হোম > খেলা

‘অবৈধ’ ১৪ ক্লাব, বিসিবি কি সাহসী হবে

এম. এম. কায়সার

বিষয় যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন, ভোটাভুটি- তখন সময়ের ফেরে অনেক কিছুই বদলে যায়। এমনকি বদলে যায় ‘বৈধ এবং অবৈধ’র সংজ্ঞাও! অবৈধকে টিকিয়ে রাখার পক্ষেও তখন গলাবাজি ও কু-যুক্তি চলে বেশ।
বিসিবিতে আগের দুই মেয়াদে তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটে যে বিশাল আকারে দুর্নীতি হয়েছে, সেই সত্য সর্বজন কর্তৃক স্বীকৃত। মূলত ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে এই দুর্নীতির ছত্রছায়া শুরু। যে দুই নম্বরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বিসিবির বর্তমানে পলাতক পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক। বিসিবির এই দুর্নীতি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তদন্ত চালিয়েছে। বিসিবির অফিস থেকে নথিপত্র জোগাড় করে দীর্ঘ সেই তদন্ত শেষে দুদক একটি রিপোর্টও দিয়েছে। যেখানে স্পষ্ট করে বলা আছে- দুর্নীতিমূলক কায়দায় তৃতীয় বিভাগের ১৪টি ক্লাবকে বাছাই লিগের বাধা পার করানো হয়েছে। এই ক্লাবগুলোর বিষয়ে অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রতিবেদনে যা বলেছে, সেটা মূলত এমন- ‘পছন্দের ক্লাবকে উত্তীর্ণ করতে এবং পছন্দের ব্যক্তিদের কাউন্সিলরশিপ প্রদান করতে দুর্নীতি ও অনিয়ম করা হয়েছে। তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট বাছাই লিগ হতে উত্তীর্ণ দলের মালিক বিসিবির কাউন্সিলরশিপ অর্জন করতে পারেন। ফলে বিসিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে তাদের পছন্দের দলকে বা মালিককে ভোটাধিকার প্রদানের নিমিত্তে দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয়ে ক্লাব ক্রিকেটকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়েছেন মর্মে এনফোর্সমেন্ট টিমের কাছে পরিলক্ষিত হয়েছে।’


তৃতীয় বিভাগ বাছাই লিগ উতরানো এই ক্লাবগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে দুদক। দুদক এই ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে এখন যে রিপোর্ট দিয়েছে, সে একই অভিযোগ তুলে কয়েক বছর আগেও বিসিবির বাইরে থাকা অন্য বলয়ের ক্রিকেট সংগঠকরা গলার রগ ফুলিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কি আশ্চর্য, এখন সেসব সংগঠক অবৈধ ও অনিয়মের আশ্রয়ে তৈরি হওয়া ক্লাবগুলোর পক্ষে সাফাই গাইছেন!

এর কারণ বেশি কিছু নয়; একটাই-আর সেটা হলো ভোট! বিসিবির নির্বাচন বদলে দিয়েছে কিছু সংগঠকের মস্তিষ্কের চিন্তা-চেতনার জালকে। ভোটের লড়াইয়ে জিততে হলে অবৈধ প্রক্রিয়ায় জন্ম নেওয়া এসব ক্লাবের ভোট বা সমর্থন যে তাদের প্রয়োজন! এসব ক্লাবের বাপ-মা হিসেবে পরিচিত বিসিবির সাবেক পরিচালক মল্লিকের সঙ্গে যোগসাজশ করে কিছু সংগঠক এখন এগুলোর নতুন মালিক! এ তালিকায় বিসিবির কয়েকজন বর্তমান পরিচালকও রয়েছেন। আগামী মাসে বিসিবির নির্বাচন বৈতরণী পার হতে এই ক্লাবগুলোর ভোট তাদের বড়ই প্রয়োজন। এসব ক্লাবের ভোটই ক্লাব ক্যাটাগরিতে নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর। তাই যে কোনো মূল্যে এগুলোর বৈধতা দিতে তারা মরিয়া।


প্রায় এক মাস আগে দুদক এই ১৪টি ক্লাব নিয়ে যে প্রতিবেদন দিয়েছিল, তা এখন পর্যন্ত বিসিবি কোনো আমলেই নেয়নি। তাহলে অর্থ কি দাড়ায়? বিসিবি কি দুদকের মতো সংস্থাকে গ্রাহ্যই করে না! মাঝে এতগুলো বোর্ড সভা হয়ে গেল; কিন্তু এ নিয়ে তো বিসিবির কোনো হেলদেলও নেই।

নাজমুল হাসান পাপনের বোর্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে একসময় ভীষণ সরব ছিলেন ঢাকার ক্রিকেটের ঝানু সংগঠক রফিকুল ইসলাম বাবু। সেই বাবু এখন এই ক্লাবগুলোর বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, তাতে প্রতিবাদের ঝড় নেই। যা আছে, তার নাম ‘সমঝোতার ঝোল’!


অবৈধ ও অনিয়মের বেড়াজালের মধ্যে জন্ম নেওয়া এই ক্লাবগুলো যদি এবারের বিসিবির নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে সেটা হবে আরো বড় অন্যায় আর অবিচার। যতক্ষণ না এই ক্লাবগুলোর ব্যাপারে বিসিবি পরিষ্কার কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে পারে, ততক্ষণ পর্যন্ত ওই ১৪টি ক্লাবকে ক্রিকেটীয় কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে দূরে রাখাটা হবে সঠিক আর উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। আর এ মুহূর্তে ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্লাব পর্যায়ের কোনো খেলা নেই, তাই অভিযুক্ত ক্লাবগুলোকে সাময়িক সময়ের জন্য সব কার্যক্রমে নিষিদ্ধ করা হলে ক্লাব ক্রিকেটারদের কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়।


দেখা যাক, বিসিবি কতটুকু সাহসী হয়?

পাকিস্তান সিরিজের আগেই সাকিবকে পাওয়ার আশায় বিসিবি

নারী দলের বিশেষ ক্যাম্প আজ শুরু

টিভির পর্দায় চ্যাম্পিয়নস লিগের রিয়াল-বেনফিকার লড়াই

পাকিস্তানকে হারিয়ে সবার আগে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

সাফ গেমস ঘিরে টিটির প্রত্যাশা

‘সুপার সাব’ সেসকোতে উদ্ধার ম্যানইউ

বেতনভুক্ত হবেন হামজা চৌধুরীরা

কঠিন গ্রুপে বাংলাদেশের মেয়েরা

ফিফা-উয়েফা লালকার্ড দেখছে!

পাকিস্তানের আজ টিকে থাকার লড়াই