হোম > রাজনীতি > জামায়াত

জ্বালানি সংকট সমাধানে তিন মাস আগে দেওয়া জামায়াতের পরিকল্পনার অগ্রগতি কী

গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার

‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং জনদুর্ভোগ নিয়ে’ জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

দেশের চলমান বিদুৎ, জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলোর কাছে যে কার্যকর পরিকল্পনা চেয়েছেন, সেই আহ্বানকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এ ধরনের পরিকল্পনা তিন মাস আগেই সরকারকে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তার অগ্রগতি জানতে চেয়েছে দলটি।

একইসঙ্গে এই সংকট সমাধানের লক্ষে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে জরুরি সংসদীয় অধিবেশন আহ্বানের যে দাবি জানানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছে জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলের কারণে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ভোগান্তি এখনও চলছে, যা সরকার নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েও কোনো সুফল আনতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং জনদুর্ভোগ নিয়ে’ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, গত ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকটসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা লিখিতভাবে ১০ দফা সুপারিশ জমা দিয়েছিলেন। ওই কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচজন সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর তিনজন সদস্যও ছিলেন। তারা দুটি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, প্রশ্ন তুলেছেন এবং সংকট মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন। পরবর্তীতে ৭ জুন জ্বালানিমন্ত্রী নিজেই সেই প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমেও বিরোধী দলের সেই ১০ দফা সুপারিশ প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, সেই প্রস্তাবগুলো ছিল একেবারেই বাস্তবভিত্তিক। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বিদ্যমান কূপে ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাসকে জাতীয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ, স্থলভাগ ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান জোরদার, স্থাপিত এসপিএম দ্রুত চালু করা, ডিপো থেকে গ্রাহক পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল মনিটরিং, কার্যকর নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা নিরূপণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা।

তিনি বলেন, সুতরাং আজকের মূল প্রশ্নটি পরিকল্পনা আছে কি নেই, সেটি নয়। মূল প্রশ্ন হলো, ২১ মে থেকে সরকারের হাতে থাকা এই পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, কোন সুপারিশে কাজ শুরু হয়েছে এবং কোনগুলো এখনো কাগজেই পড়ে আছে। আজ আমরা সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাই এবং একই সঙ্গে দেখাতে চাই, দেশের এই সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দল শুধু সমালোচনা করেনি, বরং সময়মতো দায়িত্বশীল ও বাস্তবসম্মত বিকল্পও দিয়েছে। গত ১৪ আগস্ট জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি এ সংকট নিরসনে জাতীয় সংসদের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করতে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন, যার কপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও দেওয়া হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৮ আগস্ট জামায়াতের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিদ্যমান সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব-সম্বলিত বক্তব্য পেশ করেছিলাম। সেই ১০ দফায় আমরা বলেছিলাম, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে হবে। দ্রুত ফলদায়ক কূপগুলোতে ওয়ার্কওভার করতে হবে। ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস অবকাঠামো উন্নত করতে হবে। স্থল ও সমুদ্রভাগে নতুন অনুসন্ধান বাড়াতে হবে। বাপেক্সের সক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং দ্রুত কার্যকর করার কথা বলেছি। জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় ডিজিটাল পর্যবেক্ষণের কথা বলেছি। সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানোর কথা বলেছি। ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা নির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সমীক্ষার প্রস্তাব দিয়েছি।

তাই আজ আমাদের প্রশ্ন খুবই সরল। পরিকল্পনা যখন ২১ মে থেকেই সরকারের কাছে আছে, তাহলে গত প্রায় তিন মাসে সেই পরিকল্পনার কোনটি বাস্তবায়িত হয়েছে? কোনটির কাজ শুরু হয়েছে? কোনটি গ্রহণ করা হয়নি? আর গ্রহণ করা না হলে কেন হয়নি? আমরা নতুন কোনো কাগজ জমা দেওয়ার প্রতিযোগিতা চাই না। আমরা ইতোমধ্যে জমা দেওয়া পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

গোলাম পরওয়ার বলেন, হারিকেনের সামনে ফ্যান চলার ছবি দিয়ে দেশের জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা খণ্ডন করা যায় না। প্রধানমন্ত্রী একটি প্রতিবাদের ছবি নিয়ে কথা বলেছেন। সামনে হারিকেন, পেছনে ফ্যান, এটিকে তিনি হঠকারিতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আমরা মনে করি, একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে একটি জায়গায় ফ্যান চলছিল কি চলছিল না—এটি দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মূল্যায়নের মানদণ্ড হতে পারে না। হারিকেন একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীক হতে পারে। তার জবাব হওয়া উচিত তথ্য দিয়ে।

তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। জুলাইয়ে একটি এফএসআরইউ বন্ধ হওয়ার পর দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের আগের নথিতে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এবং সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব একজন মানুষ যখন গ্যাস চান, তিনি অরাজকতা চান না। একজন শ্রমিক যখন কারখানা চালু রাখার দাবি করেন, তিনি ষড়যন্ত্র করেন না। একজন উদ্যোক্তা যখন নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি চান, তিনি সরকারের শত্রু নন। মানুষ চুলায় গ্যাস চায়, কারখানায় উৎপাদন চায়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চায়। এ দাবির জবাব রাজনৈতিক ব্যঙ্গ দিয়ে নয়, কার্যকর সমাধান দিয়ে দেওয়া উচিত।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এফএসআরইউ প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু শুধু একটি নতুন এফএসআরইউ দিয়েই গ্যাস সংকটের সমাধান হবে না। আমরা নতুন এফএসআরইউ নির্মাণের বিরোধিতা করছি না। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন হলে আমদানিকৃত এলএনজি গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কিন্তু একটি মৌলিক সত্য জনগণকে বলতে হবে। এফএসআরইউ নিজে গ্যাস উৎপাদন করে না। এফএসআরইউ চালাতে এলএনজি আমদানি করতে হবে। সেই এলএনজি কিনতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন। এলএনজি পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করার পর সেটি জাতীয় গ্রিডে পাঠাতে পর্যাপ্ত পাইপলাইন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আরেকটি বড় প্রশ্ন অর্থের। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা সরকারি ভর্তুকির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং তৃতীয় এফএসআরইউ নির্মাণ করুন। প্রয়োজন হলে আমরা সমর্থন করব।

কিন্তু একই সঙ্গে বলতে হবে, এলএনজি কোথা থেকে আসবে? কত দামে আসবে? দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি কী হবে? পাইপলাইন কখন হবে? দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কত বাড়বে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া শুধু একটি নতুন ভাসমান টার্মিনালকে পুরো সংকটের সমাধান হিসেবে দেখানো বাস্তবসম্মত হবে না।

গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা বলছি, ৯০ দিনে কী করা সম্ভব। আমরা জনগণকে অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। তিন মাসে সমুদ্রের নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের ফল পাওয়া সম্ভব নয়। তিন মাসে একটি বড় নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তিন মাসে ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ সম্পূর্ণ বাস্তবায়নও সম্ভব নয়। যেই এসবের প্রতিশ্রুতি দিক না কেন সেটি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। আমাদের নিজস্ব পরিকল্পনাতেও এ সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছে। কিন্তু ৯০ দিনে অন্তত ছয়টি দৃশ্যমান কাজ করা সম্ভব।

সেগুলো হলো-দ্রুত ফলদায়ক গ্যাসকূপে ওয়ার্কওভার: প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স দ্রুত ফলদায়ক ওয়ার্কওভারযোগ্য কূপের অগ্রাধিকার তালিকা প্রকাশ করুক। ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষ করা হোক। ৯০ দিনের মধ্যে প্রথম কয়েকটি কূপের কাজ সম্পন্ন না হলেও শুরু করে জনগণকে জানানো হোক—কত মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার স্মভাবনা হলো।

বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের হিসাব প্রকাশ: দেশে কতটি কূপ কারিগরি সমস্যায় বন্ধ রয়েছে, কোনটি সংস্কার করলে আবার উৎপাদনে আনা যাবে, ৩০ দিনের মধ্যে তার পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হোক। এগুলো জনগণের সম্পদ। জনগণের সেই হিসাব জানার অধিকার রয়েছে।

ভোলার গ্যাস ব্যবহারে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বাড়ানো: ভোলায় গ্যাস রয়েছে, কিন্তু মূল ভূখণ্ডে আনার প্রয়োজনীয় স্থায়ী পাইপলাইন নেই। পাইপলাইন তিন মাসে হবে না। কিন্তু সিএনজি বা এলএনজি আকারে পরিবহনের বিদ্যমান ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করা যায়। এটি স্থায়ী সমাধান নয়, কিন্তু সংকটের সময়ে একটি অন্তর্বর্তী সেতু হতে পারে।

সিস্টেম লস ও অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা: প্রতিটি বিতরণ কোম্পানির জন্য ৯০ দিনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হোক। প্রতি সপ্তাহে কতটি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো, কত গ্যাস সাশ্রয় হলো সে তথ্য প্রকাশ করা হোক।

গ্যাস বণ্টনের প্রকাশ্য সময়সূচি: ঘাটতি যদি থাকে, সেটি লুকিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। কোন সময়ে কোন খাত গ্যাস পাবে, শিল্প, বিদ্যুৎ, সার ও আবাসিক খাতের জন্য যতটা সম্ভব পূর্বঘোষিত সময়সূচি প্রকাশ করা হোক। একজন গৃহিণী যেন জানতে পারেন কখন চুলা জ্বলবে। একজন শিল্পোদ্যোক্তা যেন জানতে পারেন কখন উৎপাদনের পরিকল্পনা করবেন।

এসপিএম ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ দ্রুত কার্যকর করা: যে অবকাঠামো ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে, সেগুলো ফেলে রেখে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে লাভ নেই। সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং দ্রুত কার্যকর করতে হবে এবং ডিপো থেকে গ্রাহক পর্যায় পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহে ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক জট ভাঙতে হবে। আমাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, বাংলাদেশে শুধু পরিকল্পনার অভাব নেই, বাস্তবায়নের গতিরও সমস্যা রয়েছে। একটি কূপে কাজ করার সিদ্ধান্ত থেকে বাস্তবে কাজ শুরু করতে নানা স্তরের অনুমোদন, সংশোধন, দরপত্র ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হয়।

