৮৮ রানে ৩ উইকেট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে তৃতীয় দিনে অসাধারণ কিছু করতে হতো বাংলাদশকে। ব্যাট হাতে সেই অসাধারণ ইনিংসটা খেললেন তাওহীদ হৃদয়। তবে যে পজিশন থেকে দলকে টেনে নিয়েছেন হৃদয়, সেটা আরও বেশি অবিশ্বাস্য। ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারানো দলকে নিয়ে গেছেন ৩৮৬ রান পর্যন্ত। নিজে করেছেন ডাবল সেঞ্চুরি। ২৪২ রানে অপরাজিত থেকে যখন মাঠ ছেড়েছেন হৃদয়, তখন ম্যাচে চালকের আসনে বাংলাদেশ।
সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ২৩ রানের লিড বাংলাদেশের। প্রথম ইনিংসে উইন্ডিজের করা ৩৫৬ রানের বিপরীতে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেমেছে ৩৮৬ রানে। ৩০ রান পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিনের শেষদিকে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তৃতীয় দিনের পুরো গল্পটাই হৃদয়ময়। ব্যক্তিগত ২৯ রান নিয়ে খেলতে নেমে এদিন ২৪২ রান করেছেন হৃদয়। তবে আউট হননি তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেই মাঠ ছেড়েছেন।
এদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের রেকর্ড গড়েছেন তাওহীদ হৃদয়। ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ২১৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিকুর রহিম। গত ৮ বছর ধরে এটাই ছিল টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এবার সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন হৃদয়।
২৪২ রানের ম্যাজিকাল ইনিংসে ২২টি চার ও ১১ ছক্কা মেরেছেন হৃদয়। কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরে রেখে ব্যক্তিগত মাইলফলকের পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেটেও নতুন ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
হৃদয়ের আগে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। মুশফিকের ব্যাট থেকে এসেছে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। তামিম ও সাকিব করেছেন একটি করে। এবার তাদের পাশে নিজের নাম লেখালেন হৃদয়। বাংলাদেশের ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরিটি এল তার ব্যাট থেকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের তালিকাতেও জায়গা করে নিল হৃদয়ের এই কীর্তি। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটিও এখন তার দখলে। এর আগে ২০২১ সালে মুমিনুল হকের করা ১১৫ রান ছিল সর্বোচ্চ।
এর আগে সকালে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ৭ ওভার নির্বিঘ্নে কাটিয়েছিল বাংলাদেশ। রানের গতিও ছিল ভালোই। দিনের প্রথম ৭ ওভারে ৩৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। ছন্দপতন ঘটে মুশফিকুর রহিমের বিদায়ে। জোমেল ওয়ারিক্যানের হাওয়ায় ভাসানো বলে ড্রাইভ খেলে শর্ট কাভারে সহজ ক্যাচ তুলে দেন অভিজ্ঞ মুশফিক। ৩৪ রান করে আউট হয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার।
মুশফিকের মতো একই ধরনের আউট হয়েছেন লিটন দাসও। ওয়ারিকানের ধীরগতির বলে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ড্রাইভ করতে গিয়ে কাভারে দাঁড়ানো কিংয়ের হাতে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ৮ রান করে ফেরেন লিটন।
লিটনের বিদায়ের পর মেহেদী মিরাজের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। দুজনেই বেশ সাবলীলভাবে ব্যাটিং করছিলেন। সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হন।
অবশ্য এই ক্যাচে জাস্টিন গ্রিভসের কৃতিত্ব অনেক বেশি। চেজের বলে মিরাজ আগেভাগেই প্যাডেল সুইপ খেলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন মিরাজ, কিন্তু বলটি মাটিতে রাখতে পারেননি। প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রিভস আগে থেকেই বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন। তিনি দ্রুত পাশের দিকে সরে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন।
লাঞ্চের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের পথের কাঁটা ছিলেন একমাত্র হৃদয়। তাকে আউট করতে পারলেই বড় একটা লিড নিয়ে প্রথম ইনিংস শেষ করতে পারতো। তবে একাই দাঁড়িয়ে গেলেন হৃদয়।
লাঞ্চের পর হৃদয়কে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল ইসলামও। তার ২২ রানের ইনিংসটি অবশ্য থেমেছে খুবই ক্লোজ একটি স্টাম্পিংয়ে। তবে তাইজুল আউট হওয়ার আগে অষ্টম উইকেটে ১১৭ রানের জুটি গড়েন তারা। অষ্টম উইকেটে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি।
চা বিরতির পর তাসকিন আহমেদকে নিয়ে নবম উইকেট জুটিতে আরও ৬৮ রান যোগ করেন হৃদয়। তাসকিন আউট হলে চোটে থাকা সাদমান আর মাঠে নামেননি।