নানা প্রতিকূলতা, আয়োজন ঘিরে বিতর্ক আর ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কার মধ্যেই জাপানের নাগোয়া ও আইচিতে শুরু হলো ২০তম এশিয়ান গেমস। শনিবার বর্ণিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠেছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের। ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এবারের প্রতিযোগিতা, যেখানে এশিয়ার ৪৫টি দেশ ও অঞ্চল থেকে অংশ নিচ্ছেন ক্রীড়াবিদরা।
৩০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল বিশাল হৃদয়ের আদলে। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় এশিয়ার ঐক্যের বার্তা। জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে যোগ দেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রিও। তবে আয়োজকদের দাবি সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেলেও গ্যালারিতে চোখে পড়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খালি আসন।
এবারের এশিয়ান গেমস শুরু থেকেই নানা সমস্যায় জর্জরিত। ১১ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ ও প্রায় ৬ হাজার কর্মকর্তার আবাসনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে চ্যালেঞ্জে পড়েন আয়োজকেরা। খরচ কমাতে এবার রাখা হয়নি প্রচলিত অ্যাথলেট ভিলেজ। ক্রীড়াবিদদের রাখা হয়েছে অস্থায়ী কক্ষ, বিভিন্ন হোটেল এবং ‘কোস্টা সেরেনা’ ক্রুজ জাহাজে।
এর মধ্যেই গত সপ্তাহে নাগোয়ায় রেকর্ড বৃষ্টিতে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পূর্ব জাপানের দিকে একটি টাইফুন ধেয়ে আসায় সামনে আরও দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। পরিবহন সংকটে কয়েকজন ক্রীড়াবিদকে বিমানবন্দরে আটকে থাকতে হয়েছে। কয়েকটি দল অস্থায়ী আবাসনের মান নিয়েও অভিযোগ করেছে। কোথাও কোথাও বিছানার দৈর্ঘ্য নিয়েও দেখা দিয়েছে সমস্যা।
উদ্বোধনের আগের দিন শুক্রবার ঘটে আরও অস্বস্তিকর ঘটনা। দক্ষিণ কোরিয়ার পুরুষ হকি দলের জন্য ভুল করে বাজানো হয় উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত। নানা আয়োজনগত সমস্যার পরও এশিয়ার ৪৫ দেশ ও অঞ্চলের অংশগ্রহণে মহাদেশের ঐক্যের বড় মঞ্চ হিসেবেই এবারের আসরকে দেখছে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে ওসিএ সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল-থানি বলেন, ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বার্তা হলো এশিয়ার ঐক্য দেখানো এবং এশিয়ার বিভিন্ন সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সংঘাতের বিপরীতে এশিয়ার ঐক্য প্রদর্শন।’
রবিবার সকালেই নির্ধারিত হবে আসরের প্রথম সোনা। পুরুষদের ব্যক্তিগত ট্রায়াথলন থেকেই প্রথম স্বর্ণপদক আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের গেমসে ৪০টির বেশি খেলায় লড়াই করবেন এশিয়ার সেরা ক্রীড়াবিদরা। সাতটি খেলায় ভালো করতে পারলে ২০২৮ সালের অলিম্পিকে সরাসরি জায়গা পাওয়ার সুযোগও থাকছে।
প্রতিষ্ঠিত তারকাদের পাশাপাশি এবারের আসরে নজর থাকবে নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের ওপরও। চীনও এবার পদক তালিকার শীর্ষে থাকার লক্ষ্য নিয়ে এসেছে। ২০২৩ সালে হাংঝু এশিয়ান গেমসে ঘরের মাঠে ২০১টি স্বর্ণসহ মোট ৩৮৩টি পদক জিতেছিল তারা।
উদ্বোধনের আগেই অবশ্য বাস্কেটবল, ফুটবল ও ক্রিকেটের মতো কয়েকটি খেলা শুরু হয়ে গেছে। ১৯৫১ সালে যাত্রা শুরু করা এশিয়ান গেমসের এবারের আসরেও থাকছে অ্যাথলেটিকস, সাঁতারের মতো অলিম্পিকের জনপ্রিয় ইভেন্ট। পাশাপাশি সেপাক তাকরাও ও কাবাডির মতো এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী খেলাও থাকছে প্রতিযোগিতার মঞ্চে।