এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের কাছে হারের পর বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে মাঠের বাইরের নেতিবাচক আলোচনা ও চাপের দিকে ইঙ্গিত করেছেন দলের কোচ সারোয়ার ইমরান। তাঁর দাবি, টুর্নামেন্ট চলাকালীন কোচ ও অধিনায়ককে নিয়ে ‘রাখবে না’ ধরনের আলোচনা দলের খেলোয়াড়দের ওপর মানসিক প্রভাব ফেলাতেই এই ফলাফল।
পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইমরান বলেন, এশিয়া কাপ থেকেই দলের সমস্যার শুরু। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ক্লোজ ম্যাচ হারের পর থেকেই নানা ধরনের ‘নেগেটিভ খবর’ সামনে আসতে থাকে, যার প্রভাব এখনো দল বয়ে বেড়াচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
ইমরান বলেন, ‘নেগেটিভ খবর। এতে হয়তো টিমের ওপর, প্লেয়ারদের উপর প্রভাব পড়তে পারে। আমি শিওর না, তবে এটা একটা কারণ হতে পারে। নো এক্সকিউজ, বাট এটা একটা কারণ হতে পারে।’
দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। ইমরানের মতে, অন্য দলগুলো যেখানে অনায়াসে ছক্কা মারছে, সেখানে বাংলাদেশ সেই জায়গাতেও পিছিয়ে পড়েছে। তার ভাষ্য, ‘আপনি দেখেন, যেকোনো টিম ছয় মারছে ইজিলি, আমাদের টিম কিন্তু ছয় মারতেই পারতেছে না। যে আগে মারতো, এখন সে জায়গাতেও নেই।’
এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার সমাধান হিসেবে মানসিকভাবে দলকে ‘বুস্ট আপ’ করার কথা বলেছেন কোচ। তবে তাঁর ভাষ্যেই উঠে এসেছে, সেই কাজটিও এখন ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। ইমরানের কথা, ‘সমাধানটা আমার মনে হয় সাইকোলজিক্যাল। বুস্ট আপ করতে হবে, আমরা বুস্ট আপ করতে পারতেছি না, এই অবস্থা।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নে মাঠের বাইরের ‘নেতিবাচক’ বিষয়টি আরও খোলাসা করেন ইমরান। তাঁর দাবি, তাঁকে বা অন্য কাউকে দলে রাখা হবে না- এ ধরনের আলোচনা চলছিল। টুর্নামেন্ট চলাকালীন এ ধরনের আলোচনা দলে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি, ’ধরেন, আমার সম্বন্ধেই বলা হইতেছে, আমাকে রাখবে না, ওকে রাখবে না... এরকম। টুর্নামেন্ট চলাকালীন এটা হওয়া... আমরা একটা টুর্নামেন্ট খেলতেছি। এর মধ্যে হেড কোচ আর ক্যাপ্টেনদের আপনি সাইজ করে দিলেন, তো কীভাবে আপনি আশা করেন?’
অবশ্য দলের ভেতরে কোনো বড় ধরনের সমস্যা আছে বলে দাবি করেননি ইমরান। বন্ডিং নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘এমনি সব ঠিক আছে।’ তাঁর মতে, সমালোচনা মূলত ব্যক্তির ওপর প্রভাব ফেলে।