হোম > ইসলাম ও জীবন

আল্লাহকে রাজিখুশি করার সাধনা

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

দেখতে দেখতে আমরা রমজানের শেষ দিকে চলে এসেছি। ক্ষমার সাগরে ডুব দিয়ে শুভ্র জীবনের মুক্তো কুড়ানোর আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। আসুন একবার ঝাঁপি খুলে দেখি পহেলা রমজান থেকে আজ অবদি কী অর্জন করলাম! রহমত ও মাগফিরাতের দশক দুটি থেকে প্রাপ্তির খাতায় কী যোগ হল? শেষ দশকের দামি রত্নগুলো থেকে কতটুকু কুড়াতে পারলাম! হিসাব শেষে যদি দেখা যায়, কিছু না কিছু অর্জন আছে, যোগ আছে, সমৃদ্ধি আছে; তাহলে আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের সেই কিছু অর্জন আল্লাহ অনেক বড় করে দিবেন।

হাদিস শরিফ থেকে জানা যায়, আমরা যদি একটি ফরজ আদায় করি তাহলে সত্তরটি ফরজের সওয়াব লেখা হয় এ মাসে। একটি নফল আদায় করলে একটি ফরজের সওয়াব লেখা হয়। এমন সুবর্ণ সুযোগ রমজান ছাড়া আর কোনো মাসে মিলে না।

প্রিয় পাঠক, হিসেবে কষে যদি মনে হয় কিছু যোগ হয়নি, কিছু অর্জন হয়নি, উল্টো রোজার আগে যা ছিল তাও নষ্ট হয়ে গেছে। যদি রোজার আগের চেয়ে পাপ কাজ অনেক বেশি বেড়ে যায়, তাহলে এরচেয়ে দুর্ভাগ্য জীবনে আর কিছু নেই।

নবীজির সরাসরি অভিশাপ এমন জীবনের প্রতি। একদিন রাসুল (সা.) মিম্বরের সিঁড়িতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে বললেন, আমিন। দ্বিতীয় সিঁড়িতেও পা রেখে বললেন, আমিন। আমিন বললেন তৃতীয় সিঁড়িতে পা রেখেও। বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ এমন করুণ সুরে ব্যথা ভরা মনে আমিন আমিন বলার রহস্য কী সাহাবিরা জানতে চাইলেন। মলিন মুখে নবীজি বললেন, আমার প্রিয় সাহাবিরা! একটু আগেই জিবরাইল এসেছে আমার কাছে। বড় বেদনার কথা বলে গেল সে। বলল, হে আল্লাহর নবী! তিন শ্রেণির পোড়া কপালের জন্য এখন আমি বদদোয়া করব, প্রতিটি দোয়া শেষে আপনি আমিন বলবেন। আমি যখন প্রথম সিঁড়িতে পা রাখি জিবরাইল বলল, বৃদ্ধ বাবা-মাকে পেয়েও যে জান্নাত অর্জন করতে পারল না তার জন্য ধ্বংস। আমি বললাম, আমিন। দ্বিতীয় সিঁড়িতে যখন পা রাখি জিবরাইল বলল, যে আপনার নাম শুনেও দরুদ শরিফ পড়বে না তার জন্য ধ্বংস। আর যে রমজান মাস পেয়েও নিজের গোনাহ মাফ করিয়ে জান্নাতি হতে পারল না তার জন্যও ধ্বংস। তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখার সময় এ দোয়া করে জিবরাইল। আমি বললাম, আমিন। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৪১০)

আমরা যখন টাকা-পায়সা হারাই, ঋণে জর্জরিত হই, প্রিয়জন কাউকে চিরতরে বিদায় দিই, মামলা-মোকাদ্দমায় ফেঁসে গিয়ে নিজের স্বর্বস্ব হারিয়ে ফেলি, ব্যবসা-বাণিজ্যে আর্থিক ক্ষতি হয়, চাকরি চলে যায়, তখন আমাদের মানসিকতা কেমন হয়? কেমন লাগে আমাদের ভেতরে? এমন কত দেখেছি টাকার শোকে, জমির শোকে স্ট্রোক পর্যন্ত করে মানুষ। কেউ মারা যায়, কেউ প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় পড়ে থাকে বছরের পর বছর।

দুনিয়ায় যত বড় ক্ষতিই হোক না কেন তা পূরণ করা যায়। কিন্তু রমজানের যে দিনগুলো আমাদের জীবন থেকে চলে গেল, আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনকে সুন্দর-সুশোভিত করার সুবর্ণ সুযোগ যাদের হাতছাড়া হল, তা কি কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব? সম্ভব নয়।

সুযোগ হল তীরের মতো। একবার ধনুক থেকে বের হয়ে গেলে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। যেমন গুলি পিস্তল থেকে বের হয়ে গেলে আর ফিরে আসে না। অথবা মুখের কথা একবার বলা হয়ে গেলে শত চেষ্টা করেও সেটা আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। শুধু বেফাঁস কথা বলার কারণে কত সম্পর্ক, কত সম্পদ, কত মর্যাদা, কত মসনদ ধুলোয় মিশে গিয়েছে তার বহু প্রমাণ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে। তাই জ্ঞানীরা বলেন, থাকতে মর্যাদা দাও। চলে গেলে আফসোস করে কোনো লাভ হবে না।

সুযোগ এখনো আছে। মাহে রমজানে শেষ বেলায় ক্ষমা ও নাজাত এখনো হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আসুন; শয়তানের সব মনভোলানো রঙিন আশা উড়িয়ে গা ঝেড়ে দাঁড়াই। শেষ দিনগুলোর প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহকে রাজিখুশি করার সাধনায় কাটিয়ে দিই। আবারো বলছি, সুযোগ একবার হাত ছাড়া হলে আর ফিরে আসে না। করছি করব, ভালো হচ্ছি হব- এসব কথা আসলে শয়তানের ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে আখেরাতের ভালোটুকু বোঝার তাওফিক দিন। দুনিয়ার প্রতারণা থেকে আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।

রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ২৩ সেপ্টেম্বর

ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধসহ পাঁচ দফা দাবি

নবীজির বাচনিক প্রজ্ঞা

‘বদনজর সত্য’ হাদিসের বৈজ্ঞানিক সত্যতা

হজের নিবন্ধন শেষ ২৪ সেপ্টেম্বর, বাড়বে না সময়

বিয়ে ও তালাকের সীমারেখা

শরীয়াহর দৃষ্টিতে সম্পত্তি হস্তান্তর বিলে যেসব সমস্যা

হেবা কী, কখন করা যাবে, কে করতে পারেন, কার জন্য করা যাবে

অ্যাপ দিয়ে ইসলাম চর্চায় আত্মিক চাহিদা কতটা মেটে

‘রাসুলের জীবনী শুধু পড়লে হবে না, তার আদর্শকে জীবনের অংশ করে তুলুন’