হোম > খেলা > ক্রিকেট

বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল ১৬০ রানে

স্পোর্টস রিপোর্টার

ফাইনালে খেলতে হলে জিততেই হবে। তবে শুধু জিতলে চলবে না, জিততে হবে নির্দিষ্ট ব্যবধানে। এক রান এদিক-ওদিক হলেই শেষ ফাইনালের স্বপ্ন। এমন কঠিন সমীকরণ সামনে রেখেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ফাইনালের হিসাব মেলানোর আগে যে নিজেদের ব্যাটিংয়ের অঙ্কটাই মেলাতে হবে! ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে সেই সংশয়ই বড় হয়ে উঠল। শেষ পযন্ত সেই অনিশ্চয়তা নিয়েই শেষ হলো বাংলাদেশের ইনিংস। ৫০ ওভারের ম্যাচে একটা দলের ৪ উইকেট যখন মাত্র ২৮ রানে পড়ে যায় তখন বাকি সময়টা ক্রমশ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠে। সেই সংকটে পড়েই এই ম্যাচে বাংলাদেশ। ১৬০ রানে শেষ দলের ইনিংস। তাও আবার ৪১.২ ওভারে। রশিদ খান ৩১ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন।

ফাইনালে খেলতে হলে এই ম্যাচে বাংলাদেশকে জিততে হবে ন্যুনতম ৪১ রানের ব্যবধানে। সেই অংক অনুযায়ী আফগানিস্তানকে এই ম্যাচে ১১৯ রানে থামাতে হবে। সিরিজের প্রথম ম্যাচের মত সেই একই হাল বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ের! ফলাফলও কি তাহলে সেই একই পথে?

ম্যাচের শুরুটা হলো চরম বিপর্যয়ে। স্কোরবোর্ডে ২৮ রান উঠতেই সাজঘরে চার ব্যাটার। এর মধ্যে সৌম্য সরকার ও সিরিজের মাঝপথে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়া তাওহীদ হৃদয়ের বিদায়টা ছিল সবচেয়ে দৃষ্টিকটু। সৌম্য ম্যাচে নিজের খেলা প্রথম বলেই বোল্ড। ইয়ামিন আহমদজাইয়ের অফ স্টাম্পের বাইরের বলটি ছেড়ে দেওয়ার বদলে জায়গায় দাড়িয়ে কাট করতে গিয়ে নিজের স্টাম্প হারালেন তিনি। পরের ওভারেই একই বোলারের শিকার নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৩ বলে ১৫ রান করে ফিরলেন তিনি আরেকটি ব্যর্থতাকে সঙ্গী করে।

এরপর ব্যাটিং বিপর্যয়ের সবচেয়ে বিব্রতকর দৃশ্যটি দেখালেন তাওহীদ হৃদয়। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ব্যাটের মুখ আগেভাগে বন্ধ করতে গিয়ে বল তুলে দিলেন বোলারের হাতেই। দুই বল খেলে শূন্য রান। সিরিজের অধিনায়কের এমন বিদায়ে বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়ল। এর আগে ওপেনার হাসান তামিমও ফিরেছেন মাত্র ১ রান করে। ২৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে তখন দিশেহারা বাংলাদেশ।

এমন পরিস্থিতিতে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নিলেন সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। শুরুতে উইকেট ধরে রাখাই ছিল তাঁদের প্রধান কাজ। আফগানিস্তানের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রান তোলার সুযোগও ছিল সীমিত। তবে উইকেটে থিতু হওয়ার পর ধীরে ধীরে পাল্টা আক্রমণে গেলেন দুজন।

সাইফের ব্যাটে ছিল ধৈর্য আর সুযোগ বুঝে আঘাত করার মানসিকতা। দশম ওভারে আহমদজাইকে পরপর দুটি চার মেরে নিজের আত্মবিশ্বাসের জানান দিলেন। প্রথমটিতে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে কভার পয়েন্টের ওপর দিয়ে বল পাঠালেন সীমানার বাইরে। পরের বলটিও একইভাবে সামলে মারলেন চার। বিপর্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সেটিই ছিল স্বস্তির একটি মুহূর্ত।

