প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে খানিকটা তাড়াহুড়ো নিয়েই সংবাদ সম্মেলনে এলেন লিটন দাস। ম্যাচ খেলার ক্লান্তি থাকলেও বেশ হাসিখুশি মেজাজেই ছিলেন টাইগার অধিনায়ক। প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের আনন্দের পাশাপাশি এর পেছনে ছিল আরেকটি কারণ, প্রথমবার এশিয়ান গেমসে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়ার উচ্ছ্বাস।
প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলে খেললেও এবারই প্রথম এশিয়ান গেমসে খেলতে যাচ্ছেন লিটন। দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারের জন্যও এটিই প্রথম এশিয়ান গেমস। ফলে রোমাঞ্চটা সবার মধ্যেই কাজ করছে সেরকম। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লিটনের কণ্ঠে টের পাওয়া গেল সেই রোমাঞ্চটা।
লিটন বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলাটাই বড় জিনিস, সঙ্গে এ রকম জায়গায় খেলা এটাও একটা বড় জিনিস। সব সময় (অন্য টুর্নামেন্টে) জিতলে আপনি ট্রফি জিতবেন, কিন্তু এখানে সোনা জেতার বিষয় থাকে। এটা একটা বড় স্বপ্ন, আমার মনে হয় সব ক্রিকেটার রোমাঞ্চিত।’
এশিয়ান গেমসে মূল দলের খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা না থাকার কারণ- এই টুর্নামেন্টে আগে কখনোই মূল দল পাঠায়নি বাংলাদেশ। তবে এবার সবাই মূল দল পাঠানোয় বিসিবিও নিজেদের সেরা দলটা পাঠাচ্ছে গেমসে। স্বাভাবিকভাবেই এশিয়ান ক্রিকেটের আরেকটি বড় ইভেন্ট হতে যাচ্ছে এটি।
এশিয়ান গেমসে বরাবরই ক্রিকেটে পদক পাওয়ার লক্ষ্য থাকে বাংলাদেশের। গত আসরে ব্রোঞ্জ জিতেছিল টাইগাররা। এবার চাপটা আরও বেশি। এখন পর্যন্ত আসরে তেমন সাফল্যের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। নারী ক্রিকেটও কোনো পদক আনতে পারেনি। ফলে পুরুষ ক্রিকেট দলের ওপর চাপ থাকবে অন্তত একটি পদক জয়ের।
পদক জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘প্রত্যাশা তো সবাই করবে। আমিও তো প্রত্যাশা নিয়েই যাব। একটা জিনিস বলতে পারি যে আমাদের খেলোয়াড়দের অনেক আগ্রহ আছে এটা নিয়ে। কারণ, এই টুর্নামেন্টটা প্রতিবার আসে না। আপনি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বা জাতীয় দলে যেকোনো টুর্নামেন্ট এক বছর পরপরই পেয়ে যাবেন। কিন্তু এ খেলাটা খুব রেয়ার (বিরল) হয়। প্রতিটা খেলোয়াড় অনেক রোমাঞ্চিত আর বড় স্বপ্ন যেটা সেটাই পূরণ করার চেষ্টা করব।’
এবারের এশিয়ান গেমসে সবাই সেরা দল পাঠানোয় লড়াইটা 'দ্বিতীয় এশিয়া কাপ' এর রূপ পেয়েছে। তবে সবাই সেরা দল পাঠালেও লিটনদের লক্ষ্য স্বর্ণ জয়ের, 'প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। দুইটা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেললাম। টার্গেট একটাই, ফাইনাল খেলা, ফাইনাল জেতা।'
এবারের এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হবে জাপানের আইচি নাগোয়ার করোগি স্পোর্টস পার্কে। এখানকার পিচে খেলার অভিজ্ঞতা নেই কোনো দলেরই। তাই নারী দলের খেলার ভিডিও দেখেই কাজ চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন লিটন, 'টিভিতে দেখেছি, বিশেষ করে মেয়েদের ম্যাচ। ওগুলো দেখে যতটা বোঝার বুঝেছি কন্ডিশন সম্পর্কে।'
২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে থাকবে ক্রিকেট। অলিম্পিকে খেলার প্রসঙ্গে লিটন বলেন, 'অলিম্পিক কে না খেলতে চায়! এই ইভেন্টে যদি ভালো খেলি, অলিম্পিকে পৌঁছে যাব।
তবে বাংলাদেশের জন্য অলিম্পিকে খেলার সমীকরণটা বেশ জটিল। ৬ দলের মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া ও ইউরোপ মহাদেশ থেকে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দল সরাসরি খেলবে। সেদিক থেকে ভারতকে টপকে বাংলাদেশের সুযোগ পাওয়া প্রায় অসম্ভব। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে সেরা ১৫'র মধ্যে থাকলে সুযোগ পাবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রও। বাকি একটি দল আসবে বাছাইপর্ব থেকে।
বাছাইয়ে বাংলাদেশের খেলতে হতে পারে নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এই ৪ দলের মধ্য থেকে বাংলাদেশের সেরা হওয়া বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হলেও সুযোগ থাকবে। আর সেটা করতে পারলে অলিম্পিকে সরাসরি কোয়ালিফাই করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
বাংলাদেশের অলিম্পিক ইতিহাসে সরাসরি কোয়ালিফাই করে কোনো গেমসে খেলার ইতিহাস হাতেগোনা কয়েকটি। বেশিরভাগ আসরেই কোটায় সুযোগ পান বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। তবে এবার সরাসরি সুযোগ পেয়ে বাকিদের অনুপ্রাণিত করতে চান বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক লিটন।
তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য কোনো কিছু করতে পারা তো অনেক বড় বিষয়। আর সেটা যদি খেলার মাধ্যমে হয় কেন নয়? আমরা ক্রিকেটে আলাদা। কিন্তু আমাদের মাধ্যমে যদি কোনো গেমের উন্নতি হয় বা অন্য কোনো স্পোর্টসের যদি সুযোগ আসে আমরা এটা চেষ্টা করব।’
এশিয়ান গেমস খেলতে বৃহস্পতিবার দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় এশিয়ান গেমসে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। ২৮ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় ওই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি।