হোম > খেলা > ফুটবল বিশ্বকাপ

ঘুম ভাঙা নরওয়ের সামনে ইংল্যান্ডের অগ্নিপরীক্ষা

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন কিছু ম্যাচ থাকে, যেগুলো শুধু সেমিফাইনালের টিকিট নির্ধারণ করে না, নির্ধারণ করে একটি প্রজন্মের গল্পও। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের কোয়ার্টার ফাইনাল ঠিক তেমনই এক লড়াই। একদিকে ইউরোপের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করা ইংল্যান্ড, অন্যদিকে ইতিহাস ভেঙে স্বপ্ন লিখতে থাকা নরওয়ে। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় শুরু হবে দুদলের মহারণ।

ইংল্যান্ডের সামনে এবারও বড় সুযোগ। তবে শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়টা সহজ ছিল না। স্বাগতিকদের গর্জন, উচ্চতার চ্যালেঞ্জ, ইনজুরি ও রক্ষণভাগের সংকট; সবকিছুর মাঝেও টমাস টুখেলের দল ৩-২ ব্যবধানে জিতে নিজেদের চরিত্রের নতুন পরিচয় দিয়েছে। জুড বেলিংহামের জোড়া গোল, হ্যারি কেইনের নির্ভুল পেনাল্টি এবং পুরো দলের শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, এই ইংল্যান্ড শুধু বল দখলে রেখে জিততে জানে না, প্রয়োজনে পাল্টা আক্রমণেও হতে পারে ভয়ংকর।

পরিসংখ্যানও বলছে, শেষ তিন ম্যাচেই অন্তত দুটি করে গোল করেছে থ্রি লায়ন্স। শেষ সাত ম্যাচে ছয়টি জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরো উঁচুতে নিয়ে গেছে। তবে একটি সতর্কবার্তাও আছে। বিশ্বকাপের নকআউটে সাম্প্রতিক ইতিহাস ইংল্যান্ডের পক্ষে নয়। তাদের শেষ ছয় বিদায়ের পাঁচটিই এসেছে ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। এই জায়গাতেই আশার আলো দেখছে নরওয়ে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেউ নরওয়েকে শিরোপা দাবিদার ভাবেনি। কিন্তু এখন পুরো ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে স্টালে সোলবাক্কেনের দলের দিকে। শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রে ছিলেন আর্লিং হালান্ড। দুটি গোলেই ছিল তার স্বাক্ষর। একটি শক্তিশালী হেড, অন্যটি অসম্ভব কোণ থেকে নিচের কর্নারে রাখা নিখুঁত শট। যোগ করা সময়ে নেইমারের পেনাল্টি শুধু ব্যবধান কমিয়েছে, নরওয়ের স্বপ্ন থামাতে পারেনি।

এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার হালান্ড। তার শট থেকে গোল করার হার ৩৯ শতাংশ। ১৯৮৬ সালের গ্যারি লিনেকারের পর বিশ্বকাপে অন্তত ১৫টি শট নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে হালান্ডই সেরা। তবে নরওয়ে শুধু হালান্ডের দল নয়। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড মাঝমাঠের শিল্পী, সান্দের বের্গে ভারসাম্যের প্রতীক। সোলবাক্কেনের ৪-৩-৩ কিংবা প্রয়োজনমতো ৪-২-৩-১ ফর্মেশন প্রতিপক্ষের জন্য তৈরি করছে নতুন ধাঁধা। আক্রমণভাগে হালান্ড ও আলেকজান্ডার সোরলথের যুগল উপস্থিতি প্রতিটি রক্ষণকে চাপে রাখছে, আর ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা পুরো দলকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

তবে ইতিহাস নরওয়ের পাশে নেই। বিশ্বকাপে কোনো ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে তারা কখনো জিততে পারেনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ চার দেখাতেও কোনো গোল করতে পারেনি তারা। দুদলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০১৪ সালে, তখন ওয়েইন রুনির একমাত্র গোলে জিতেছিল ইংল্যান্ড। এবার অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন। ব্রাজিলকে হারানোর পর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর নরওয়ে বিশ্বাস করছে, অসম্ভব বলে কিছু নেই।

দুদলই কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছে দল নির্বাচন নিয়ে। মেক্সিকোর বিপক্ষে লাল কার্ড দেখা জ্যারেল কোয়ানসাহকে পাচ্ছে না ইংল্যান্ড। রিস জেমস এখনো পুরোপুরি ফিট নন। অন্যদিকে জর্ডান হেন্ডারসন কবজির অস্ত্রোপচারের কারণে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন। তবে মার্ক গেহি ও ডেকলান রাইসের খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

নরওয়ের শিবিরে অবশ্য স্বস্তি বেশি। ব্রাজিল ম্যাচে চোট পাওয়া ডেভিড মোলার উলফ অনুশীলনে ফিরেছেন। ফলে সলবাক্কেনের হাতে প্রায় পূর্ণ শক্তির দল রয়েছে। বরং অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপকে শুরুর একাদশে রাখবেন কি না, সেটাই তার সবচেয়ে বড় চিন্তা।

মায়ামির এই লড়াই তাই শুধু ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে নয়। এটি জুড বেলিংহাম বনাম আর্লিং হালান্ড, ঐতিহ্য বনাম ক্ষুধা, প্রতিষ্ঠিত শক্তি বনাম নতুন স্বপ্নের সংঘর্ষ। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা জিতবে, নাকি ইতিহাসের পাতায় লেখা হবে নরওয়ের আরেকটি বিস্ময়—উত্তর মিলবে মায়ামির রাতেই।

মেসি ম্যাজিক বনাম সুইস দেয়াল

ব্যথা নিয়ে খেলতে চাওয়া কোর্তোয়ার কাছে ‘টিম ফার্স্ট’

'পক্ষপাতিত্ব' বিতর্ক উড়িয়ে দিলেন স্কালোনি

বীরের বেশে দেশে ফিরল মিসর

ডর্টমুন্ডের ‘সতীর্থ’ থেকে বিশ্বকাপে ‘প্রতিপক্ষ’

মেসিকে সমীহ করলেও আর্জেন্টিনার বিদায় চায় সুইজারল্যান্ড

আগে শট নেওয়া দল বেশি হারে!

টিভিতে আজকের খেলা (১১ জুলাই ২০২৬)

মোরিনোর জাদুতে সেমিফাইনালে স্পেন

সেমিফাইনালে উঠেছি- সামনের পথ আরো চ্যালেঞ্জের, আমরা প্রস্তুত