বিশ্বকাপের শুরুটা হয়েছিল হতাশা দিয়ে। প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে হার, দ্বিতীয় ম্যাচে কষ্টার্জিত ড্র। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ইতিহাস গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাফানা বাফানারা।
বুধবার মেক্সিকোর গুয়াদালুপেতে অনুষ্ঠিত ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে। সেই চাপের ম্যাচেই তারা দেখিয়েছে দুর্দান্ত দৃঢ়তা। ম্যাচের ৬৩তম মিনিটে শেপাং মোরেমির নিখুঁত ক্রস থেকে থাপেলো মাসেকোর করা গোলই গড়ে দেয় পার্থক্য।
দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল ইতিহাসে এটি এক স্মরণীয় রাত। ১৯৯৮, ২০০২ এবং ২০১০ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনো গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি দলটি। অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সেই আক্ষেপ ঘুচল।
এবারের আসরে তাদের শুরুটা মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না। প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হারের পর অনেকেই তাদের সম্ভাবনা শেষ বলে ধরে নিয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে ১-১ ড্র করে আশা বাঁচিয়ে রাখে দক্ষিণ আফ্রিকা।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছিল। চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা এশিয়ার দলটি দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল। ফলে নকআউট নিশ্চিত করতে শেষ ম্যাচে অন্তত একটি পয়েন্ট প্রয়োজন ছিল তাদের।
কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার সংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সামনে ছন্দ খুঁজে পায়নি কোরিয়ানরা। শেষ পর্যন্ত মাসেকোর গোলেই স্বপ্নভঙ্গ হয় তায়েগুক ওয়ারিয়র্সদের।
এই জয়ে গ্রুপ ‘এ’-তে মেক্সিকোর পর দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গেলউডে নকআউট পর্বে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ কানাডার মুখোমুখি হবে তারা।
অন্যদিকে একসময় এশিয়ার প্রথম নকআউট নিশ্চিত করা দল হিসেবে ইতিহাস গড়া দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেল গ্রুপ পর্বেই। ২০০২ সালে সেমিফাইনালের স্বপ্নযাত্রা লেখা দলটি এবার আর শেষ ৩২-এর টিকিট পেল না।