জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডের তৃতীয় দিনেই জয় তুলে নিয়েছে খুলনা বিভাগ। বরিশালকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়েছে মোহাম্মদ মিঠুনের দল। মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে আরেক ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তাইবুর রহমান। চট্টগ্রামে সেঞ্চুরি পেয়েছেন সাদিকুর রহমান এবং সিলেটে অপেক্ষায় আছেন মাহফিজুল রবিন।
ইনিংস ব্যবধানে জিতল খুলনা
খুলনায় দ্বিতীয় দিনেই ম্যাচের ফলাফল অনেকটা নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল। বরিশালের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ানোর। ব্যাট হাতে হাফিজুর রহমান সেই চেষ্টাটা করে গেলেও শেষ পর্যন্ত ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে পারেননি। বরিশালের বিপক্ষে তৃতীয় দিনেই ইনিংস ও ১৩৫ রানের জয় তুলে নিয়েছে খুলনা।
প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট পাওয়া সফর আলী এই ইনিংসে নিয়েছেন ৪ উইকেট। শেখ পারভেজ জীবন দুই ইনিংসেই ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে প্রথম ইনিংসে কালাম সিদ্দিকী অলিনের ৯২ এবং মোহাম্মদ মিথুনের ৮৯ রানে ভর করে ৪২৬ রান করেছিল খুলনা। দ্বিতীয় দিন ব্যাট করতে নেমে কেবল ৯৪ রানে অলআউট হয় বরিশাল। ফলোঅনে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংস্ব বরিশাল অলআউট হয় ১৯৭ রানে।
মিরপুরে তাইবুরের সেঞ্চুরি, ঢাকার কামব্যাক
মিরপুরে রংপুরের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে বেশ ব্যাকফুটে ছিল ঢাকা। তবে তাইবুর রহমানের সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত ৩ উইকেট তুলে নিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকরা।
আগের দিনের ৬ উইকেটে ১২০ রান নিয়ে দিন শুরু করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১২৬ রান যোগ করেন তাইবুর এবং সুমন খান। ১০৮ রানে থামেন তাইবুর। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তাইবুরের অষ্টম সেঞ্চুরি। এই সেঞ্চুরি গড়ার পথে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। মাত্র ৬ রানের জন্য প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি করার মিস করেছেন সুমন। ঢাকার ইনিংস থেমেছে ২৮৬ রানে।
রংপুরের হয়ে স্বাধীন ইসলাম, আবু হাশিম, ইকবাল হোসেন এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান দুটো করে উইকেট নিয়েছেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে তৃতীয় দিন শেষে কেবল ৬ ওভার ১ বল ব্যাটিং করতে পেরেছে রংপুর। তবে এই ৬ ওভারে অনেকটা প্রভাব বিস্তার করেছে ঢাকা। মাত্র ৬ রান তুলতে গিয়ে ৩ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করেছে রংপুর। তৃতীয় দিন শেষে ৬২ রানের লিড রংপুরের। প্রথম ইনিংসে ৩৪০ রান করেছিল তারা।
জয়ের পর সাদিকুরেরও সেঞ্চুরি
চট্টগ্রামে দ্বিতীয় দিন সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। তার ওপেনিং পার্টনার সাদিকুর রহমান অপরাজিত ছিলেন ৮৬ রানে। তৃতীয় দিনের শুরুতেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন সাদিক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি সাদিকের চতুর্থ সেঞ্চুরি।
বিনা উইকেটে ১৯০ রান নিয়ে ব্যাটিং করতে নেমে চট্টগ্রামের প্রথম ইনিংস থেমেছে ৩৯৩ রানে। সাদিক-জয়ের পর উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর। ৮৬ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। ৫০ রান করেছেন তাসামুল হক।
রাজশাহীর হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন এসএম মেহরব হাসান।
দিনের শেষভাগে ১৪ ওভার ব্যাটিং করে ২ উইকেটে ৪৬ রান করেছে রাজশাহী। তৃতীয় দিন শেষে তাদের লিড ১৭ রানের। প্রথম ইনিংসে ৩৬৪ রান করেছিল দলটি।
চালকের আসনে ময়মনসিংহ
সিলেটে তৃতীয় দিন শেষে ১৩২ রানের লিড নিয়েছে ময়মনসিংহ। দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরির থেকে ১৪ রান দূরে আছেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন।
আগের দিনের ৫ উইকেটে ২৩৬ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে এদিন সিলেট থেমেছে ৩২৭ রানে। দলীয় সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন আসাদুল্লাহ আল গালিব। ৫৯ রান করেন তোফায়েল আহমেদ।
ময়মনসিংহের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন আজিজুল হাকিম রনি।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ১৪৮ রান করে ময়মনসিংহ। দিনের শেষ ওভারে ৫৭ রান করে আউট হন খালিদ হাসান।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩১১ রান করেছিল ময়মনসিংহ।