আটলান্টার গরম দুপুরে স্পেনের আক্রমণ যেন একের পর এক ঢেউ হয়ে আছড়ে পড়ছিল। পেদ্রি, ফেরান তোরেস, ওয়ারজাবাল, লাপোর্তে, ইয়ামাল—সবাই চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক মানুষ, যিনি যেন ইস্পাতের দেয়াল। তার নাম ভোজিনহা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার নামা কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক শুধু একটি ম্যাচ খেলেননি, লিখেছেন রূপকথা। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে তিনি রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলের নতুন নায়ক হয়ে উঠেছেন
স্পেন পুরো ম্যাচে ২৭টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। আর সেই ৭টি শটই রুখে দেন ভোজিনহা। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি নিজের জাল অক্ষত রাখেন এবং কেপ ভার্দেকে এনে দেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট।
বিশেষ করে প্রথমার্ধের শেষ দিকে তার সেভগুলো ছিল অবিশ্বাস্য। ফেরান তোরেস, আইমেরিক লাপোর্তে এবং মিকেল ওয়ারজাবালের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন তিনি।
স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচে ভোজিনহা একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছেন। স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার সময় তার বয়স ছিল ৪০ বছর ১২ দিন। এর মাধ্যমে তিনি পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে অভিষেক হওয়া ফুটবলার হয়ে যান।
তবে বিশ্বকাপে সর্বকালের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ড এখনও মিসরের কিংবদন্তি এসাম এল হাদারির ২০১৮ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে খেলতে নেমে তার বয়স ছিল ৪৫ বছর ১৬১ দিন। ভোজিনহা সেই রেকর্ড ভাঙেননি, তবে অভিষেকের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন।
বিশ্বকাপ অভিষেকে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড়ের রেকর্ড এতদিন ছিল কানাডার সাবেক অধিনায়ক আতিবা হুটচিনসনের। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে অভিষেকের সময় তার বয়স ছিল ৩৯ বছর ২৮৮ দিন। ভোজিনহা সেই রেকর্ড ভেঙেছেন।
স্পেনের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে গোল না খেয়ে ম্যাচ শেষ করে তিনি বিশ্বকাপ অভিষেকে সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলরক্ষক হিসেবে ক্লিন শিট রাখার কীর্তি গড়েন। বিশ্বকাপে এটিই ছিল কেপ ভার্দের প্রথম ম্যাচ। আর সেই ম্যাচেই স্পেনকে আটকে দিয়ে দেশের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট এনে দেন ভোজিনহা।
আটলান্টায় পুরো আলোটাই কেড়ে নেন ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক দেখিয়ে দিলেন, ফুটবল শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়; এটি বিশ্বাস, অপেক্ষা আর অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্পও। সেই গল্পের নতুন নাম—ভোজিনহার প্রাচীর।