পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণিল শোভাযাত্রা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বাংলামোটরের নেভি গলি থেকে শুরু হয় এ শোভাযাত্রা। এরপর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড় ঘুরে বাংলামোটর হয়ে আবার নেভি গলিতে এসে শোভাযাত্রা শেষ হয়। এনসিপির সাংস্কৃতিক সেল এ শোভাযাত্রার আয়োজন করে।
রঙিন বৈশাখী পোশাক পরে ঢাকের বাদ্যের তালে তালে সড়কে হেঁটে হেঁটে নতুন বছরকে স্বাগত জানান এনসিপির নেতাকর্মীরা। শোভাযাত্রা থেকে তাঁরা সম্প্রীতির বার্তা দেন।
শোভাযাত্রা ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করে এনসিপি৷ এ দিন দুপুর তিনটার দিকে এনসিপির সংস্কৃতি সেলের আয়োজনে নেভি গলিতে বৈশাখী মেলা শুরু হয়। সেখানে বায়োস্কোপ, মাটির তৈজসপত্রের দোকান ছাড়াও ফুচকাসহ বিভিন্ন খাবারের দোকান বসে। সেখান থেকে ৩টা ৪০ মিনিটে শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রার প্রথম তিন সারিতে ছিলেন এনসিপির নেত্রীরা, এরপর ছিলেন নেতারা। নেত্রীদের অধিকাংশই রঙিন শাড়ি পরেছিলেন। অনেকের হাতে ছিল কুলা। আর পুরুষদের অনেকে সাদা পাঞ্জাবির পাশাপাশি মাথায় পরেছিলেন নতুন গামছা। শোভাযাত্রায় অনেকের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। এর কোনোটিতে লেখা ছিল ‘নতুন বছরের আলোয় মুছে যাক সব বিভাজন, গড়ে উঠুক ভালোবাসা আর সম্প্রীতির বন্ধন’, আবার কোনোটিতে লেখা ছিল ‘ঢাকের তালে উঠুক ডাক, সকল গ্লানি মুছে যাক’।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নেভি গলিতে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। এ সময় তিনি বলেন, এনসিপি বাংলা বছরের প্রথম দিনে বাংলাদেশে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা এবং দেশকে সুন্দর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা জানিয়ে নতুন বছর শুরু করছে। সবাইকে এই লড়াইয়ে বিগত দিনের মতো পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে সেখানে উপস্থিত হন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। আরো ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠের শিল্পী আশিক ও তাঁর দল এবং বাউল কাজল দেওয়ানসহ আরও বেশ কয়েকজন শিল্পী।
এনসিপির নেতৃবৃন্দ পরে মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন। এসময় তারা সিঙাড়া, ফুচকা, পুডিং, জিলাপি ও মুড়িমুড়কি খান। এ সময় সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে হালখাতা খুলে যেভাবে সব বকেয়া পরিশোধ করা হয়, সেভাবে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার যেন জাতীয় জীবনের সব বকেয়া পরিশোধ করে। এই বকেয়া হচ্ছে জুলাই সনদ। সংস্কারের বকেয়া রেখেই সরকার নতুন বছরের হালখাতা খুলেছে। অচিরেই গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, নির্বাচন হয়েছে, সবকিছুই হয়েছে। সরকার গঠিত হয়েছে, বিরোধী দল হয়েছে। কিন্তু জনগণ সংস্কারটা পায়নি। ফলে সংস্কারের বকেয়া রেখেই সরকার হালখাতা খুলেছে। নতুন সরকার নতুনভাবে কার্যক্রম করছে। ফলে জনগণের বাকি রয়ে গেছে রক্তের দেনা, রক্তের ঋণ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার, এই যে নতুন বছর শুরু হচ্ছে, এই নতুন বছরে আমরা সেই বকেয়া পরিশোধ করব। জুলাই সনদকে যারা নানাভাবে অমান্য করার চেষ্টা করছে, গণভোটকে অমান্য করার চেষ্টা করছে, গণভোটকে অশ্রদ্ধা করছে, গণভোটের রায় মানতে চাইছে না, আমরা তাদের বলতে চাই, অচিরেই গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেছে। আমরা আশা করব, দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুনভাবে সেগুলোকে বিল হিসেবে এনে আইনে পরিণত করা হবে।