উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মাওলানা সাইয়েদ সালমান হুসাইনি নদভী ইন্তেকাল করেছেন। সোমবার ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের লক্ষ্ণৌর নিজ বাসভবনে তার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
মাওলানা সাইয়েদ সালমান হুসাইনি নদভীর ইন্তেকালের খবরে ভারতসহ উপমহাদেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ধর্মীয় ও একাডেমিক অঙ্গনে তার মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন আলেম-উলামা ও শিক্ষাবিদরা।
তার ইন্তেকালে গভীর প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় তিনি বলেন, উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার, বহু গ্রন্থপ্রণেতা, দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার দাওয়াহ ও শরিয়াহ অনুষদের সাবেক ডিন এবং জামেয়া ইমাম আহমদ ইবনে ইরফান শহিদের প্রেসিডেন্ট মাওলানা সাইয়েদ সালমান হুসাইনি নদভীর ইন্তেকালে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, মাওলানা সালমান হুসাইনি নদভী (রহ.) ছিলেন সমকালীন মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও সাহসী কণ্ঠস্বর। হাদিস গবেষণা, ইসলামি ধর্মতত্ত্ব ও দাওয়াহর ময়দানে তার অনন্য অবদান বিশ্বজুড়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি সারাজীবন সত্যের পক্ষে এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও অধিকার আদায়ে আপসহীন ভূমিকা পালন করে গেছেন। দেশ-বিদেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও আলেমের জন্য তিনি ছিলেন এক আলোকবর্তিকা ও যোগ্য পথপ্রদর্শক। তার ইন্তেকালে মুসলিম উম্মাহ এক মহান অভিভাবক ও জ্ঞানসাধককে হারাল। তার এই আকস্মিক বিদায় সমগ্র ইসলামি বিশ্বের জন্য, বিশেষ করে এ উপমহাদেশের ধর্মীয় ও একাডেমিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দরবারে দোয়া করছি- তিনি যেন মরহুমের সমস্ত দ্বীনি খিদমত কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করেন। একই সঙ্গে আমি তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, সহকর্মী, ছাত্র ও দেশ-বিদেশের অসংখ্য গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করেন, আমীন।