হোম > রাজনীতি > জামায়াত

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে উচ্চ পর্যায়ের সেল গঠনের প্রস্তাব বিরোধী দলের

সংসদ রিপোর্টার

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে উচ্চ পর্যায়ের সেল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী দল। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে চায় উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সমস্যা সমাধানে একটি দীর্ঘ মেয়াদে একটি কার্যকর জ্বালানি সেল করা দরকার। সরকার আমাদের সহযোগিতা চাইলে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিমকে সরকারের সাথে যুক্ত করে দিতে পারি। একসাথে তারা দেশের জন্য কাজ করবে। তবে আমাদের না দিলেও আপত্তি নেই। আমরা সমস্যার সমাধান চাচ্ছি। এ সময় তিনি জ্বালানি খাতের জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা উপস্থাপন করার আহ্বান জানান। এদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। তিনি বলেন, বিগত দিনের ভুল নীতি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে আগামী বছর বর্তমান সময়ের তুলনায় কিছুটা স্বস্তি, ২০২৮ সালে পরিস্থিতির আরও উন্নতি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। তিনি বিরোধী দলের প্রস্তাবে সরাসরি সাড়া না দিয়ে তাদের কোন প্রস্তাব থাকলে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার অনুরোধ করেন।

সোমবার ৬৮ বিধির সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ বিষয়ে জরুরি গণ-গুরুত্বসম্পন্ন ৬৮ বিধির নোটিশটি তোলেন। বিষয়টির ওপর প্রায় দেড় ঘণ্টার আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের ৫ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে আগামী বছর যেন এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা তার থেকে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করতে পারি। ২০২৮-এ দাঁড়িয়ে যেন তার থেকে আরও একটু বেশি স্বস্তি অনুভব করতে পারি এবং ২০৩০ সাল নাগাদ যেন আমাদের মধ্যে কোনো সংকট কাজ না করে সে ব্যাপারেই আমরা স্বল্প মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি যার নামই হচ্ছে "উই হ্যাভ এ প্ল্যান"।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বড়পুকুরিয়ায় অতিরিক্ত কয়লা থাকলেও দেশের অন্য প্রান্তে তা পরিবহনে ব্যয় বেশি হওয়ায় এখনই তা অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার লাভজনক নয়। তবে ভবিষ্যতে উত্তরাঞ্চলে পরিবেশসম্মতভাবে কয়লা উৎপাদন বাড়ানো গেলে তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নিতে প্রয়োজনীয় রেল অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানে গত ২৪ মে বিডিং রাউন্ড চালু হয়েছে, যার মেয়াদ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোকে এতে অংশ নিতে সরাসরি যোগাযোগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; এর মধ্যে ৩০টি কূপের খনন চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩১ সালের মধ্যে এসব কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, বিপরীতে সর্বোচ্চ সরবরাহ করা যাচ্ছে ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ ঘাটতি মোকাবিলায় চলতি বছর অন্তত দুটি নতুন এফএসআরইউর চুক্তি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আরও একটি এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এফএসআরইউ থেকে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। মাতারবাড়ীতে ল্যান্ড-বেজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং এজন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রামপাল কেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট দ্রুত চালুর আশা করা হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ পাঁচটি কেন্দ্র থেকে ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী ছয় মাসে রুফটপ সোলার স্থাপনে মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫৫ পয়সায় কেনার সুযোগ রাখছে। মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ও উইন্ডমিল স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ১৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকারের লক্ষ্য—২০২৭ সালে কিছুটা স্বস্তি, ২০২৮ সালে আরও স্বস্তি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি সংকটমুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করা।

মিটার ভাড়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিটার ভাড়া যদি মওকুফ করে দিতে পারতাম আমাদেরও ভালো লাগত। এটা নিয়ে আমরা যখন দীর্ঘ পর্যালোচনা করেছি এই মিটার ভাড়া যদি মওকুফ করতে হয় তাহলে ২৯ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, কিভাবে মিটার ভাড়া সময়ের সাথে সাথে কমিয়ে আনা যায় সে ব্যাপারে আমাদের বিশ্লেষণ চলমান রয়েছে।

ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে বলেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কিছুটা সমস্যা ছিল না কিংবা কিছুটা সমস্যা নেই এ কথা আমরা কখনো বলিনি। বরঞ্চ বলেছি যে সমস্যাগুলো আছে সে সমস্যাগুলো অ্যাড্রেস করবার জন্য আমরা প্রতিটি বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে আমরা ফোকাল পয়েন্ট অ্যাসাইন করেছিলাম এবং সেখানে আমরা একটি হট নাম্বার দিয়েছিলাম আলাদা ডেস্ক স্থাপন করেছিলাম যে ডেস্ক আজও কার্যকরী।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার অনেক আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আশাবাদী থেকে তার বাস্তবায়ন চাই। কিন্তু আশাহত হই এই সংসদে দেওয়া আশ্বাসের বাস্তবায়ন আমরা দেখি না। বলা হয়েছিল মিটার চার্জ ডিমান্ড চার্জ নেওয়া হবে না। কিন্তু সেটা নেওয়া তো হচ্ছে। এই সংসদে জানানো হয়েছিল খুনি বেনজীরের গ্রেফতারের খবর। কিন্তু হাতের গ্রিফ থেকে কোন ফাঁকে উনি চলে গেলেন। আমরা সক্ষম হয়ে থাকলে তিনি বেরিয়ে গেলেন কীভাবে?

সরকার বিদ্যুৎ-জ্বালানির সমস্যার সমাধানে যেসব উদ্যোগের কথা বলেছেন তার সবই ভবিষ্যত উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ভুতুড়ে বিলের কোন সমাধান হয়নি। জবাবদিহিতার জায়গাটা আমরা স্বচ্ছ করতে না পারলে প্লান যতই বড় হোক তার সবই ব্যর্থ হবে।

তিনি বলেন, এখানে বলা হয়েছে সাবেক সরকার পোষ্যদের লালন করার জন্য অনেকগুলো সুযোগ করে দিয়েছিল। আমরা নতুন করে কোন পোষ্যদের হাতে পড়তে চাই না। দুষ্টচক্র থেকে বের হয়ে না এলে জাতি কোনোদিন স্বস্তি পাবে না।

আমরা সংসদে বসে নীতি তৈরি করে নিজেরাই তা লঙ্ঘন করি অভিযোগ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, এই জায়গা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। জাতিকে যে আশা দেওয়া হচ্ছে তার বাস্তবে রূপ দেখতে চাই।

তিনি বলেন, অতীতকে শুধু দোষারোপ না করে তার সমাধানে না গেলে তো হবে না। নতুন করে এ ধরনের আরো দুষ্টচক্র তৈরি হবে যে, এ ধরনের কাজ করা যায়। কোন আইনকানুন মানতে হয় না। আমরা এই জায়গাটার বন্ধ চাই। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় সরকারি যে অর্থ খরচ হচ্ছে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। পারিবারিক প্রতিষ্ঠান- যেখানে সরকারি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট আসে; সেই বিষয়গুলো জড়িয়ে যাচ্ছে।

সরকারি দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আসুন আমরা এই সংসদে সিদ্ধান্ত নিই। এখন থেকে নিজে আর নিজের ভাই ভাতিজা নয়। যা করবো আমরা জাতির জন্য করবো। এটা কেবল উদাহরণ তৈরি করবে না। আগামীর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে।

