হোম > খেলা > ক্রিকেট

জেতার জেদে বদলে যাওয়া দল বাংলাদেশ

এম. এম. কায়সার, সিলেট থেকে

মোস্ট ভ্যালুয়েবল বাংলাদেশি প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ নাজমুল হোসেন শান্ত

জয় আসলে বদলে দেয় অনেক কিছু। বদলে দেয় আত্মবিশ্বাস, শরীরী ভাষা, একটি দলের ভেতরের বিশ্বাসের কাঠামোও। বাংলাদেশ টেস্ট দল এখন সেই বদলে যাওয়া এক দল। যারা শুধু ব্যাট-বলেই নয়, মানসিক শক্তি, আচরণ, প্রভাব বিস্তার—সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে শিখেছে। একটি ম্যাচের মধ্যে ছোট ছোট লড়াই জিতে কীভাবে পুরো যুদ্ধটা জিততে হয়, এই বাংলাদেশ দল সেই ধাপ পেরিয়ে এখন জয়ের মসৃণ পথে।

কাজটি সহজ নয়। কঠিন এই পথকে সহজ করার দৃঢ়তা দেখিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। লড়াইয়ের প্রতিটি ক্ষণে জেতার তাগিদ তৈরি করেছেন অধিনায়ক।

নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে এই বাংলাদেশ দল যেন নতুন এক মানচিত্র এঁকেছে টেস্ট ক্রিকেটে। পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে ২-০তে হারানোর পর দেশের মাটিতেও একই ফল। কিন্তু স্কোরলাইনের বাইরেও এ সিরিজের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল আধিপত্যের মানসিকতা। ২২ গজে লড়াইয়ের পাশাপাশি কথায়, শরীরী ভাষায়, সাইকোলজিক্যাল যুদ্ধে এগিয়ে থাকার প্রবল ইচ্ছাই এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।

আর তাই টেস্ট ক্রিকেটে খেলার ২৫ বছরে এসে বাংলাদেশ এখন হিসাব মেলাতে বসেছে এটাই টেস্ট ইতিহাসে আমাদের সেরা টেস্ট দল কি-না বা পাকিস্তানকে ঘরে-বাইরে টানা চার টেস্টে হারানোর এমন অর্জন বাংলাদেশের সেরা সাফল্য কি-না।

সিরিজ জয়ের ট্রফি সঙ্গে নিয়ে এসে অধিনায়ক শান্ত এর উত্তরে বললেন, ‘হ্যাঁ, মানছি এখন পর্যন্ত এই সাফল্য টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন। কারণ, এখানে শুধু জয় নেই—আছে প্রক্রিয়া, প্রস্তুতি আর দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা। দুই টেস্ট ম্যাচে ১০ দিন খেলতে পারা আমাদের জন্য গর্বের। আগে আমরা খুব একটা পাঁচদিন ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারতাম না। এখন পুরো দল হিসেবে সে জায়গায় উন্নতি হয়েছে।’

শান্তর কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই দলের ওয়ার্ক এথিকস। যারা খেলেছেন, যারা সুযোগ পাননি, কোচিং স্টাফ—সবাই মিলে তৈরি করেছেন এই সাফল্যের ভিত। ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়ের হার্ডওয়ার্ক আমাকে অধিনায়ক হিসেবে গর্বিত করে- বলছিলেন শান্ত।

পাকিস্তানের মতো একটি মানসম্পন্ন দলের বিপক্ষে এমন আধিপত্যপূর্ণ জয় যে কতটা মূল্যবান, সেটিও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন-‘ডমিনেট করে জিততে পারা অবশ্যই গর্বের। কিছু খেলোয়াড় ব্যর্থ হয়েছে, কিছু দলকে টেনে তুলেছে; কিন্তু সবার লক্ষ্য ছিল একটাই- ম্যাচ জেতা।’

২৫ বছরের টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশ অনেক উত্থান-পতন দেখেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের মতো ধারাবাহিকতা খুব কমই এসেছে। শেষ ১০ টেস্টে ছয় জয়, তিন হার এবং একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত- এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় বাংলাদেশ এখন কতটা পরিণত। র‌্যাংকিংয়েও উন্নতির স্পষ্ট ছাপ।

পাকিস্তানকে হারানোর এই অভ্যাস গড়ে ওঠার সময় আরেকটি কৌতূহলী প্রশ্নের খোঁজ করছে বাংলাদেশ- এটাই কি বাংলাদেশের সেরা টেস্ট দল?

শান্ত এ প্রশ্নের উত্তরে সাবধানী, কিন্তু আশাবাদী। ‘এখন পর্যন্ত এটলিস্ট আমাদের বেস্ট এচিভমেন্ট। কিন্তু সামনে আরো অনেক টেস্ট ম্যাচ আছে। আমাদের টেস্ট দলকে ধীরে ধীরে আরো বিল্ড করতে হবে। অনেক জায়গায় উন্নতির সুযোগ আছে।’

এ কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এই দলের ভবিষ্যৎ দর্শন। সাফল্যে ভেসে না গিয়ে আরো উন্নতির ক্ষুধা ধরে রাখা। দেশে ও দেশের বাইরে সমান ধারাবাহিকতা দেখানোর লক্ষ্য।

এই সিরিজ তাই শুধু একটি হোয়াইটওয়াশ নয়, এটি একটি মানসিক বিপ্লবের গল্প। একটি দলের নিজেদের বিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্প। আর সেই গল্পের কেন্দ্রে আছেন শান্ত—নাম যেমন, নেতৃত্বও তেমন স্থির, সংযত, অথচ প্রভাবশালী।

বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অনেক জয় আছে। কিন্তু এ জয়ের স্বাদ আলাদা। কারণ, এখানে বাংলাদেশ শুধু জেতেনি, বাংলাদেশ প্রভাব বিস্তার করেছে।

আর সেই প্রভাবের সবচেয়ে বড় নির্মাতা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার মানসিকতা, হারার আগে হেরে না বসার দৃঢ়তা, প্রতিটি পদক্ষেপে জেতার স্লোগানে সামনে এগিয়ে চলা।

এ দলের সদস্যরা যখন অবসরে যাবেন, বাসার ড্রইংরুমে ঝোলানো পুরো দলের ছবিটা দেখিয়ে গর্বের সুরে বলতে পারবেন- ‘দেখ, আমি এই দলের একজন ছিলাম!’

অধিনায়ক শান মাসুদের সময় শেষ!

মিশন সম্পন্ন, পাকিস্তান হোয়াইটওয়াশড

ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের ওস্তাদির সিরিজ

ব্যাটারদের প্রশংসায় আশরাফুল, ‘নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে’

বড় দলগুলোর বিপক্ষে আরও বেশি টেস্ট খেলার আশা শান্তর

অধিনায়কের পরামর্শ মেনেই ম্যাচ-সেরা লিটন

ভুলের মাশুল গুনেই সিরিজ হার পাকিস্তানের, বলছেন শান মাসুদ

প্রথমবার টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের সাতে বাংলাদেশ

সিরিজ সেরা মুশফিকের কণ্ঠে কঠোর পরিশ্রমের বার্তা

টেস্ট সিরিজ জয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন