জামায়াত আমির
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে— আমরা এই নীতিতে বিশ্বাস করি না। শ্রমিকদের সন্তানদের প্রধানমন্ত্রী হতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সে জন্য আমরা চাই শ্রমিকদের ঘর থেকেও তাদের সন্তানেরা প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসুক। সেভাবেই তাদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। আর এই দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
তিনি শনিবার দুপুরে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শ্রমিকেরাও এ দেশের নাগরিক। তারাও আপনাদের ভোট দিয়েছে। তাই শ্রমিকদের সব অধিকারের বিষয় মালিকদের ঘাড়ে ঠেলে দিবেন না। রাষ্ট্রকেও এ বিষয়ে দায়িত্ব নিতে হবে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের সুচিকিৎসার জন্য শ্রমঘন এলাকায় সাধারণ হাসপাতালের পাশাপাশি মানসম্মত বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তুলতে হবে। চিকিৎসার ব্যয়ভার মালিকদেরও বহন করতে হবে। সর্বোপরি শ্রমিকের সন্তানদের মানবিক হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রকেই দায়িত্ব নিতে হবে।
জামায়াত আমির বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধ, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও শ্রমিকদের বিশেষ ভূমিকা ছিল। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে জীবন দেওয়া ৬২ ভাগই শ্রমিক। তিনি বলেন, শ্রমিকদের চাহিদা ও দাবি খুব সামান্য। কিন্তু কোনো সরকারই তাদের সেই দাবি পূরণ করতে পারেনি। কারণ সরকারের লোকেরা সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্ম নিয়েছে। তারা শ্রমিকদের ব্যথা বুঝবে কীভাবে?
মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শকিফুর রহমান বলেন, মালিক-উদ্যোক্তা না থাকলে শ্রমিকেরা কাজ পাবেন না। আবার শ্রমিক না থাকলে মালিকেরা শিল্প চালাতে পারবেন না। এ জন্য আমরা মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বয় করতে চাই। মালিক বাঁচলে শ্রমিক বাঁচবে। আবার শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। দুটোকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বিদায়ি সভাপতি আ ন ম শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি আতিকুর রহমান প্রমুখ।