বাংলাদেশের এই পারফরম্যান্স আমাকে দুটি কারণে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। এর আগে এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে দেখেছি। জয়ের অবস্থানে থেকেও যেন তারা বুঝতে পারত না, ম্যাচটি তাদের হাতের মুঠোয়। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেবার প্রায় অসম্ভব জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।
তাই এবার অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করার পর বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, সেটিই দেখার বিষয় ছিল। সেই জায়গাতেই তরুণ তানজিদ হাসান তামিম আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে। আমরা অনেক দিন ধরেই সাদা বলের ক্রিকেটে তার সামর্থ্য দেখছি। কিন্তু লাল বলের ক্রিকেটে এমন মানসিক দৃঢ়তা ও পরিপক্বতা দেখানো সত্যিই প্রশংসনীয়। মুমিনুল হকের সঙ্গে তার জুটিটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মুমিনুল লাল বলের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। দুজন মিলে যে ভিত গড়ে দিয়েছে, তাতে অস্ট্রেলিয়াকে একটা পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে; ১৯৮ রান করার পর বাংলাদেশকে ১২০ রানে অলআউট করে দেওয়া যাবে না।
নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম এবং মেহেদি হাসান মিরাজও অবদান রেখেছে। মিরাজ দলকে ভারসাম্য পারফরম্যান্স দিচ্ছে, যেটা একসময় সাকিব আল হাসান দিত। তবে নিচের সারির ব্যাটারদের অবদানও ভুললে চলবে না। তাসকিন, তাইজুল, হাসান মাহমুদ—সবার ছোট ছোট রানও বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ লিড নেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াকে সত্যিই চাপে ফেলে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা বলছি, এই অস্ট্রেলিয়া দলকে হারানো সম্ভব। তারা হয়তো ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় টেস্ট জিততে পারে, সেটি আমি জানি না। তবে বাংলাদেশ যে এবার সুযোগ তৈরি করেছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর ইংল্যান্ড নিশ্চয়ই এই ম্যাচ দেখে নিজেদের প্রশ্ন করবে—যে অস্ট্রেলিয়া দলকে হারানোর সুযোগ ছিল, তাদের বিপক্ষে আমরা অ্যাশেজ জিততে পারলাম না কেন? তবে আপাতত গল্পটা অস্ট্রেলিয়ার নয়। গল্পটা বাংলাদেশকে নিয়ে।
বাংলাদেশের সম্ভবত সবচেয়ে জরুরি ব্যাপারটা হচ্ছে কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ দল ফাস্ট বোলারদের দারুণ একটি ভিত্তি তৈরি করেছে। এখানে ইবাদত হোসেন ছিল, যে কি না নিউজিল্যান্ডে (মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট) জয়ের নায়ক ছিল। নাহিদ রানা নেই, তবু ইবাদত তাসকিন এবং যে প্লেয়ারকে আমি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি সেই হাসান মাহমুদ মিলে কাজটা করে দিয়েছে। শরিফুল (ইসলাম) আছে। বাংলাদেশের হাতে এখন পেস বোলারদের দারুণ একটি গ্রুপ রয়েছে। বাংলাদেশে একটা সময় ছিল যখন তারা চার স্পিনার নিয়ে খেলত। এখন তারা সেখান থেকে এসে পেসারদের সাহায্যে জিতছে, দুর্দান্ত ব্যাপার। দুই স্পিনার আছে তাইজুল (ইসলাম) এবং মেহেদি হাসান। ফলে বোলিংটা পরিপূর্ণ। ফাস্ট বোলিংয়ের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের যে টেম্পারমেন্ট দেখিয়েছে তাতে আমি মুগ্ধ হয়েছি।
তারা অনেক ইমোশনাল দল, ইমোশনাল দেশ। আশা করি তারা এই জয়কে বড় একটি প্রাপ্তি হিসেবে দেখবে এবং পরের ম্যাচের আগেই এটি ভুলে যাবে। এই জয়কে একটি বোর্ড হিসেবে ব্যবহার করুক, যেখান থেকে আরো ওপরে ওঠা যাবে। কেবল নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় পেয়েই যেন হারিয়ে না যেতে হয়। তোমাদের জন্য শুভকামনা বাংলাদেশ, আশা করছি এর ফলে সামনে আরো অনেক কিছু আসবে।
হার্শা ভোগলে
ভারতীয় ধারাভাষ্যকার