হোম > খেলা > ক্রিকেট

সিলেটে ক্রিকেট সুখের খোঁজে বাংলাদেশ

দ্বিতীয় টেস্ট

স্পোর্টস রিপোর্টার

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এলে চারপাশ দেখার পর সবাই প্রথম যে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তা হলো ছবি তোলা! চারদিকের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে যে কারো মন ফুরফুরে হয়ে উঠবে। সিরিজে ১-০তে এগিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের মধ্যে এই আনন্দের ছোঁয়াটা একটু বেশিই দেখা গেছে। বাংলাদেশ দলের অনুশীলনের ধাঁচ দেখে একটা শব্দই জুতসই মনে হলো সিরিয়াসনেস!

সিলেটের সবুজ মাঠে মঙ্গলবার দুদলের অনুশীলনের ছবিটি ছিল দুরকম। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে হাসি-আনন্দের কমতি নেই। সবচেয়ে ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেল প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামিকে। কখনো শিষ্যদের সঙ্গে হাসিঠাট্টা, কখনো খুনসুটি। দুই হাত প্রসারিত করে তার দাঁড়ানোর ভঙ্গিটাও যেন আরেকটি জয়ের আগাম ঘোষণা!

অন্যদিকে বাংলাদেশের অনুশীলনে ছিল চাপের ছাপ। প্রত্যেকের চোখে-মুখে ব্যর্থতা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ। সিলেটে তাই বাংলাদেশের চাওয়া একটাইÑঢাকার দুঃখ ভুলে ক্রিকেটের সুখ খুঁজে পাওয়া।

সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলতে এখন সিলেটে দুদল। আগামী ৫ নভেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। সিরিজ শুরুর আগে আলোচনায় ছিল বাংলাদেশের ফেভারিট তকমা। কিন্তু মিরপুরের প্রথম টেস্টে সে হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আট উইকেটের বড় জয়ে সিরিজে এগিয়ে এখন অতিথিরা। সিলেটেও জিতে সিরিজ ২-০ করার স্বপ্ন দেখছে তারা। বাংলাদেশের সামনে অবশ্য সমীকরণ পরিষ্কার। জিততেই হবে। নইলে দেশের মাটিতে আরেকটি টেস্ট সিরিজ হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা সঙ্গী হবে।

ঢাকা টেস্টে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—কোনো বিভাগেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরি ছাড়া ব্যাটিংয়ে উল্লেখ করার মতো প্রাপ্তি ছিল না। ২৭২ রানে শেষ হয় প্রথম ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে তো আরো বিপর্যয়। মাত্র ১৪৫ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। নাঈম হাসান লোয়ার অর্ডারে হাফ সেঞ্চুরি না করলে পরিস্থিতি আরো বিব্রতকর হতে পারত। ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে।

সিলেটে ঘুরে দাঁড়াতে হলে সবার আগে ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে বাংলাদেশকে। টপ অর্ডারকে দিতে হবে শক্ত ভিত। ভালো শুরু পেয়েও উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার পুরোনো রোগ ছাড়তে হবে। মিডল অর্ডারকে নিতে হবে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব। শুধু উইকেটে টিকে থাকলেই হবে না, রানও তুলতে হবে। প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ার বিকল্প নেই। অন্তত ৪০০ রানের কাছাকাছি পুঁজি পেলে বোলাররাও লড়াই করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে বাড়াতে হবে মনোযোগ। ক্যাচ ফেলে কিংবা সহজ রান বিলিয়ে দিয়ে টেস্ট জেতা যায় না।

মুশফিকুর রহিমের ফেরা বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তি। ইনজুরি কাটিয়ে এই অভিজ্ঞ ব্যাটারের প্রত্যাবর্তন দলের ব্যাটিংয়ে বাড়তি শক্তি জোগাবে। তবে মুমিনুল হকের ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়া বড় ধাক্কা। তার অনুপস্থিতিতে মিডল অর্ডারে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে অন্যদের। অভজ্ঞতার ঘাটতি যেন পারফরম্যান্সে প্রভাব না ফেলেÑসেটাও নিশ্চিত করতে হবে।

মিরপুরে স্পিননির্ভর উইকেট বানিয়ে নিজেদের ফাঁদে নিজেরাই পড়েছিল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে স্পিনে ঘায়েল করার পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত উল্টো বাংলাদেশের জন্যই বিপদ ডেকে আনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা বরং বাংলাদেশের স্পিনারদের চেয়ে বেশি কার্যকর ছিলেন। সিলেটে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। উইকেট বুঝে বোলিং পরিকল্পনা সাজাতে হবে। স্পিনারদের পাশাপাশি পেসারদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু টার্নের অপেক্ষায় না থেকে লাইন-লেংথ ও নিয়ন্ত্রণ দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে হবে।

সিলেটের উইকেট নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন এ টেস্টে দলে আসা অমিত হাসান। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যা দেখছি, তাতে ঘাসের উইকেটই মনে হচ্ছে। এখনো টেস্ট শুরুর এক-দুদিন বাকি আছে, দেখা যাক। এখানে এনসিএলে শেষ দুই ম্যাচে ভিন্নরকমের উইকেট ছিল, এখন আরেকরকম। এক-দুদিন পর বোঝা যাবে উইকেট কেমন।’

সিলেট টেস্টে মুমিনুল হকের বদলি হিসেবে দলে এসেছেন অমিত। ম্যাচে তাই মুমিনুলের অভাবটা পূরণ করতে চান জানিয়ে অমিত বলেন, ‘মুমিনুল ভাই দুর্ভাগ্যজনকভাবে কনকাশনের কারণে দলে নেই। আমার যদি খেলার সুযোগ আসে, তাহলে চেষ্টা করব প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যেভাবে বা যে প্রক্রিয়ায় খেলে আসছি, সেভাবেই খেলার।’

প্রথম টেস্ট জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন আত্মবিশ্বাসী। তাদের চোখ সিরিজ জয়ের দিকে। স্যামির দলের অনুশীলনে সেই আত্মবিশ্বাসের ছাপও স্পষ্ট। বাংলাদেশের জন্য কাজটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। নিজেদের ভুল শুধরে সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারলেই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

ঢাকায় বাংলাদেশ হেরেছে আট উইকেটে। সেই হারের ক্ষত এখনো নিশ্চয়ই তাজা। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে একটি পরাজয়ই শেষ কথা নয়। সিলেটে নতুন পরীক্ষা, নতুন লড়াই। এবার আর অজুহাত নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেই জবাব দিতে হবে বাংলাদেশকে। ক্রিকেট সুখের খোঁজে সিলেটে এসেছে দল। সেই সুখ খুঁজে পেতে হলে ব্যাটে-বলে ফিরতে হবে পুরোনো বাংলাদেশকে।

ফাইনালের চেয়েও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে

শিবলি-আব্দুল্লাহর আক্ষেপের দিনে চট্টগ্রাম, রংপুর ও খুলনার জয়

এশিয়া কাপ খেলতে দেশ ছাড়ল যুবারা

অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেটারদের নিয়ে সিটি ক্লাবের টুর্নামেন্ট

সুমনা-সাথীকে ফিরিয়ে দল ঘোষণা বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

রবি বোলার হান্টে স্বীকৃতি পেলেন দেশের উদীয়মান বোলিং প্রতিভারা

আল আমিনের সেঞ্চুরি, পায়েলের ৫ উইকেট

বাংলাদেশ সিরিজের দল ঘোষণা দক্ষিণ আফ্রিকার

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের ‘সমীকরণ তত্ত্ব’