দাওয়াতি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বরজুড়ে গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীসহ দেশব্যাপী নানা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে বিশেষ এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে দলটি। এ সময়ে মূলত বৈষম্যহীন, ইনসাফপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তবে এই কার্যক্রমে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন, রাজনৈতিক বিভিন্ন দাবিদাওয়া ও ইস্যু, বিশেষ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে লংমার্চের প্রতি জনমত গড়ে তোলা হয়। দাওয়াতি কাজের পাশাপাশি নানা সেবামূলক ও সামাজিক কর্মসূচিও হাতে নেয় দলটি।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান থেকে শুরু করে দলের সর্বস্তরের নেতা, বিশেষ করে আগামী স্থানীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এসব কর্মসূচিতে বেশ তৎপর ছিলেন বলে জানা গেছে। এতে বিভিন্ন দল ছেড়ে বেশকিছু নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের দলটিতে যোগদানের খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে গণসংযোগ মাসে বেশ সাড়া পাওয়া গেছে বলে মনে করছেন নেতারা।
তাদের মতে, এই গণসংযোগে আগামী স্থানীয় নির্বাচন এবং চলমান আন্দোলনের পক্ষে মাঠ প্রস্তুত হচ্ছে। আজ এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটছে। এরপর কেন্দ্রীয়ভাবে তৃণমূল ইউনিট থেকে মাসব্যাপী কর্মকাণ্ডের রিপোর্ট সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হবে।
সূত্রমতে, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গত ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মাসব্যাপী গণসংযোগ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ওই অনুষ্ঠানে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাবেক বিচারপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, কওমি আলেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৬৫০ জন জামায়াতে যোগদান করেন। সবাইকে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানান জামায়াত আমির। পর্যায়ক্রমে মহানগরী দক্ষিণের সব থানা ও ওয়ার্ডের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই গণসংযোগ চালানো হয়।
একই দিনে তুরাগ দক্ষিণ থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে দাওয়াতি অভিযান উদ্বোধন করেন দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। পরে উত্তরের সব থানা ও ওয়ার্ডের উদ্যোগে একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়।
গণসংযোগ মাসের কার্যক্রম ও সফলতা প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আমার দেশকে জানান, নিয়মিত বার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী দাওয়াতি অভিযানের অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর আগে আগস্টে মহিলা শাখার গণসংযোগ ছিল। এ সময় ব্যাপকভাবে সাধারণ নাগরিকদের সংগঠন ও আন্দোলন বিষয়ে মতবিনিময় এবং আগ্রহীদের মাঝে জামায়াতের পরিচিতি ও বিভিন্ন বই বিতরণ করা হয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচিকে খুব গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের এই প্রধান বলেন, আগে নানা বাধা-প্রতিবন্ধকতা ছিল। এখন সাধারণ মানুষের মাঝে জামায়াত নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তাই সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে দলের দাওয়াত পৌঁছানো হচ্ছে। এতে দায়িত্বশীল নেতারা সম্পৃক্ত ছিলেন। তারা বিভিন্ন এলাকা সফর করেছেন। বিশেষ করে স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থী ও দায়িত্বশীলরাও এতে অংশ নেন। ইসলামি আদর্শের পক্ষে কথা বলার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে আমরা এই কর্মসূচি পালন করছি। এতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।
জুবায়ের জানান, গণসংযোগ শেষে তৃণমূল ইউনিট থেকে সব কার্যক্রমের বিস্তারিত রিপোর্ট সংগ্রহ করা হবে। কোথায় কেমন কাজ হয়েছে, তা আমরা পর্যালোচনা করব। তবে এটি আসতে কিছুটা সময় লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, গণসংযোগ কর্মসূচি উপলক্ষে দলে সম্পৃক্ত হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। লিফলেট আকারে সেটি সারা দেশে বিতরণ করা হয়। সেখানে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে জামায়াত। ফলে দলটি ইতোমধ্যে দেশের গণমানুষের প্রিয় সংগঠনে পরিণত হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ তার প্রমাণ দিয়েছে। প্রিয় এই সংগঠনের দাওয়াত আপনাদের সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে সেপ্টেম্বরে জামায়াত দেশব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা ইসলামের মৌলিক অনুশাসনের দাওয়াত ও শান্তির বাণী এ দেশের প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।
তিনি জামায়াতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে, দুর্নীতি ও অবিচারের অবসান ঘটবে, মানুষের ভোট, ভাত ও মৌলিক অধিকার নিরাপদ থাকবে এবং আগামী প্রজন্ম একটি ইনসাফপূর্ণ, বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র উত্তরাধিকার হিসেবে লাভ করবে। এজন্য আমাদের অবশ্যই মহান রবের বিধানের দিকেই ফিরে যেতে হবে। তাই আসুন, দ্বীন কায়েমের সংগ্রামী কাফেলা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হই এবং সবার কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন, ইনসাফপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশ নেই।
গণসংযোগ মাসের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুস সাত্তার সুমন বলেন, বিভিন্ন স্পটে আমরা বুথ বসিয়ে দাওয়াতি কাজ ও বই বিতরণ করেছি।
একই ধরনের তথ্য জানিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে একযোগে দাওয়াতি কাজ চালানো হচ্ছে।
‘ এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বিষয়ে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনমত গঠন করা হয়। তিনি বলেন, মহানগর উত্তরের বিভিন্ন স্থানে পথসভা, এলাকাভিত্তিক গ্রুপ করে বাসা, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে নেতারা দাওয়াতি সামগ্রী বিতরণ করেন। এর মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতিও বেশ এগিয়ে নিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।