সরকার ইতোমধ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর সবগুলো আমাদের দৃষ্টিতে দেশের স্বার্থে হয়নি। দেশের স্বার্থের বিপক্ষেও নিয়েছেন এবং নিয়েছেন বেরি রেডিক্যালী ও অ্যাগ্রেসিভলি সেই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে। তাহলে জনস্বার্থের এই পদক্ষেপগুলো নিতে আমাদের দেরি হচ্ছে কেন? আমরা কেন চাদাঁবাজদের বলে দিচ্ছি না যে তোমাদের কোন স্পেস আমাদের এখানে নেই। আমরা কেন দুর্নীতিবাজদের স্পষ্ট বার্তা দিতে পারছি না।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশংসা করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা প্রথম দিন থেকেই দেখে আসছি-- আমাদের তেলের সংকটের কারণে লংমার্চের তেল নিয়ে অনেক উদ্বেগ প্রকাশ করা হলো। সেই তেলের সংকট হবে না। যদি মুখের তেলটা বন্ধ হয়। না হলে অসংখ্য জায়গায় সংকট হবে। অতীতেও আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সময় দেখেছি। সবাই মিলে বলতো নেত্রী একমত পুত-পবিত্র। বাকি আশপাশের লোকেরা সমস্যা। কিন্তু নেত্রী ফ্লাই করে চলে গেলেন তখন বলতে শুরু হলো- আশপাশের লোকগুলো ভালো ছিলো। নেত্রীর জ্বালায় দেশটা ধ্বংস হয়েছে। এটা হচ্ছে বাস্তবতা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতা কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়। বিরোধী দলও কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়। আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি অন্তত সংকটটা স্বীকার করা হচ্ছে। কিন্তু এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলা হয়েছিল কোন সংকট নেই। যার কারণে আজকের এই সমস্যা হয়েছে। এ সমস্ত হাস্যকর কথা বলে জাতির সাথে তামাশা করা উচিত নয়। যেটা আছে সেটা নেই তা জাতির কাছে স্বীকার করা উচিত।

তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের অনেকে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পায় না। আমরা লংমার্চের সময় প্রথম যাত্রা করার সময় বিদ্যুৎ পেয়েছি। এরপর সীতাকুন্ডে পৌঁছানোর পর দ্বিতীয়বার বিদ্যুৎ পেয়েছি। মাঝখানে হয়নি। এটা সারা দেশের চিত্র।

সরকার আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমাদের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিমকে সরকারের সাথে যুক্ত করে দিতে পারি। একসাথে তারা দেশের জন্য কাজ করবে। এখানে ক্রেডিট এবং ডিসক্রেডিটের কোন বিষয় নেই। কোন ক্রেডিটের বিষয় থাকলে সরকারই পুরোটাই নিয়ে নিক। আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা চাই সমস্যার সমাধান হোক। আমরা কোন ক্রেডিটের দাবিদার হতে চাই না। আমরা সমস্যার সমাধান চাচ্ছি।

এজন্য একটি কার্যকর সেল করা দরকার। যে নামেই করেন। এটা কোন শর্টটার্মের জন্য হবে না। সেই সুযোগ সৃষ্টি করে আমরা যদি সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে সামনে এগোতে পারি বিশ্বাস তাহলে দেশের মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। মানুষ অন্তত বলবে সরকার ও বিরোধী দল আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছে।

আমাদের এই প্রস্তাব সরকারের প্রতি থাকলো। তারা গ্রহণ করতে চাইলে করবে। সরকার একাও যদি করেন আমাদের আপত্তি নেই। আমরা সমস্যার সমাধান চাই। সমাধানের ক্ষেত্রে অংশীদার হতে পারলে আমরা খুশি হবো। কৃজ্ঞত হবো যে, জাতির জন্য ভালো কিছুতে আমরা অংশ নিতে পারলাম। অংশ নিতে না পারলেও চাই এই যন্ত্রণা থেকে জাতি যেন মুক্ত হয়। এক্ষেত্রে জবাব দিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক। কোন একপক্ষীয় নয়, আমাদের সামনে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হোক। যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন মানুষ দেখবে। সুবিধা ভোগ করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই উপসাগরীয় যুদ্ধ শুরু হয়। তারপরই এই জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। আমরা কৃষকের কথা চিন্তা করে প্রথমে জ্বালানির দাম বাড়াইনি। পরে বিদেশে যাতে পাচার না হয় তারজন্য সামান্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। আওয়ামী দুষ্টগুলোতে প্রতিপালন ও বিদেশ নির্ভরতার জন্য সিংগেল সোর্সের গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হয়েছে। তাদের দলের টাইকুনগুলোতে পালার জন্যই এটা করা হয়েছে। দেশের অনশোর ও অফশোরে কোন অনুসন্ধান করা হয়নি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অনশোর ও অফশোর সব জায়গায় কূপ খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধানে আমরা এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। আমরা গ্যাসের উপর নির্ভর করবো না। আমরা বড় পুকুরিয়ায় ৬২০ মেগাওয়াটের নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে চাই, যেটা আমাদের দেশের কয়লা দিয়ে চলবে। সেখানকার বিদ্যমান কেন্দ্রকে আরো সংস্কার করে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা যে ভোগান্তি মোকাবিলা করছি এই সমস্যা আমরা সৃষ্টি করিনি। এই ভোগান্তি বৈশ্বিক সমস্যা। এই সমস্যা সৃষ্টি করে গেছে বিগত ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা। বিগত ১৭ বছরের জঞ্জাল এই সমস্যা তৈরি করে গেছে। জ্বালানি কোন ব্যবস্থা না করেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করেছে।

