দীর্ঘ ২২ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও কূটনৈতিক-রাজনৈতিক নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে জিম্বাবুয়েতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড দল। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে আগামীতে দেশটিতে সফর করবে ইংলিশরা।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। এই টুর্নামেন্টে 'বি' গ্রুপে স্থান পেয়েছে ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে তাদের চতুর্থ ম্যাচটি নির্ধারিত হয়েছে জিম্বাবুয়ের হারারেতে। আগামী ২০২৭ সালের ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ওই ম্যাচে বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা একটি দলের মুখোমুখি হবে ইংলিশরা। এই গ্রুপে ইংল্যান্ডের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ড।
ইংল্যান্ড সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছিল ২০০৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে। এরপর দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে দীর্ঘ বিরতি নেমে আসে। মূলত ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছিল। রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে তৎকালীন অধিনায়ক নাসের হুসেইনের দল জিম্বাবুয়েতে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে ম্যাচটি জিম্বাবুয়ের পক্ষে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় এবং পয়েন্ট হারিয়ে ইংল্যান্ড টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে, অন্যদিকে সুপার সিক্সে জায়গা করে নেয় জিম্বাবুয়ে।
দীর্ঘ এই দূরত্বের পর আইসিসির কোনো ইভেন্টে দুই দল মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছে—২০০৭ সালের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেপটাউনে জিম্বাবুয়েকে ৫০ রানে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সুসম্পর্ক ফের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রেন্ট ব্রিজে একমাত্র টেস্ট খেলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সম্পর্কের নতুন সূচনা হয়, যা ছিল ২২ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো দ্বিপক্ষীয় ম্যাচ। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়েতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও অংশ নেয় ইংল্যান্ড দল, যেখানে তারা রানার্সআপ হয়েছিল।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের এই জিম্বাবুয়ে সফর দুই দেশের ক্রিকেট কূটনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।