সংকটে বিসিবি
নির্বাচনে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে ঢাকার লিগে অংশ নিচ্ছে না ঢাকার ৪৪ ক্লাব। প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ মাঠে গড়ালেও বয়কট করা ক্লাবগুলো অংশ নেয়নি প্রথম রাউন্ডের কোনো ম্যাচে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দেন, বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পরিষদের অধীনে কোনো ধরনের লিগে অংশ নেবেন না তারা। নিজেদের ক্রিকেটের পক্ষের লোক দাবি করে ক্লাবগুলো জানিয়েছে, প্রয়োজনে খেলোয়াড়দের মাঠে রাখতে বিসিবির সহযোগিতা ছাড়াই টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের চলমান মৌসুমের জন্য ক্রিকেটারদের আংশিক পারিশ্রমিক পরিশোধ করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের।
দিন কয়েক আগে ২০ দলের লিগের দাবিতে মিরপুরে বিসিবির কাছে স্মারকলিপি দেয় প্রথম বিভাগে খেলা ক্রিকেটাররা। সেখানে ছিলেন লিগে খেলতে না পারা ক্রিকেটাররা। সেখানে ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ব্যাপারটিও উঠে এসেছিল। বোর্ড-ক্লাবগুলোর মধ্যে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ১২ দল নিয়ে মাঠে গড়ায় প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ। খেলতে না পারা ক্রিকেটারদের মাঠে নামতে কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, সেই প্রশ্নের জবাবে মাসুদুজ্জামান জানান, ‘একবাক্যে বলতে চাই, এই বিসিবি অবৈধ। এদের অধীনে আমরা কোনোভাবেই যেতে (লিগ খেলতে) চাই না। যেটা হতে পারে, সেটা কোর্ট করুক, উপদেষ্টা করুক, আর যেটা তারা করতে পারে, এই বোর্ড ভেঙে দিয়ে একটা পরিষ্কার, স্বচ্ছ নির্বাচন দিতেই হবে। এটা আমরা আগেও বলেছি।’
ক্লাবগুলো লিগে অংশ না নেওয়া ক্রিকেটার ভবিষ্যৎ কী হবে? সেই প্রশ্নের জবাবে মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এই ব্যাপারটা নিয়ে বসেছি, অন্য কোনো উপায়ে খেলোয়াড়দের মাঠে রাখতে পারি কি না। বিসিবি আমাদের মাঠে দেবে না, এটা জানি। ওরা আমাদের কোনো সহযোগিতা করবে না। সেক্ষেত্রে আমাদের মাঠগুলো ভাড়া নিয়ে করতে হবে। আমরা এই ব্যাপারটা এই দিকে যারা (বিদ্রোহী ক্লাব) বসে আছি, চিন্তা করছি প্লেয়ারদের জন্য আমরা কিছু করতে পারি কি না।’ খেলোয়াড়দের জন্য বিকল্প চিন্তা করা বিদ্রোহীদের সঙ্গে তামিম ইকবাল আছেন কি না সেই প্রশ্ন এসেছে ঘুরে ফিরে।
তামিম প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘তামিম ইকবাল শুরু থেকে আমাদের সঙ্গে ছিল এবং এই বোর্ডকে অবৈধ বলে আসছে। খেলোয়াড় হিসেবে তার একটা অবস্থান থাকতেই পারে, এই অবৈধ বোর্ডকে সে কখনো বৈধতা দেবে না।’ আরেক সংগঠক সাব্বির আহমেদ রুবেল বলেন, ‘তামিম এককভাবে ক্লাবের সিদ্ধান্ত গ্রহীতা নন। তিনি কাউন্সিলর। ফলে তার ক্লাবের সিদ্ধান্ত খেলার পক্ষে, তাই তার ক্লাব খেলছে। তামিমের ক্লাব খেললেও সে আমাদের পক্ষেই আছে।’
বর্তমান বোর্ডের সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম বাবু আরো বলেন, ‘বেশির ভাগ লোকই (বিসিবির বর্তমান পরিচালক) এখানে ক্রিকেট সংগঠক না। এই যে ক্রিকেট, ক্রিকেটের অবস্থাটা কীভাবে আজকে আসছে যদি কিছুটা উপলব্ধি করত, তাহলে কোনো দিন এখানে আসতে পারত না।’
প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ বয়কট করা ক্লাবগুলো জানিয়েছে, তাদের দাবি ছিল তৃতীয় বিভাগ দিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট মাঠে নামানোর। তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট দিয়ে মৌসুম শুরু করলে লিগে অংশ নিতেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ফাহিম সিনহা জানান, এই সিদ্ধান্তেই তারা অটল থাকতেন। লিগ বয়কট করা ক্লাবগুলো এক সিদ্ধান্তেই অটল- তা হলো বর্তমান বোর্ডের অধীনে কোনো ধরনের লিগেই খেলবে না তারা। বোর্ড এই ঘোষণাকে কীভাবে নেয়Ñসেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
তবে সমঝোতায় না পৌঁছে জোরাজুরি কায়দায় লিগ শুরুর বিসিবির চেষ্টায় যে দেশের ক্রিকেট যে আরো বিপদে পড়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
সহসাই সমাধান মিলবে?
সেই সম্ভাবনাও শূন্য প্রায়!