আদানীর সাথে চুক্তি বাতিল বিষয়ে বিরোধী দলের দাবির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি, এটা ওভার প্রাইজস। জাতির পয়সা নষ্ট করে কিছু বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে বর্ডারের ওপাশ থেকে। রাতারাতি কোন দেশের সাথে চুক্তি বাতিল করা যায় না। এটা বন্ধ করা হলে আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধু হয়ে যাবে। এমনতিতেই আমাদের বিদ্যুতের ক্রাসিস রয়েছে। এটা বন্ধ করতে গেলে আরো ১৬০০ মেগাওয়াট আমরা পাবো না। এটা কী আমরা এফোর্ট করতে পারবো? রাষ্ট্রপরিচালনায় অনেক সময় ধৈর্য সহকারে যেতে হয়।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, জ্বালানি নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল কতিপয় পোষ্য ব্যক্তির সুবিধান জন্য। এজন্য দেশের গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং আমদানি নীতি জ্বালানি নীতি করে তার উপর নির্ভর করে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে। এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থকে রক্ষা করে গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

জামায়াতে ইসলামীর নাজিবুর রহমান বলেন, জ্বালানি-বিদ্যুতের সমস্যা সংকেটর জন্য নয়। সমস্যা ব্যবস্থাপনায়। মিটার চার্জ ও ডিমান্ড চার্জকে ডিজিটাল চাঁদাবাজি আখ্যায়িত করে তা বন্ধের দাবি তোলেন তিনি।

তিনি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তত্ত্ববধায়নে একটি জরুরি জ্বালানি সেল গঠনের প্রস্তাব করেন। জ্বালানি সম্পর্কিত সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় করার কথা বলেন।

নাজিবুর রহমান দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থের নিশ্চয়তা, তিন মাসের সমপরিমাণ জ্বালানি মজুদ, বিদ্যমান জ্বালানি ও বিদ্যুতের অবকাঠামোর পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত এবং দীর্ঘ ও মধ্য মেয়াদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেন।

সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

‘বাবাই আমাদের মাকে মেরে ফেলেছে’—দুই শিশুর কান্না

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের চাপ উপেক্ষা করে কেন ফিলিস্তিনের পক্ষে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাকসুর দাবিতে থিসিস ভাতা ১০ গুণ বাড়ল

জাহাজভাঙা শিল্পে এককালীন ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে ছাত্রশিবিরের তীব্র প্রতিবাদ

ইমাম-খতীবদের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ কাজের প্রত্যয়

হেলেনার রিকশায় দুই নারী কর্মকর্তা, মিলল নতুন রিকশার আশ্বাস

একীভূত ৫ ব্যাংকে আমানত তোলার চাপ কম, এক দিনে উত্তোলন ২৫০ কোটি টাকা

সিএনজির ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে চবির প্রধান ফটকে চাকসুর তালা