হোম > খেলা > ক্রিকেট

ডারউইন গল্পের পুনরাবৃত্তির পালা ম্যাকাইতে

মোহাম্মদ ইসামের বিশ্লেষণ

স্পোর্টস রিপোর্টার

ডারউইনে যা ঘটেছে, তা কি এবার ম্যাকাইতেও ঘটতে পারে?

প্রশ্নটা এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামনে। উত্তরটা সময়ই দেবে। তবে একটা ব্যাপার পরিষ্কার, ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোটা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ভেতরে যে পরিবর্তন দেখা গেছে, সেটাই এই সফরের সবচেয়ে বড় গল্প।

গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জায়গা ছিল বোলিং। বড় ম্যাচে বোলাররা বারবার দলকে টেনে তুলেছেন। এবার সময় ছিল ব্যাটারদের সামনে আসার। ডারউইনে তারা ঠিক সেটাই করেছে।

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে বাংলাদেশ শুধু জেতেনি, পুরো ম্যাচটাই নিয়ন্ত্রণ করেছে। ৪২৬ রানের ইনিংস খেলেছে ১৩৮ ওভার ব্যাট করে। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে লিড নিয়েছে ২২৮ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসেও স্বাগতিকরা ৩০০ পার হতে পারেনি। ৫৭ রানের লক্ষ্য তাই শেষ পর্যন্ত স্রেফ আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছিল।

অথচ এই দলটিই কদিন আগে হারারেতে জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংসে হেরেছিল। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে অলআউট হয়েছিল মাত্র ৫৪ রানে।

সেখানেই যেন গল্পটার মোড় ঘুরে যায়।

বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের ভাষায়, ৫৪ রানে অলআউট হওয়াটা উল্টো আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল। ওই ধাক্কার পর ব্যাটারদের শরীরী ভাষা বদলে যায়। অনুশীলনে বাড়তি পরিশ্রম শুরু হয়। সবচেয়ে বড় কথা, মাথা থেকে ভয়টা সরতে থাকে।

ক্রিকেটে কখনো কখনো একটা খারাপ দিন পুরো দলকে ভেঙে দেয়। আবার কখনো সেটাই দলকে নতুন করে গড়ে।

ডারউইনে বাংলাদেশ দ্বিতীয় কাজটাই করেছে।

প্রথম দিন নতুন বলের সামনে মুমিনুল হক আর তানজিদ হাসানের ব্যাটিং দেখছিলাম। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বাংলাদেশের ব্যাটাররা অতীতে বারবার বিপদে পড়েছিলেন। খোঁচা লাগিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। এবার সেই পজিশনে ব্যাটাররা ভালো দক্ষতা দেখিয়েছে। শান্ত ভঙ্গিতে বল ছেড়ে দিচ্ছেন। স্টাম্পের অবস্থান বুঝে খেলছেন।

এটা শুধু টেকনিকের পরিবর্তন ছিল না। ছিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তন।

আর ওপোনর তানজিদ তামিম?

তাকে এত দিন আমরা সাদা বলের ক্রিকেটের ব্যাটার হিসেবে দেখেছি। ডারউইনে তিনি দেখালেন, পাঁচ দিনের ক্রিকেটও তার জন্য অচেনা নয়। ১০১ রান করতে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় উইকেটে ছিলেন। আটটি চার, একটি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ৫১-এর একটু বেশি। কিন্তু সংখ্যাগুলোর চেয়েও বড় ছিল তার ধৈর্য।

তিনি শট খেলতে জানেন, কিন্তু সব বলেই শট খেলতে হবে, এই পুরোনো ভুলটা করেননি।

এটাই সম্ভবত তানজিদের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।

শুধু তানজিদ নন, বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের প্রায় পুরো ইউনিটই যেন নতুন একটা অভ্যাস তৈরি করেছে। একটা জুটি ভাঙার পর আরেকটা জুটি এসেছে। মুমিনুল ও তানজিদ দ্বিতীয় উইকেটে ১০২ রান করেছেন। তানজিদ ও শান্ত তৃতীয় উইকেটে যোগ করেছেন ৯৩। শান্ত ও মুশফিকুর রহমানের জুটিতে এসেছে আরো ৬৬।

