হোম > ধর্ম ও ইসলাম

ক্ষমতার দাপট দুদিনের বড়াই

মাহমুদ হাসান ফাহিম

রাতের পর দিন হয়, আঁধারের পর আসে আলো। অমাবস্যার ঘোর অমানিশার পরে পূর্ণিমা যথানিয়মেই আত্মপ্রকাশ করে। পৃথিবীর ইতিহাসে ক্ষমতাসীনদের ক্ষেত্রেও এই নীতির ব্যতিক্রম হয়নি। একের পর এক পরস্পরবিরোধী শক্তি পৃথিবী শাসন করেছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, কোনো জালেম ক্ষমতাশালী কখনো স্থায়িত্ব লাভ করেনি। নির্মম পরিণতিতে তার পতন হয়েছে এবং অন্যজন তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আজ হোক কাল হোক অত্যাচারের অবসান হবে। রাতের বিদায় মানেই দিনের উদয়। অত্যাচারী জাতির শক্তি যখন লোপ পায়, তখনই ন্যায়পরায়ণতার শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। কালের সাক্ষী হয়ে আছে ফেরাউনের স্বৈরশাসন। তার অত্যাচারমূলক শাসনের অবসান এক ন্যায়পরায়ণ শাসকের আবির্ভাবের পূর্বাভাস। তাই ফেরাউনের অনিবার্য ধ্বংসের সংবাদের সঙ্গে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার সুসংবাদও এসেছে পবিত্র কোরআনে। ফেরাউন কর্তৃক পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ, তার অধিবাসীদের পৃথক-পৃথক দলে বিভক্তীকরণ ও তাদের এক শ্রেণিবিশেষকে অত্যন্ত দুর্বল করে রাখা ইত্যাদির ফলে সে পৃথিবীতে ‘অনর্থ সৃষ্টিকারী’ খেতাবে ভূষিত হয়েছে। আর যাদের সে দুর্বল করে রেখেছিল, আল্লাহতায়ালা তাদের প্রতি অনুগ্রহ করলেন, পৃথিবীর নেতৃত্ব তাদের হাতে এলো। ওই দেশের ভূমি ও সম্পদের উত্তরাধিকারী তাদেরই বানানো হলো। (দ্রষ্টব্য, সুরা ক্বাসাস : ৪-৫)

ফলে তারাই হলেন বড় বড় তখত ও তাজের মালিক। তাদের রাজত্বই প্রতিষ্ঠিত হলো। একসময় ফেরাউন ও হামানরা যেসব ব্যাপারে ঠকিয়ে তাদের দুর্বল করে রাখত, পরে সেসব অবস্থা তাদের ভাগ্যেই দেখা দিল। এ ছিল ফেরাউনের রাজত্বে বিপ্লব সৃষ্টির কাহিনি। কিন্তু ভেবে দেখুন, এ ঘটনার নিমিত্তে কোরআন কি এক চিরন্তন খোদায়ি বিধানের সংবাদ বয়ে এনেছে। কোরআন বলছে, পৃথিবীটা যেন জাঁকজমক ও শক্তি প্রতিপত্তি দেখানোর কেন্দ্রস্থল। সেই সঙ্গে দুর্বলদের নিধনের যজ্ঞশালা। শক্তিশালী জাতি দুর্বল জাতিকে দাস বানিয়ে রাখে, তাদের ভেতর বিভেদ সৃষ্টি করে বিভিন্ন দল ও শ্রেণিতে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হতে দেয় না। কারণ, তারা সংহত হয়ে গেলে আর দুর্বল থাকবে না। ঐক্যবদ্ধ শক্তি নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং জালিমের তখত উল্টিয়ে ফেলবে। এ নজিরই প্রতিষ্ঠা করেছিল মিসরের বনি ইসরাইলরা।

আবার এমনও হয়, যখন অত্যাচার ও অহংকার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন পৃথিবীটা শক্তিশালীদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দুর্বলদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তখন যে মাটিতে দুর্বলকে বলীদান করা হতো, সেখানে সবলদের নিধনযজ্ঞ গড়ে তোলা হয়। সেদিন ছোটকে বড় এবং বড়কে ছোট করে দেওয়া হয়। যারা দুর্বল, অসহায়, যারা শুধু কান্না, হাহাকার, মাতম তোলা ও গড়াগড়ি যাওয়ার লোক, তখন তাদের ওপরেই আল্লাহর অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। শক্তিবানদের দুর্বল করা হয়, সামর্থ্যবানদের করা হয় অসহায়। আনন্দ-উল্লাসকারীরা কান্নাকাটি করেন, বিলাসীরা হন মাতমকারী। আর লুণ্ঠকদের লুণ্ঠিত সাজিয়ে পৃথিবীকে দেখানো হয়। পবিত্র কোরআনে একথাই বলা হয়েছে, ‘বলুন, হে আল্লাহ! সার্বভৌম শক্তির মালিক! আপনি যাকে চান ক্ষমতা দান করেন আর যার থেকে চান ক্ষমতা কেড়ে নেন। যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন এবং যাকে চান লাঞ্ছিত করেন। সব কল্যাণ আপনারই হাতে। নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।’ (সুরা আল ইমরান : ২৬)

আল্লাহ কাউকে রাজত্ব দিয়ে সম্মানিত করেন। আবার কাউকে করেন পরীক্ষা। যারা ন্যায়-ইনসাফের সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করে, এই ক্ষমতা তাদের জন্য সম্মানের। আর যারা ক্ষমতাকে নিজের অর্জন মনে করে ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অপপ্রয়োগ করে, এই ইতিহাস তাদের জন্য মহাসত্যের পরম শিক্ষা।

ফেরাউন ইতিহাস থেকে হারিয়ে যায়নি। কিয়ামত পর্যন্ত আগত শাসকদের জুলুমের ভয়াবহ পরিণতির কথা সে মনে করিয়ে দেয় এবং তার মতো না হওয়ার অনুরোধ জানায়। এটা এমনই এক মহাসত্য বিষয়, যার মৃত্যু নেই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ফেরাউনের এই উপদেশ কেউ গ্রহণ করে না। রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার পর সব শাসকই এ সত্যটা ভুলে যায়। ফলে তাদের পতনও হয় একই কারণে।

হজ শুদ্ধি ও সমর্পণের সফর

ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ : কায়েদ সাহেব (রহ.)

মে দিবস এবং ইসলামের শ্রমদর্শন

কতটুকু সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩৯,৩৯৮ বাংলাদেশি হজযাত্রী

হজ পালনে কর্মীদের বেতনসহ ১৫ দিনের ছুটি দেবে সৌদি আরব

কোরবানির পশু নির্বাচনে কী কী বিষয়ে খেয়াল রাখবেন?

সৌদি আরব পৌঁছেছে ইরানি হজযাত্রীদের প্রথম কাফেলা

সৌদি আরবে ৩৬৯৯৬ বাংলাদেশি হজযাত্রী

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩৬১৫৬ বাংলাদেশি হজযাত্রী