ফেনীর সেই ভাইরাল শিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তার পলিকে এবার দেশের ক্রীড়াঙ্গনে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় তার খোঁজখবর নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
বৃহস্পতিবার প্রতিমন্ত্রী মুঠোফোনে কথা বলেন গিল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই সহকারী শিক্ষিকার সঙ্গে। ফোনালাপে পলি ও তার পরিবারের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তাকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মূল স্রোতধারায় কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
সম্প্রতি বৃষ্টির মধ্যে মাঠে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলায় উৎসাহ দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। ভিডিওতে পলির আবেগ, উদ্দীপনা ও খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা দেশজুড়ে প্রশংসা কুড়ায়।
দীর্ঘ আলাপচারিতায় শিক্ষিকা পলি তার পরিবারের ক্রীড়া ঐতিহ্যের নানা দিক তুলে ধরেন। এসব শুনে মুগ্ধ হন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি মাঠ পর্যায়ে পলির অভিজ্ঞতা ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতাকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পলির পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত। তার বাবা সৈয়দ মমিনুল ইসলাম একসময় মোহনবাগান ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন। ভাই সৈয়দ মামুনুল হাসান ছিলেন ফেনীর পরিচিত ফুটবলার। পলি ও তার বোন ফেনী মহিলা ক্রীড়া সংস্থার হয়ে হ্যান্ডবল ও ভলিবল খেলেছেন। এছাড়া তার প্রয়াত স্বামী গোলাম রব্বানী ছিলেন সকার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট।
গত ২৯ এপ্রিল ফেনী পিটিআই স্কুল মাঠে উপজেলা পর্যায়ের একটি সেমিফাইনাল ম্যাচে বৃষ্টির মধ্যেই শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়ার দৃশ্যটি ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে সেটি দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
ভিডিওটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তার নির্দেশনায় গত ২৬ মে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষিকা পলির বাসায় বিশেষ শুভেচ্ছা উপহার পাঠানো হয়। এবার সরাসরি ফোন করে তার পাশে দাঁড়াল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।