হাঁটুতে ফের অস্ত্রোপচার নেইমারের
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল চূড়ান্ত করে ফেলেছেন কার্লো আনচেলত্তি—কিছু দিন হলো এমন খবর শোনা যাচ্ছে। দলটা হয়েছে নাকি নেইমার জুনিয়রকে ছাড়াই। এমন উড়ো খবরই ছড়িয়ে পড়েছে গণমাধ্যমে। তবু হাল ছাড়েননি এ ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। বৈশ্বিক আসরে খেলার স্বপ্ন যাচ্ছেন। তার বর্তমান ক্লাবও চায় নেইমার ফিফার ফ্ল্যাগশিপ টুর্নামেন্টে খেলুক। কিন্তু এ মেগাস্টারের হাতে সময় খুবই কম।
ইউরোপিয়ান গণমাধ্যম বলছে, আগামী ১৮ মে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ ঘোষণা করবে কোচ আনচেলত্তি। এ হিসাবে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে নেইমার পাচ্ছেন ৪০ দিন। আর বিশ্বকাপের দল ঘোষণার শেষ সময় ৩০ মে। এই তারিখকে সময়সীমা ধরলে আর ফিফা সময় না বাড়ালে ব্রাজিল শিবির নেইমারের জন্য অপেক্ষায় থাকতে পারবে সব মিলিয়ে ৫২ দিন। এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা কম। কেননা, আগামী ২৫ মে ব্রাজিলের গ্রানজা কোমারিতে শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্প।
নেইমারের ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছা পূরণ করতে সহায়তা করতে চাচ্ছে ক্লাব সান্তোস। আগামী ১১ জুন মাঠে গড়াতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে নেইমারকে প্রায় সব ম্যাচে খেলাতে চায় ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি। তবে তার আগে নেইমারকে মাঠে ফেরানো প্রয়োজন। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি শর্ত বেঁধে দিয়েছেন, বিশ্বকাপ দলে ডাক পেতে হলে নেইমারকে শতভাগ ফিট থাকতে হবে।
জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরুর আগে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, কোপা দো ব্রাজিল ও কোপা সুদামেরিকানা মিলিয়ে সব মিলিয়ে ১৪টি ম্যাচ খেলবে সান্তোস। সান্তোস এর মধ্যে অন্তত ১৩টিতে নেইমারকে খেলাতে চায়। কারণ, আনচেলত্তির কথা অনুযায়ী, ফিট হয়ে উঠতে নেইমারকে মাঠে লড়াইয়ে নিয়মিত হতে হবে। যদিও আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ইকুয়েডরে দেপোর্তিভো কুয়েঙ্কার বিপক্ষে সুদামেরিকানার উদ্বোধনী ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হবে নেইমারকে।
কিন্তু ইনজুরি সমস্যা পিছু ছাড়ছে না নেইমারের। সর্বশেষ ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে নেইমারের হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কোপা সুদামেরিকানায় কুয়েঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এ নিয়ে সান্তোস কোচ কুকা বলেন, ‘সে অনুশীলনে ছিল না। অস্ত্রোপচারের পর কয়েক দিন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থেকে পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। এটি পুরোপুরি চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয় ছিল।’
সান্তোসের কোচ কুকা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে বেশ কিছু অনুশীলন সেশনে থাকতে পারেননি নেইমার। শরীরের পেশি ও কোষের পুনর্গঠন দ্রুততর করতে ‘পিআরপি’ (প্লাটিলেট-রিচ প্লাজমা) পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে তার শরীরে। এ প্রক্রিয়ায় রোগীর নিজের রক্ত ব্যবহার করেই দ্রুত সেরে ওঠার চিকিৎসা দেওয়া হয়। সঙ্গে মাঠের বাইরে থাকলেও ফিটনেস পুনরুদ্ধারে ছাড় দিচ্ছেন না নেইমার। দিনে দুই বেলা কঠোর অনুশীলন করছেন। সান্তোস কোচের ভাষ্যমতে, বাকি ম্যাচগুলোয় যেন দলের সেরা তারকাকে পূর্ণ শক্তিতে পাওয়া যায়, সে জন্যই দুই বেলা অনুশীলনের এই বিশেষ তোড়জোড়।