হোম > রাজনীতি > জামায়াত

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলায় জড়িত ছাত্রদল নেতাদের বিচার দাবি শিবিরের

স্টাফ রিপোর্টার

চট্টগ্রামে সরকারি সিটি কলেজে শিবির নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর মঙ্গলবার ছাত্রদলের হামলায় জড়িতদের বিচার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে গুন্ডা ও টোকাইদের নিয়ে এই ‘সশস্ত্র হামলা’ চালানো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে এ ধরণের হামলা চালানো হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এই অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, চট্টগ্রামে সরকারি সিটি কলেজে মঙ্গলবার সকাল থেকেই অসংখ্য ছাত্রকে অতর্কিত কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে দাওয়াতি কাজের অংশ হিসেবে শিবির পোস্টারিং, বিভিন্ন গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিল। ছাত্রদলও পোস্টারিংসহ নানা কর্মকান্ড চালাচ্ছে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে শিবিরের ব্যানার-ফেস্টুনকে তারা ছিড়ে ফেলেছে। সোমবার জুলাই নিয়ে গ্রাফিতি মুছে দিয়ে নানা আপত্তিকর শব্দ তারা ব্যবহার করছে। এসব বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে এবং সাধারণ ছাত্ররা অনলাইনে লেখালেখি করেছে।

শিবির সভাপতি বলেন, মঙ্গলবার সকালে আমাদের দায়িত্বশীলরা প্রশাসনের কাছে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন। সেখান থেকে দায়িত্বশীলরা ফিরে আসার সময় ভবনের নিচে অবস্থানরত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। শিক্ষকরা এসে আমাদের সরিয়ে দেন। এসময় সেখানে অবস্থানরত ছা্ত্রদল আমাদের ওপর কিছুটা হামলা করে। এতে কয়েকজন আহত হন। শিক্ষকদের গায়েও আঘাত লাগে। সেখান থেকে আমাদের কর্মীরা বের হয়ে যান। এ হামলার প্রতিবাদে বিকেলে কলেজের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই মিছিলের পেছন থেকে আগে থেকে অবস্থানরত ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এতে আমাদের অসংখ্য কর্মী আহত হন। একজনের পায়ের কব্জিপর্যন্ত প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের হামলার সময় পুলিশ প্রশাসন কোন সহযোগিতা করেনি। তারা আওয়ামী আমলের মত আচরণ করেছে। ক্যাম্পাসে অস্ত্র নিয়ে তারা আবার আওয়ামী রাজনীতি ফিরিয়ে আনছে। ছাত্রলীগের মত হেলমেট পরে ও হাতে অস্ত্র নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে ছাত্রদল। অসংখ্য ছবিতে তার প্রমাণ আছে। ভাড়াটে গুন্ডা ও টোকাইদের নিয়ে আসা হয়েছে, ক্যাম্পাসকে অস্থির করার জন্য।

শিবির সভাপতি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী আমাদের দাবি ছিল- ক্যাম্পাসে সহাবস্থান। কিন্তু ঢাকার তেজগাঁও কলেজে সাকিববে হত্যা করে ছাত্রদল, তার বিচার আজও বিচার হয়নি। কুয়েটে অস্ত্র উচিয়ে প্রকাশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩১ জনকে বিএনপি নেতাকর্মীরা হত্যা করেছে, যার জন্য একজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। প্রায় শতাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন দখল-চাঁদাবাজি এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। প্রতিকার চাইতে গেলে মামলা নিচ্ছে না। তারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাবসন করছে। এভাবে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অছাত্রদের বিশেষ বিবেচনায় হলে সিট দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত করার একটি কারণ হিসেবে দেখতে পাচিছ, রাষ্ট্র পরিচালনায় তারা শতভাগ ব্যর্থ। তেল সংকট ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। সরকারের সমালোচনা করায় ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রোম্যাক্ম ভার্সনে পরিণত হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ছাত্রদল জুলাইকে ধারণ করে না, এজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন জায়গায় তারা এই অপকর্মগুলো করছে। ছাত্রলীগ যারা করত, তারা এখন ছাত্রদলে আছে। এই গুপ্ত বাহিনী ছাত্রদলের নাম ভাঙ্গিয়ে নানাভাবে অপকর্তে লিপ্ত আছে।

তিনি বলেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো কোন নোটিশ ছাড়াই বিএনপির পদধারীদের ভিসি করা হয়েছে। প্রশাসনিক পদগুলোতে দলীয়করণ করা হচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নিতে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

শিবির সভাপতি বলেন, আমরা সরকারের শুভাকাঙ্খী হতে চাই। সব ভাল কাজে সহযোগিতা করবে ছাত্রশিবির। তবে কোন অন্যায় বরদাশত করবে না।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা ছাত্রদলকে সহাবস্থানের নতুন রাজনীতিতে ফেরার আহবান জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সাড়া দেয়নি। আমাদের অন্তত ২০টা অনুষ্ঠানে দাওয়াত তাদের দিলেও আসেনি। দেশপ্রেম তাদের মধ্যে নেই। তারা দখলদারিত্ব-চাঁদাবাজিতে অভ্যস্ত। আমরা বলেছি, সেই রাজনীতি চলবে না। এজন্যই হয়তো আতে ঘা লেগেছে। তারা ভরাডুবির ভয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন চায় না। এই রাজনীতি থেকে ফিরে আসার আহবান জানাই।

সাংবাদিকদের প্রশ্বের জবাবে শিবির সভাপতি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে জুলাইয়ের গ্রাফিতিতে কালার করে গুপ্ত শব্দ লিখেছে ছাত্রদল। এ বিষয়ে ভিডিও আছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ট্রল করছে।

তিনি বলেন, তাদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতি সবসময় আছে। তারা নিজেরা হামলা করে আবার নিজেরাই মিছিল করছে। ঢাকার মিরপুর কলেজ, কুষ্টিয়া কথিত পীরের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে এ ধরণের হামলা করে শিবিরের ওপর দায় চাপিয়েছে।৫ আগস্টের পর ছাত্রদলের ৪০ টির মত কমিটি দেওয়া তালিকায় ছাত্রলীগ আছে। হেলমেট বাহিনীর সদস্যরা আছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিবির সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামে শিবির কর্মীদের ওপর নৃশংস হামলায় জামায়াতের নিন্দা

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সংসদে জাতির প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন ১১ দলের নারী সদস্যরা

সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী যারা

ভিন্নমত দমনে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনায় ছাত্রশিবিরের উদ্বেগ

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাহবুবা হাকিম সম্পর্কে যা জানা গেল

সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী হলেন যারা

সংরক্ষিত নারী আসনে জুলাই শহীদের মাকে মনোনয়ন দিল জামায়াত

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

সরকারের ওপর ভুতে আছর করেছে: সেলিম উদ্দিন