জামায়াতের চারটি প্রশাসনিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে সকল স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল গঠন করা হোক। নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার মধ্যে জরুরি ওয়ার্কওভার ও সংস্কারকাজের অনুমোদনক্ষমতা পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদে দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করা হোক।

দ্বিতীয়ত, রুপপুর বেস লোড প্লান্ট উৎপাদন এ আসলে কখন আসবে এবং এর ট্যারিফ কি হবে সেইটা দেশের জনগণ জানতে চাই। তৃতীয়ত, জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের জন্য স্থায়ী মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি করা হোক। চতুর্থত, অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর জন্য একক তদারকি ব্যবস্থা করা হোক এবং কোন ফাইল কোথায় কত দিন আটকে আছে, সেই তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হোক।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জের জবাবে আমাদের প্রস্তাব হলো-আপনি বলেছেন পরিকল্পনা দিন। আমরা বলছি, পরিকল্পনা ২১ মে থেকেই সরকারের কাছে আছে। আপনি বলেছেন, ভালো পরিকল্পনা হলে বাস্তবায়ন করবেন। আমরা বলছি, বিরোধী দলের ১০ দফা এবং সংসদীয় বিশেষ কমিটির ১২ দফাকে সামনে রেখে আজ থেকেই একটি যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করুন। সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বিপিডিবি, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা করুন। এবং আজ থেকে ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিন।

তিনি বলেন, সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনটি হয়নি, কত গ্যাস বেড়েছে, কত সিস্টেম লস কমেছে, কত অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে জনগণ সেই হিসাব দেখুক। আমাদের প্রস্তুত করা খসড়ায়ও ৯০ দিন পর অগ্রগতি প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন এবং বিরোধী দলের সদস্যসহ বিশেষ কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত পর্যালোচনার প্রস্তাব রয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা এই সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না। কারণ জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে শুধু সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই মা, যিনি সকালে চুলা জ্বালাতে পারেন না। ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই শ্রমিক, যার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই উদ্যোক্তা, যিনি সময়মতো পণ্য তৈরি বা রপ্তানি করতে পারেন না। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের অর্থনীতি। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকুক। সমালোচনা থাকুক। কিন্তু জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের প্রতিযোগিতা হোক, কে বেশি কার্যকর সমাধান দিতে পারে, কে বেশি স্বচ্ছ থাকতে পারে, কে জনগণের কাছে বেশি জবাবদিহি করতে পারে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলতে চাই, আমাদের পরিকল্পনা আপনার সরকারের কাছেই আছে। আজ আবারও আমরা সেটি সামনে রাখলাম। এখন প্রশ্ন একটাই, বাস্তবায়ন শুরু হবে, নাকি আবার নতুন পরিকল্পনা ও নতুন কমিটির অপেক্ষায় থাকতে হবে? আমরা ৯০ দিন পর হিসাব চাইব। সরকারকে বিব্রত করার জন্য নয়। দেশের মানুষের পক্ষে। আর দেশের স্বার্থে সরকার যদি কোনো কার্যকর, স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নেয়, দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমরা সহযোগিতা করব।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, একেকটা সরকারের মেয়াদ থাকে ৫ বছর। ১০ বা ২০ বছরের মহাপরিকল্পনার কথা জনগণের কাছে বলেন কেন? টাকা, সময়ের অজুহাত জনগণ কিভাবে নিচে দেখুন। সরকার জনদুর্ভোগ লাঘবে জরুরিভাবে অনেক পদক্ষেপ নিতে পারে, দুর্নীতি বন্ধ করুন। সেদিকে নজর নাই। আরেক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, তারা বিরোধীদলকে বিভ্রান্তের অভিযোগ দিয়ে তারা দুর্ভোগ ও ব্যর্থতাকে ঢাকতে চান। ঘুস দুর্নীতির সার্টিফিকেট তো মির্জা ফখরুলই দিয়ে দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা‘ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ, মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক গণতন্ত্র সফল করতে অর্থনীতিরও গণতন্ত্রায়ণ জরুরি: আমির খসরু

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে সম্পর্ক: দিল্লি যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী

এক সময় নিষিদ্ধ ‘আজাদি’ ধ্বনি এখন ভারতীয় তরুণদের মুখে মুখে, কাঁপছে মোদির ক্ষমতার ভিত

সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ সোসাইটির মেজবানে মাতলেন প্রবাসীরা

এমন দিন খুব কম আসে, অনেক উদযাপন করব, বললেন শান্ত

চাঁদাবাজি চলবে না, এখানকার সরকার আমি: আমির হামজা

প্রথমবার একসঙ্গে মম, সাজ্জাদ ও সাদিয়া আয়মান

এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

অস্ট্রেলিয়াকে হারানো বাংলাদেশে মুগ্ধ ক্রিকেটবিশ্ব

‘প্রচুর অনুরোধ’ পাওয়ায় মার্কিন সেনাদের ধরতে পুরস্কার ঘোষণা ইরানের