বাংলাদেশের পুরোনো সমস্যা ছিল, একটা বড় জুটি ভাঙলেই দ্রুত আরো দুই-তিনটি উইকেট পড়ে যাওয়া। ডারউইনে সেই পুরোনো বাংলাদেশকে দেখা যায়নি।

এবার তারা সুবিধা পেয়েছে, ধরে রেখেছে, সুবিধাটা আরো বাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি মনে রাখার মতো ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটিং। দ্বিতীয় নতুন বল হাতে অস্ট্রেলিয়া যখন শেষ তিনটি উইকেট তুলে নেওয়ার অপেক্ষায়, মিরাজ তখন নিচের সারির ব্যাটারদের নিয়ে ৫০ ওভারেরও বেশি সময় কাটিয়ে দিলেন।

হাসান মাহমুদ ৯২ বল খেলেছেন। তাসকিন আহমেদ ৩২ বল। তাইজুল ইসলাম ২৩। এবাদত হোসেন ১৮। সংখ্যাগুলো হয়তো খুব বড় কিছু নয়। কিন্তু এই বলগুলোই অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সম্ভাবনাকে আরো দূরে ঠেলে দিয়েছে।

এখানে আসলে একটা মানসিক পরিবর্তনের গল্প আছে। বাংলাদেশ এবার শুধু রান করতে চায়নি। তারা ম্যাচটাকে নিজেদের করে নিতে চেয়েছে। এই ক্ষুধাটাই ডারউইনে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ পৃথিবীর সেরাদের একটি। প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক। বয়স বাড়ছে, কিন্তু তাদের ধার কমেনি। এমন আক্রমণের সামনে বাংলাদেশ যে এতটা সময় ব্যাট করবে, এত বড় রান করবে, সেটাই ছিল বড় বিস্ময়।

কিন্তু ডারউইনের ৪২৬ এখন আর বিস্ময় নয়। বরং একটা বার্তা। বাংলাদেশের ব্যাটাররা নিজেদের ওপর বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। আর সেই কারণেই দ্বিতীয় টেস্টের আগে প্রশ্নটা এত স্বাভাবিক, ডারউইনের ঘটনাটা কি এবার ম্যাকাইতেও ঘটবে?

ম্যাকাইতে বাংলাদেশের সামনে এবার আরো বড় সুযোগ। ডারউইনের জয়কে যদি একক ঘটনা হতে না দিতে হয়, তাহলে ব্যাটারদের আবারও একই কাজ করতে হবে। নতুন বলকে সম্মান করতে হবে। অফ স্টাম্পের বাইরে ধৈর্য ধরতে হবে। জুটি গড়তে হবে। একটা ভালো অবস্থানকে বড় অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, ডারউইনের সেই মানসিকতাটা সঙ্গে নিতে হবে। কারণ বাংলাদেশ এখন জানে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদেরও জেতার সামর্থ্য আছে। ডারউইনে তারা নিজেদের কাছে একটা প্রমাণ দিয়েছে। এবার ম্যাকেতে সেই প্রমাণের পুনরাবৃত্তি করার পালা।

আর সেটা হলে, ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাওয়া একটি ঐতিহাসিক জয় আর এক ম্যাচের গল্প থাকবে না। হয়ে উঠবে একটি সিরিজ জয়ের গল্প।

ডারউইনে গল্পটা শুরু হয়েছিল। ম্যাকাইতে কি তার দ্বিতীয় অধ্যায় লেখা হবে?

লেখক: ক্রিকইনফোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি

৯ শিক্ষকেই চলছে ১২০০ শিক্ষার্থীর স্কুল

১৪০ বছরেও নিভেনি শিক্ষার সেই প্রদীপ

দাকোপ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন ‘ব্যক্তিগত ক্লিনিক’, সরকারি সেবায় টাকার খেলা!

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির স্বামী মারা গেছেন

নোয়াখালীতে গায়ে হলুদে যাওয়ার পথে গুলি, আহত ৫

গুম প্রতিরোধে ভালো আইন আনার প্রতিশ্রুতি রাখেনি সরকার

পুলিশ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি: ডিআইজি জুলফিকার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দলীয়করণের বিরুদ্ধে ৫৭ বিশিষ্ট ব্যক্তির বিবৃতি

সেই বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিল বিসিসি

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন ৪ সদস্যের সাক্ষাৎ