এশিয়ান গেমসে এর আগে সব ইভেন্টেই ক্রিকেট বিভাগে পদক জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারই প্রথম খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। এবারই প্রথম গেমসে পূর্ণ শক্তির দল পাঠানোয় ক্রিকেটে পদক পাওয়ার প্রত্যাশাটাও বেশি ছিল। তবে হতাশ করেছেন লিটন দাসরা।
সেমিফাইনাল এবং ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে লিটনরা হেরেছেন পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার কাছে। দুই দলই তাদের পূর্ণশক্তির দল পাঠায়নি এবার। আর ম্যাচ দুটিতে বাংলাদেশ হেরেছেও বেশ হতশ্রী ভাবে। বিশেষ করে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে পাত্তাই পায়নি টাইগাররা। টাইগারদের এমন পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশ করেছেন সাবেক কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। এমন হতাহ্রী পারফরম্যান্সের পর অধিনায়ক লিটন দাসের যুক্তিকেও অযুহাত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শক্তিশালী দল নিয়েও ভালো খেলতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করে খালেদ মাহমুদ বলেন, 'সাইফ, তামিম, হৃদয়, লিটন তাদের কেউই রান করেনি। সুতরাং চারটা প্রথম সারির ব্যাটসম্যান রান না করলে ১৬৫ তাড়া করা খুবই কঠিন এই ফরম্যাটে। শুরুতেই উইকেট হারিয়ে ফেলার কারণে আর হয়নি। শ্রীলঙ্কার তো পূর্ণ শক্তির দল নয়। এটা একটু কষ্ট পেয়েছি যে, আমাদের তো অনেক শক্তিশালী দলই ছিল, সেখানে আমরা ভালো করিনি। এটা আমাদের খারাপ লাগারই ব্যাপার।'
গত কয়েক বছর ধরেই টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে ভরসাযোগ্য বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। তবে এশিয়ান গেমসে বল হাতে সবচেয়ে মলিন ছিলেন মুস্তাফিজই। টাইগার তারকার এমন পারফরম্যান্সকে 'অপ্রত্যাশিত' বলছেন খালেদ মাহমুদ।
তিনি বলেন, 'খুব অপ্রত্যাশিত যে মুস্তাফিজ ভালো করেনি। খুবই অবিশ্বাস্য যে মুস্তাফিজ এত রান দিয়েছে ওই রকম উইকেটে। এটা হতেই পারে আসলে।'
জাপানের কন্ডিশনে এবার স্পিনাররা বেশি সফল ছিলেন। মুস্তাফিজুর রহনান খারাপ করলেও অতিরিক্ত স্পিন অপশন হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেনকে ব্যবহার না করায় অধিনায়কের সমালোচনা চলছে বেশ। সাবেক কোচ খালেদ মাহমুদও এর পেছনে ব্যখ্যা খুঁজে পাচ্ছেন না।
তার মতে, 'আমি জানি না মোসাদ্দেক কেন বল করেনি। এই উইকেটে মোসাদ্দেক হয়তো ইউসফুল হতে পারত। মোসাদ্দেক তো এই ফরম্যাটে ভালো বল করে। ওইখানে মোসাদ্দেক এক ওভারও বল করেনি, সেটা দেখে আমি একটু আশ্চর্য হয়েছি আসলে।'
জাপানে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না করতে পেরে অনুশীলন না করতে পারাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন অধিনায়ক লিটন দাস। তবে এটাকে স্রেফ অযুহাত বলছেন খালেদ মাহমুদ।
তার মতে, 'আমি মনে করি এটা পুরোটাই অজুহাত। আমার মনে হয় যে আমাদের... আমরা ভালো খেলিনি, এটা স্বীকার করে নিতে হবে- আমরা ভালো খেলিনি। মানে 'আমি ম্যাচ খেলি নাই বলে পারিনি' বা 'ম্যাচে ছিলাম না বলে পারিনি'- এটা আমার মনে হয় না যুক্তিসঙ্গত কোনো কথা।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা নিউজিল্যান্ড বা ইংল্যান্ডের ঠাণ্ডা পরিস্থিতিতে খেলছি না, কিংবা অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে। এ রকম তো কিছু ছিল না। আমাদের দেশের মতোই একই ধরনের উইকেট ছিল বলে আমার মনে হয়।'