হোম > খেলা

আমরা লড়াই চালিয়ে যাব

বিসিবি সভাপতি বললেন

স্পোর্টস রিপোর্টার

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা-না খেলার ইস্যু নিয়ে যা কিছু ঘটেছে, এর মধ্যমণি ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। গত বুধবার অনলাইন সভা করার পর বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলা-না খেলার ব্যাপারে যে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল আইসিসি, এর প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আজ রাজধানীর একটি হোটেলে সরকার, খেলোয়াড় ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্তারা এক বৈঠকে বসেন। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ভারতের কাছে নতিস্বীকার করে নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। এ বৈঠক শেষে বিসিবি সভাপতির জবানিতে তুলে দেওয়া হলো পুরো ঘটনা-

গত পরশু (বুধবার) আইসিসির একটি বৈঠক ছিল। আইসিসির সঙ্গে যে যোগাযোগ ছিল, সেটার শুরু হয়েছিল মোস্তাফিজকে আইপিএলের একটি দল থেকে বাদ দেওয়ার পর। মোস্তাফিজ ইনজুরড নয় এবং নিজের থেকে নাম প্রত্যাহার করেনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তার এনওসিও প্রত্যাহার করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আমরা সরকারের মাধ্যমে জানতে পারি এবং আমরা অনুভব করি নিরাপত্তা একটা বড় ইস্যু এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য। এটা জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ৪ জানুয়ারি আমরা পরিস্থিতি বিষয়ে জানিয়েছি। এ বিষয়টি সিরিয়াসলি নিয়ে বিকল্প ভেন্যু দিতে বলেছি।

পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে আইসিসির। যোগাযোগের এক পর্যায়ে আমরা বোঝাতে পেরেছিলাম যে, নিরাপত্তার কারণে আইসিসি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন সময়, ১৯৯৬ ও ২০০৩ সালে যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল, আইসিসি সেগুলো বলার চেষ্টা করেছে। আমরা আইসিসিকে বলেছি, সাম্প্রতিক যে ঘটনাগুলো ঘটেছে এবং আইসিসির যেসব পদক্ষেপ ছিল, সেগুলো তাদের আমরা দেখিয়ে দিয়েছি চোখে আঙুল দিয়ে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি দেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন সেই দেশ সরকারের অনুমতি নিয়ে আইসিসিকে যখন জানাল, তখন তাদের জন্য সংস্থাটি নিরপেক্ষ ভেন্যুর ব্যবস্থা করেছিল। সেই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে তারা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সব খেলা একটি মাঠে খেলেছিল। এটা ছিল বাড়তি সুবিধা।

পরবর্তীতে আপনারা জানেন, হাইব্রিড মডেলটা যেটা এখন হচ্ছে, আমরা সবাই বলছি শ্রীলঙ্কা সহ-আয়োজক। শ্রীলঙ্কা সহ-আয়োজক নয়। দেশটি হাইব্রিড মডেলের একটি অংশ, যেখানে অন্যান্য দেশের খেলাগুলো হচ্ছে। আমরা সেদিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, যেহেতু নিরাপত্তার কারণে হাইব্রিড মডেলটা হয়েছে এবং সরকারের অনীহাও রয়েছে, তা আমরা আইসিসিকে বলার চেষ্টা করেছি এবং বুঝিয়েছি। তারপরও আমাদের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

আমরা আবারও চেষ্টা করব আজকে আর কী কী পথ আছে বলার। আপনারা বুধবার শুনেছেন যে, একটি ভোট হয়েছে। ভোটের নম্বরটা আনুষ্ঠানিকভাবে আমি বলতে চাচ্ছি না। কেননা, আইসিসি সেটা বলতে বারণ করেছে। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় ভোটের একটি নম্বর দেখতে পাচ্ছি। বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমরা খুব গর্ববোধ করি, কিন্তু বিশ্বক্রিকেট নিয়ে আমরা সন্দিহান।

এ পরিস্থিতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশ খেলতে যাচ্ছে না বা বাংলাদেশকে একটা আলটিমেটাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে; তারপরও আমরা সর্বস্ব চেষ্টা করে যাব। এর আগেও বলছিলাম, বিশ্বক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো একটি দেশ যদি বিশ্বকাপ মিস করে, তাহলে আইসিসি বড় একটা মিস করবে। যেখানে ক্রিকেট অলিম্পিকে যাচ্ছে ২০২৮ সালে। ২০৩২ সালে ব্রিসবেন হোস্ট করছে। ২০৩৬ সালে ভারত অলিম্পিক বিড করছে, কমনওয়েলথ গেমস তারা বিড করছে, সেখানে যদি এরকম একটি জনবহুল ক্রিকেটপ্রিয় দেশ না যায়, তাতে মনে হচ্ছে আয়োজক দেশের জন্য এটা একটা ব্যর্থতা।

আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করে যাব। এখনো আমরা হাল ছেড়ে দিচ্ছি না। আমরা আবার যোগাযোগ করব এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে আমাদের ছেলেরা বিশ্বকাপ খেলতে পারে। আমাদের একটাই চাহিদা- আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। এ মুহূর্তে আমরা ভারতে যেতে চাই না; আমরা শ্রীলঙ্কার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে চাই। আমরা এখনো প্রস্তুত, আমাদের দল প্রস্তুত আছে।

একটি বৈশ্বিক সংস্থা এভাবে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিতে পারে না। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। বৈঠকে যা হয়েছিল, সেখানে কিছু শকিং বিষয় ঘটেছিল। এটা শেয়ার করা যাবে না।

রোনালদোর গোলের নতুন রেকর্ড

৪০০ থেকে এক জয় দূরে জোকোভিচ

সাফ ফুটসালে বাংলাদেশের হার

নামিবিয়াকে উড়িয়ে সুপার সিক্সে বাংলাদেশ

মুজিবের হ্যাটট্রিকে সিরিজ আফগানিস্তানের

আইসিসির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের

বিশ্বকাপ ইস্যুতে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা

পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানো জয় বার্সেলোনার

টিভির পর্দায় শ্রীলঙ্কা-ইংল্যান্ড প্রথম ওয়ানডেসহ আরও যত খেলা

আরেকবার সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন বুলবুল