অন্য প্রান্তে ইমনও বুঝিয়ে দিলেন, শুধু উইকেট আগলে রাখতেই নামেননি তিনি। বিলাল সামির শর্ট বল পেয়ে পুল করলেন সীমানার বাইরে, উড়িয়ে মারলেন ছক্কা। এর আগে অবশ্য ১৪.৫ ওভারে রান নিতে গিয়ে অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। ফিল্ডারের সরাসরি থ্রো স্টাম্পে লাগলে তখনই শেষ হয়ে যেতে পারত তাঁর ইনিংস। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরে ব্যাটে জবাব দিলেন ইমন।

রশিদ খানের বলেও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছেন সাইফ। ২৩তম ওভারে আফগান স্পিনারের ফুলটস পেয়ে মিডউইকেটের গ্যালারিতে তুলে মারলেন ছক্কা। রশিদের মুখে হাসি থাকলেও সাইফের শটে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে নিশ্চয়ই ফিরেছিল কিছুটা স্বস্তি। ইমনও থেমে থাকেননি। ২১.৪ ওভারে মোহাম্মদ নবীকে পুল করে চার, ২৪.৫ ওভারে রশিদকে সুইপ করে আরেকটি বাউন্ডারি। এরপর আজমতউল্লাহর অফ-কাটার থার্ডম্যান দিয়ে বের করে দিলেন দারুণ এক চার।

৩০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৪ উইকেটে ১১৬। সাইফ ও ইমনের জুটি ভাঙা দুর্গের দেয়ালে নতুন করে ইট বসিয়েছে। ২৮ রানে চার উইকেট হারানোর পর সেখান থেকে শতরানের ঘর পেরোনো নিঃসন্দেহে লড়াইয়ের ইঙ্গিত। তবে শুরুর বিপর্যয়ের দায় মুছে যায়নি তাতে। ৮২ বলে ৪১ রান করে সাঈফ আউট হওয়ার পর মেহেদি মিরাজও সিরিজে নিজের খেলা প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ। বিশ্বের সেরা ওয়ানডে স্পিনার রশিদ খানের সামনে টিকতে পারেননি শরিফুল ইসলামও। নিজের দ্বিতীয় সেই স্পেলে পারভেজ ইমনকে ফিরিয়ে দিয়ে রশিদ খান বাংলাদেশের বিপদটা আরো বড় করেন। ৯৬ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলেন পারভেজ। এই ম্যাচে দলের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে তো শুধু তিনিই খেললেন!

শুরুতে উইকেট হারানোয় এই ম্যাচে রক্ষনাত্মক ব্যাটিংয়ে যেতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ। আর তারই ডটবলে ভরে যায় দলের ইনিংস। বাংলাদেশের ইনিংসে ডটবলের সংখ্যা ছিল ১৬৫। হিসেবটা এমন, বাংলাদেশের খেলা ২৪৮ বলের মধ্যে ১৬৫ বলই ডট!

একসময় সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল আত্মবিশ্বাসের জায়গা। এখন সেই ব্যাটিংয়ের চেহারাই ক্রমে ফ্যাকাসে। সাইফ-ইমন শুরুর ধাক্কা সামলে কিছুটা লড়াইয়ে ফিরিয়েছেন দলকে, কিন্তু ফাইনালের সমীকরণ মেলাতে সম্ভবত পারল না বাংলাদেশ।

সমীকরণের প্রসঙ্গ ম্যাচ শেষে বলি। হতশ্রী ব্যাটিংই যে সবকিছু নষ্ট করে দিল!

৯৯ রানে অলরাউন্ড হয়ে ফলো-অনে অস্ট্রেলিয়া

উইন্ডিজের বিপক্ষে বিসিবি একাদশের স্কোয়াডে শামীম-জাকের

সহজ জয় হাতছাড়া করল যুবারা

অভিষেকে রাকিবের বাজিমাত, নাসুম-শফিকুলের ৫ উইকেট

র‍্যাংকিংয়ে এগোলেন তাসকিন-শরীফুল

বাঁচা-মরার ম্যাচে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, আলিসের অভিষেক

অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ, উদ্বোধনী দিনেই নামবে বাংলাদেশ

আফ্রিদি-রাজ্জাকের কীর্তিতে ভাগ বসালেন মিনহাস

সমীকরণের মারপ্যাঁচ মাথায় নিয়ে ‘শক্তিশালী’ আফগানদের মুখোমুখি বাংলাদেশ

ইংল্যান্ডও হারল পাকিস্তানের কাছে