নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে টানা ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেনের ব্যাটিং ঝড়ে ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
ইনিংসের শুরুটা ছিল বেশ ধীরগতির। প্রথম ১০.১ ওভারে ৩ উইকেটে বাংলাদেশের রান ছিল ৭৭। তবে এরপর ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দেন হৃদয় ও পারভেজ। তানজিদকে ফেরানোর পর সোধির ওই ওভারেই আসে ১৮ রান। এই জুটিতে মাত্র ২৮ বলে যোগ হয় ৫৭ রান। পারভেজ হোসেন ইমন ১৪ বলে ২৮ রান করে বিদায় নিলেও তার আগ্রাসী ব্যাটিং ম্যাচে গতি এনে দেয়।
এরপর শামীম হোসেন এসে হৃদয়ের সঙ্গে গড়েন আরও একটি ঝড়ো জুটি। দুজন মিলে মাত্র ২১ বলে যোগ করেন ৪৯ রান। শেষ পর্যন্ত তাওহিদ হৃদয় ২৭ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন, আর শামীম হোসেন ১৩ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
বাংলাদেশের জয়ের পেছনে সমীকরণ সহজের কাজটা আসলে করে দিয়েছেন শামীম। ১৭তম ওভারে ফিশারের এক বলে শামীমের ১৭ রান! শেষ বলেই মূলত টুইস্ট শুরু। ওই বলটা ওভারস্টেপ করেন ফিশার। প্যাডে ফুল ওভারপিচড বল পেয়ে শামীম সহজেই লেগ সাইডে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ফ্লিক করে চার রান আদায় করেন।
পরের বল অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেন্থ। খেলতে গিয়ে রিভার্স র্যাম্প শট নিতে ব্যর্থ হন শামীম। বল ব্যাটে না লাগলেও ওয়াইডের সংকেত দেন আম্পায়ার, ফলে ফ্রি হিট বহাল থাকে। এরপর ফিশারের একটি ভয়ংকর বীমার ডেলিভারিতে ব্যাট চালিয়ে দেন শামীম। বল তৃতীয় ম্যান অঞ্চলের ওপর দিয়ে চলে যায় বাউন্ডারিতে, সেই সঙ্গে বিমারের কারণে নো বল বহাল থাকে।
পরের বলে ওভার দ্য উইকেট থেকে ফুলার লেন্থ। শামীম আগেই প্রস্তুত ছিলেন। বল পেয়ে মিডউইকেটের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকান এই বাঁহাতি। কাও কর্নারের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া সেই ছক্কাতেই এক বলে পূর্ন হয় ফিশারের ১৭ রানের দুঃস্বপ্ন!
নিউজিল্যান্ডের হয়ে সোধি ৪০ রানে ২ উইকেট নেন। এর আগে নিউজিল্যান্ড ইনিংসে কেলি ও ক্লিভার–ক্লার্ক দুজনেই ৫১ রান করেন। তবে তাদের লড়াই শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। ফিফটিতে ম্যাচসেরা হয়েছেন তাওহিদ হৃদয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ইনিংস: ১৮ ওভারে ১৮৩/৬ (হৃদয় ৫১*, শামীম ৩১, পারভেজ ২৮; সোধি ৪০/২)
নিউজিল্যান্ড ইনিংস: ২০ ওভারে ১৮২/৬ (ক্লিভার ৫১, ক্লার্ক ৫১, কেলি ৩৯, ক্লার্কসন ২৭*; রিশাদ ২/৩২, মেহেদী ১/৩১, শরীফুল ১/৩৬, তানজিম ১/৪০)।
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: তাওহিদ হৃদয়