জাতীয় জনজাতি জোটের আত্মপ্রকাশ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন হিসেবে দলিত, হরিজন, তফসিলি ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ‘জাতীয় জনজাতি জোট’-এর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এতে ডেভিড রাজুকে আহ্বায়ক ও কৈলাশচন্দ্র রবিদাসকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে।
দলিত, হরিজন, রবিদাস ও তফসিলি জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকার, সামাজিক মর্যাদা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাজেন্দ্র কুমার দাস, যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক বরাই, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব অরুণা রানী দাস, যুগ্ম সদস্য সচিব নিপু দাস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় দাস।
অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে তফসিলি ও দলিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল—সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা। স্বাধীনতার পর আমাদের অর্থনীতি বড় হয়েছে, কাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা অগ্রসর হয়েছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের অঙ্গীকারের জায়গায় সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে দলিত, হরিজন ও তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের জন্য আলাদা জনশুমারি এবং সঠিক তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়ন জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যে এই জনগোষ্ঠীর মানুষ এখনো ন্যূনতম মানবিক মর্যাদাও পান না। গ্রামাঞ্চলে দেখা যায়, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ শেষে কোনো রেস্তোরাঁয় ঢুকে খেতে পারেন না; তাদের বাইরে বসে খেতে হয়। যদিও কিছু পরিবর্তন এসেছে, তবুও এই বৈষম্য পুরোপুরি দূর হয়নি।”
আখতার হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে তফসিলি ও দলিত জনগোষ্ঠীকে অনেক সময় কেবল ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। অনেক সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রথম শিকারও তারাই হন। আমরা এই বৈষম্য থেকে মুক্তি চাই। আমাদের দলের নামের মধ্যেই ‘নাগরিক’ শব্দটি রয়েছে—এর অর্থ হলো, আমরা প্রত্যেক মানুষকে ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয় দিয়ে নয়, বরং একজন নাগরিক হিসেবে দেখতে চাই।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এখনো এই জনগোষ্ঠীর অনেক মানুষ শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত। কেউ উচ্চশিক্ষা অর্জন করলেও স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে চাকরির সুযোগ পান না। ফলে পরবর্তী প্রজন্ম নিরুৎসাহিত হয়ে আবারও পূর্বপুরুষদের পেশায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়।