক্ষম ও দক্ষ তরুণ সমাজই পারে একটি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে।

তিনি একটি আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন, যেখানে স্বচ্ছ বাজার অর্থনীতির পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে একটি উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে, যাতে বিনিয়োগে আস্থা তৈরি হয়।

শিল্পায়নের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন রাষ্ট্রীয় সম্পদ বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন থাকবে। দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বজনপ্রীতির সংস্কৃতি রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছতা বজায় না থাকলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

একই সঙ্গে তিনি কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তার মতে, কৃষিকে উপেক্ষা করে কোনো দেশ টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না।

সংখ্যালঘু অধিকার: রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, ধর্মীয় কর্তব্য

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষাকে তিনি কেবল রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি ‘পবিত্র ধর্মীয় কর্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী প্রায় পাঁচ লাখ সদস্য রয়েছেন, যারা দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, জাতি, ধর্ম বা লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রক্ষায় তার দল অতন্দ্রপ্রহরীর ভূমিকা পালন করবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।

আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও ঐক্যের আহ্বান

বক্তব্যের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সামিটে উপস্থিত বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞ ও রিসোর্স পারসনদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময় বিভাজনের নয়, বরং সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়।

স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যের মধ্য দিয়েই একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

শরিকদের ৮৫ আসন ছাড়ল জামায়াত

২১৫ আসনে নির্বাচন করবে জামায়াত

জামায়াতের পলিসি সামিটে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতসহ ৩০ দেশের প্রতিনিধি

দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন টিকে থাকা নয় বরং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা

জামায়াতের মহিলা সমাবেশে নাহিদ ইসলাম

মাহফিলের সব সিডিউল স্থগিত করলেন আমির হামজা, নেপথ্যে যে কারণ

জামায়াতে যোগ দেয়া নিয়ে আমার দেশকে যা বললেন মুফতি আলী হাসান উসামা

শাকসু নির্বাচন বানচাল হলে লাগাতার কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ছাত্রশিবিরের

জোটে না থাকলেও ফয়জুল করীমের আসনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত

ইসিকে কোনো চাপে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জামায়াতের