আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। শেষ দিন বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট, অন্যদিকে আফগানিস্তানের দরকার ৩৪৭ রান। কাগজে-কলমে দুই দলেরই এই ম্যাচ জেতার সুযোগ রয়েছে। তবে পঞ্চম দিনে আফগানদের ৩৪৭ রান করাটা পাহাড় টপকানোর সমতুল্য চ্যালেঞ্জ হলেও টাইগারদের জন্য জয় তুলে নেয়াটা তুলনামূলকভাবে সহজই হওয়ার কথা।
মঙ্গলবার জায়েদ স্টেডিয়ামে গতদিনের ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ১ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান যোগ করে বাংলাদেশ। ৭ উইকেটে ৩৭২ রান নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ৩ উইকেটে ১৩২ রান করে দিন শেষ করেছে আফগানরা। ৩৫ রান করে অপরাজিত আছেন অটল, হাশমতউল্লাহ অপরাজিত আছেন ১৯ রানে।
তৃতীয় দিন বিকেলে ১১ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সকালটাও হতে পারত অনেকটা এমনই। তবে এদিন ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল বাংলাদেশের। দিনের তৃতীয় ওভারেই জীবন পান লিটন। কায়েস আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিলেও সেটা লুফে নিতে পারেননি আফগান ফিল্ডার। ২৬ রানের মাথায় আবারও জীবন পান লিটন। এবার কায়েস নিজেই ক্যাচ নিতে পারেননি। লিটন তৃতীয় জীবনটা পান আম্পায়ারের বদৌলতে। ব্যক্তিগত ৬৭ রানে বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে গেলেও আম্পায়ার আউট দেননি। আফগানদের রিভিউ না থাকায় বেঁচে যান লিটন।
৩ বার জীবন পেয়ে ১১৫ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন লিটন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি লিটনের সপ্তম সেঞ্চুরি। এই সেঞ্চুরির পথে ৯ হাজার আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলকেও পৌঁছান তিনি।
ফিফটির দেখা পেয়েছেন মিরাজও। তিনি অপরাজিত থাকেন ৯৭ বলে ৫২ রানে। সেঞ্চুরির পর ১০২ রানে সাজঘরের পথ ধরেন লিটন। আর তার বিদায়ের পরপরই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ভাঙে আফগানিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। টাইগার পেসার এবাদত হোসেনের করা বলে কটবিহাইন্ড হন আব্দুল মালিক। আউট হওয়ার আগে করেন ২ রান। আর মালিককে ফিরিয়ে টেস্টে নিজের ৫০তম উইকেট পূর্ণ করেন ইবাদত। পরের উইকেটে নামা শহীদুল্লাহকে ১৪ রানে আউট করেন হাসান মাহমুদ।
দ্রুত দুই উইকেট হারালেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে চাপ সামলে নেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ অটল ও অভিজ্ঞ রহমত শাহ। দেখেশুনেই খেলছিলেন এই দুই ব্যাটার। তবে এই জুটি দিন শেষ করতে পারেনি আফগানরা। বাংলাদেশি পেসার এবাদত হোসেনের করা বলে কটবিহাইন্ড হন রহমত। আউট হওয়ার আগে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ১২৪ বলে ৫১ রান।
রহমতের ক্যাচ ধরেই নতুন রেকর্ড গড়েন লিটন। প্রথম ইনিংসে চারটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিংয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত তিনটি ক্যাচ নিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে এক টেস্টে আটটি ডিসমিসাল নিয়ে বাংলাদেশের উইকেটকিপারদের মধ্যে নতুন রেকর্ড গড়েছেন লিটন। ২০০৪ সালে হারারে টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খালেদ মাসুদ পাইলটের সাত ডিসমিসালের রেকর্ড পেছনে ফেলেছেন তিনি।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান করে। জবাবে আফগানিস্তান থামে ২৪০ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৩৪৬ ও ৩৭২/৭ (সাদমান ১৩, তানজিদ ৩১, মুমিনুল ৭, শান্ত ৮২, মুশফিক ৮১, লিটন ১০২, হাসান ১, মিরাজ ৫২*; ইয়ামিন ২/৯৬, সেলিম ২/৬৯, জিয়া ২/৮৬, কায়েস ১/৭০)
আফগানিস্তান: ২৪০ ও ১৩২/৩ (মালিক ২, অটল ৩৫*, শহিদ ১৯, রহমত ৫১, হাশমত ১৯*; হাসান ১/৩১, ইবাদত ২/৩২)