হোম > রাজনীতি > জামায়াত

গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করার সুযোগ দেব না: বিরোধীদলীয় নেতা

স্টাফ রিপোর্টার

কাকরাইলে ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে বিরোধীদলীয় নেতা। ছবি: সংগৃহীত

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করতে দেব না। জনগণের এই রায় বৃথা যাবে না ইনশাআল্লাহ। সংসদে সবাই মিলে চিৎকার দেব, রাজপথের আন্দোলনও আরও বেগবান হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এ দেশকে আমরা ভালোবাসি, কোনো অশুভ শক্তিকে মাঝখান থেকে খেলতে দেব না। নাক-কান সজাগ রেখেই আমাদের সব কাজ চলবে এবং সময়মতো জনগণের আকাঙ্ক্ষাও পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা নতুন বা পুরানো কোনো ফ্যাসিবাদ মেনে নেব না।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মাল্টিপারপাস হলে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে এসব কথা বলেন। ‘অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং সব গণহত্যার বিচারের দাবিতে’ এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। প্রবন্ধ পাঠ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

এ সময় জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে-অভিযোগ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা সংযত হোন, নইলে জনগণের উত্তাল ঢেউ আর জোয়ারে সব খড়কুটা ভেসে যাবে। তিনি বলেন, আইন আমরা হাতে তুলে নেয়ার পক্ষে নই, তবে কেউ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে জুলাইকে অপমান করার দু:সাহস আর দেখাবেন না। দু:সাহস দেখালে এই যুব সমাজ ও জনতা এখনো ঘুমিয়ে যায়নি। যারা সশস্ত্র বাহিনীর সামনে খোলা হাতে দেশপ্রেম নিয়ে দাঁড়াতে পারে, আজও তারা দাঁড়িয়ে আছে। আমরা ঘুমাইনি, আমরা ঘুমাবো না।

গণভোট নিয়ে প্রতারণার বিষয়ে জাতীয় সংসদে আত্মস্বীকৃত সাক্ষী পাওয়া গেছে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হায়া শরম থাকলে এটা হওয়ার কথা ছিল না। তবে, ভালো হয়েছে, জাতি চিনে ফেলছে, এখন আর অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ সংসদে যা বলা হয় কার্যপ্রণালিতে তা লেখা হয়ে যায়, ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। যেহেতু এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হয় নাই, কাজেই এই আত্মস্বীকৃতিও রেকর্ড হয়ে থাকল।

তিনি বলেন, তারা (সরকারি দল) এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- জুলাই সনদ একটা অন্তহীন প্রতারণার দলিল, আর এই সংসদেই দাঁড়িয়ে তারা আবার প্রমাণ করলেন তারাই জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করেছে। তাদের কাছে তাদের আপন সঙ্গীদেরও রক্তের কোনো মূল্য নেই। যদি সে মূল্য থাকতো তাহলে আগে দেশবাসীর পাশে দাঁড়াতো। নির্বাচন কার জন্যে, সরকার কার জন্যে? জনগণের জন্যে। সেই জনগণ প্রমাটাইজ, আহত, দারুণ কষ্টে আছে। তাদের কষ্টে পাশে না দাঁড়িয়ে আমাদেরকে অপবাদ দেওয়া হয়েছে যে, আমরা নির্বাচন চাই না। নির্বাচন না চাইলে পরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলাম কিভাবে?

জামায়াত আমির বলেন, আমরা নির্বাচন চেয়েছি, তবে আমরা নির্বাচনের নামে ষড়যন্ত্র চাই নাই। ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, আমরা নিন্দা জানাই। দল-নিরপেক্ষ পরিচয়ের অন্তর্বর্তী সরকারও এই ষড়যন্ত্রে শরিক ছিল। নিজেরাই তারা স্বীকার করেছে, ষড়যন্ত্র করে ১১ দলকে হারানো হয়েছে।

তারপরও এই রায় মেনে নেয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাড়ে ১৭ বছর পরে এই নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের ফসল হিসেবে যদি আমরা সেদিন রিভোল্ট করতাম, এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করতাম, তাহলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে এর শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো কেউ জানে না। ১১ দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু একইসঙ্গে ১১ দল এটাও বলেছে, নির্বাচনের এই ষড়যন্ত্রের ফল মেনে নিলেও আমরা গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করতে দেব না।

সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিশন গঠনে এ পর্যন্ত ১০-১১ বার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংশোধনের জন্য কমিটি লাগে না। আর সংশোধনী কমিশনের জন্য গণভোট হয়নি। গণভোট হয়েছে দেশের পচা রাজনীতির আমূল পরিবর্তন সাধনের জন্য। ফ্যাসিবাদের মূল কেটে দেওয়ার জন্য। আমরা সেই সংস্কার চাই।

তিনি বলেন, বিএনপি ওয়াদা থেকে সরে গিয়েছে। আমরা বেঈমানি করতে পারব না। আমরা জাতিকে কথা দিয়েছিলাম, সেই জায়গায় আমরা আছি এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী। আমরা গভীর আস্থাশীল। জনগণের এই রায় বৃথা যাবে না ইনশাআল্লাহ। সংসদে সকলে মিলে চিৎকার দেব। রাজপথের আন্দোলন চলছে, এটা আরো বেগবান হবে।

তিনি বলেন, লোহা গরম হয়ে লাল হতে সময় লাগে। কিন্তু লাল যখন হবে, তখন জনগণ মুগুর নিয়ে ঠিকমতোই পিটাবে ইনশাআল্লাহ।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে মজলুম ছিলাম, একসঙ্গে জেল খেটেছি, একসঙ্গে রাজনীতি করেছি, জেল-জুলুম সহ্য করেছি। সরকার গঠনও করেছি। কিন্তু এখন কোন কোন বন্ধুর বক্তব্য ভাষায় মনে হয়, তারা জীবনেও আমাদেরকে দেখেননি। ভুলে গেছেন এততাড়াতাড়ি? স্মরণ হতে সময় লাগবে না। একটা ঝাঁকুনিই যথেষ্ট।

মান-অভিমান ভুলে গিয়ে জনগণের এই রায়কে সম্মান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাহলে জনগণের কাছে সম্মানিত হবেন। সম্মান না করলে যেখানে স্পিকারের অনুমতি লাগে না, ওখানে বক্তব্য হবে।

জেল-জুলুমের ভয় না দেখানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদে একজন পরিণতির কথা বলেছেন, আমরা বলেছি, ৫৫ বছর পরিণতি দেখে দেখেই বাংলাদেশ এই জায়গায় এসেছে। সর্বোচ্চ পরিণতি ফাঁসির তক্তা অথবা একটা গুলি। আমরা দেশ-জাতির ও আল্লাহর জন্য প্রস্তুত আছি। আমাদের লড়াই চলবে, ইনশাআল্লাহ জনগণের বিজয় হবে।

তিনি বলেন, আমাদের আলোচনা চলবে, সরকারের ন্যায্য কাজে সহযোগিতা করবো। কিন্তু জনগণের অধিকারের বিষয়ে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের রায়ের অপমান আমরা সহ্য করবো না। জনগণকে নিয়ে বাংলাদেশ নিয়েই বিজয় হবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের কোনো মামু বাড়ি নেই, এই বাংলাদেশ নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটাকরি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার প্রমুখ।

এএস

প্রাথমিকে বিশুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত শেখাতে নূরানী শিক্ষক নিয়োগের দাবি জামায়াত এমপির

পুরো চট্টগ্রাম আজ পানিতে ভাসছে: সংসদে শাহজাহান চৌধুরী

বিপ্লব পরবর্তী পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

এনসিপির সমাবেশে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে

ফেসবুকে সুরা মুহাম্মদ-এর ২৪ নম্বর আয়াত দিয়ে কী বার্তা দিল জামায়াত

গুলিস্তানে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

সরকারের নীরবতায় দেশ চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্য

গণভোটের গণরায় নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র জাতি বরদাশত করবে না

জামায়াতের বড় চ্যালেঞ্জ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সামাজিক বাধা: ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াত নেত্রী আনজুমান আরার দাফন সম্পন্ন